কোচবিহারের এই মেলায় নেপাল-ভুটান-অসম-বাংলাদেশ থেকেও ভিড় জমান দর্শনার্থীরা
মহাসমারোহে শেষ হল কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা। একটানা ১৮ দিন চলার পর বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হল মেলার, একইসঙ্গে শেষ হল রাস উৎসবও। শেষদিনে মেলায় ভিড় জমিয়ে ছিলেন হাজার হাজার মানুষ। মেলায় উপচে পড়া ভিড় দেখে হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখেও। অন্যান্যবারের তুলনায় এবারের মেলায় কেনাকাটাও বেশি বলে জানা গেছে ব্যবসায়ীদের সূত্রে।
দুশো বছরের বেশি প্রাচীন এই রাস উৎসব কোচবিহারের প্রধান উৎসব। মদনমোহনের পুজো ও যজ্ঞের মধ্য দিয়েই শুরু হয় উত্তরপূর্ব ভারতের বৃহত্তম এই রাসমেলা। ১৮৮৯ সালে বর্তমান স্থানে তৈরি হয়েছিল মদনমোহন মন্দির। ১৮৯০ সালের ২১ মার্চ এই মন্দিরের উদ্বোধন করেছিলেন কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ। সেই হিসেবে কোচবিহারের এই রাসমেলা প্রায় ১৩০ বছরের পুরনো। তবে জনশ্রুতি, কোচবিহারের ভেটাগুড়িতে এই মেলা নাকি প্রথম শুরু করেছিলেন মহারাজা হরেন্দ্রনারায়ণ, ১৮১২ সালে। এই তথ্য সঠিক হলে মেলার বয়স দুশো বছরেরও বেশি।
বর্তমানে মদনমোহন মন্দিরের পরিচালনায় রয়েছে দেবোত্তর ট্রাস্ট। আর রাস মেলা পরিচালিত হয় কোচবিহারের পুরসভার মাধ্যমে। কোচবিহার রাজবংশের আদি দেবতা হলেন মদনমোহন। এখন রাজাদের কাল আর নেই। দেবোত্তর ট্রাস্টের সভাপতি হিসাবে জেলা শাসকেরাই পুজো দিয়ে রাসচক্র ঘুরিয়ে উৎসবের সূচনা করেন। স্থানীয় মানুষরা বিশ্বাস করেন, এই পুজোর উদ্দেশ্য জেলার মঙ্গলকামনা।
অন্যান্যবারের মতো এবারেও রাসমেলায় ভিড় জমিয়েছিলেন নেপাল, ভুটান ও অসম থেকে আসা অসংখ্য মানুষ। মেলায় রাসচক্র ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাটি আজো স্থায়ী। রাসচক্র তৈরি করেন একজন মুসলমান। লক্ষ্মীপুজোর দিন থেকে ২২ ফুট উঁচু চক্র তৈরির কাজ শুরু হয়। মেলায় জিলিপির বেশ আকর্ষণ। ভেটাগুড়ির জিলিপি আর বাবুহাটের জিলিপির মধ্যে লড়াই হয়। ঘানি ঘুরিয়ে তেল বের করার মেশিন নিয়েও লোকজন বসেন। হস্তশিল্পের অনেক স্টল বসে মেলায়। সেখানে মেখলিগঞ্জের মেখলি যেমন আছে তেমনই শিতলখুচির শীতল পাটিও পাওয়া যায়।
প্রচ্ছদের ছবি-ঋণ: প্রশান্ত দাস (কুচবিহার-দ্য হেরিটেজ টাউন ফেসবুক গ্রুপ থেকে সংগৃহীত)।