বাড়িতে খাঁচাবন্দি করা যাবে না কোনো দেশি পাখিকেই, কড়া নির্দেশ রাজ্যের

অগাস্টের শেষে প্রযোজ্য হবে এই সংক্রান্ত নিয়মাবলী

“আমার নীড়ের পাখি এবার উধাও হল আকাশ মাঝে/যায়নি কারও সন্ধানে সে, যায়নি যে সে কোনও কাজে” – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বার পোষা পাখিদের সত্যিই নীড় অর্থাৎ খাঁচা ছেড়ে উড়ে যাবার দিন এসে গেলো। কোনওরকমের দেশি পাখি-কে আর খাঁচায় ভরে রাখা যাবে না। পায়রা হোক, বা চন্দনা, টিয়া, তোতা, কাকাতুয়া, বদ্রী, মুনিয়া। ছেড়ে দিতে হবে সব পোষ্য পাখি-কেই। সম্প্রতি এমনই জানালেন রাজ্যের বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা-র অধিবেশন শেষে, নিজের অফিসঘরে বসে এই নির্দেশের কথা জানান তিনি। বনমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বন্য হোক বা টিয়া, কাকাতুয়ার মতো গৃহপালিত পাখি বাড়িতে পোষা যাবে না। খাঁচায় রাখা যাবে না। মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দিতে হবে। নিয়ম তৈরি হয়ে গেছে। অগাস্টের শেষেই হয়তো নিয়ম লাগু হয়ে যাবে। যে সমস্ত বাড়িতে পাখি আছে, তা ছেড়ে দিতে হবে।”

দেশি পাখির ক্ষেত্রে এই নিয়মাবলী লাগু হলেও কিছু ছাড় থাকবে বিদেশি পাখির ক্ষেত্রে। বিদেশি পাখি বাড়িতে রাখার জন্য রাজ্য বনদপ্তরের কাছ থেকে নিতে হবে অনুমতি। ফি বাবদ জমা রাখতে হবে পনেরো হাজার টাকা। তবে বিদেশি পাখি বাড়িতে রাখা গেলেও তাদের নিয়ে মেলা বা প্রদর্শনী করা যাবে না বলেই জানান জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হচ্ছে কি না, তা জানতে নজরদারি কমিটিও তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভারতবর্ষে বর্তমানে বলবৎ রয়েছে দ্য ওয়াইল্ড লাইফ (প্রোটেকশন) অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২২। যা দ্য ওয়াইল্ড লাইফ (প্রোটেকশন) অ্যাক্ট, ১৯৭২-এর সংশোধনী। তাতে বিশদে বলা আছে কোন কোন প্রাণী বন্যপ্রাণী হিসাবে পরিগণিত। তাদেরকে বাড়িতে পোষা যায় না। এছাড়াও, বিপন্ন তালিকাভুক্ত প্রাণী বা ভারতের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনের আওতায় পোষ্য তালিকাভুক্ত নয়, এমন প্রাণীদেরও বাড়িতে রাখা যায় না।

ভারতবর্ষে বর্তমানে বলবৎ রয়েছে দ্য ওয়াইল্ড লাইফ (প্রোটেকশন) অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২২। যা দ্য ওয়াইল্ড লাইফ (প্রোটেকশন) অ্যাক্ট, ১৯৭২-এর সংশোধনী। তাতে বিশদে বলা আছে কোন কোন প্রাণী বন্যপ্রাণী হিসাবে পরিগণিত। তাদেরকে বাড়িতে পোষা যায় না। এছাড়াও, বিপন্ন তালিকাভুক্ত প্রাণী বা ভারতের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনের আওতায় পোষ্য তালিকাভুক্ত নয়, এমন প্রাণীদেরও বাড়িতে রাখা যায় না। তেমন কয়েকটি পশুপাখি হল- রোজ রিংড প্যারাকিট, রেড মুনিয়া, জঙ্গল মুনিয়া, ইয়েলো-ক্রেস্টেড কাকাতুয়া, খরগোশ, কচ্ছপ ইত্যাদি। তারপরেও বিভিন্ন পশুপাখি নিয়ে অবৈধ ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন পাখি বা অন্যান্য পশুর চোরাচালানের খবর পাওয়া যায়। বিভিন্ন অঞ্চলে চলে পাখি কেনাবেচা, যার মধ্যে থাকে বেচাকেনায় নিষিদ্ধ পাখিও। সেই সমস্ত অবৈধ কাজকর্ম রোধ করার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিশেষ টাস্কফোর্স রয়েছে। এবার এই নিয়ম লাগু হলে সেই নজরদারি আরও গতি পাবে, আশা করা যায়। 

বাংলা তথা দেশে অনেক বাড়িতে বা দোকানে খাঁচায় পাখি রাখার চল রয়েছে। বহুক্ষেত্রেই, ঠিকমতো তাদের প্রতি যত্ন নেওয়া হয় না। এমনকি বয়স হয়ে গেলে যখন তারা শারীরিক ভাবে অক্ষম হয়ে পড়ে, তখন তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়, যেখানে তারা হয় দুর্ঘটনায় বা অন্য কোনও প্রাণীর আক্রমণে মারা পড়ে। আর একেবারেই মনস্ত্বাত্ত্বিক দিক থেকে আরেকটি কথা বলা যায়। কোনও পোষ্যের ক্ষেত্রে ভালোবাসা আর প্রভুত্বের মাঝখানের সীমারেখাটা বোধহয় খুব স্পষ্ট নয়। তাই পোষ্যের প্রভুভক্তি নিয়ে নানান উদাহরণ দেওয়া হয় সমাজে। কিন্তু পোষ্যের প্রভুভক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা কি আসলে প্রভুতারই বহিঃপ্রকাশ নয়? অনেকে হয়তো একথা মানবেন না। পাল্টা যুক্তি হিসাবে কেউ বলতেও পারেন যে, গৃহপালিত প্রাণীরা বাড়িতে থাকে বলেই সুরক্ষিত থাকে। এই বিষয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। 

যাই হোক, পাখির আসল স্থান আকাশে, খাঁচায় নয়। রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকা যেন আরেকবার মনে করিয়ে দিল সেই সহজ সত্যিকে।

Developed by DXDasia