এবার থেকে এক ক্লিকেই জানা যাবে রাজ্যের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সব তথ্য

খুলছে পশ্চিমবঙ্গ বায়োডাইভার্সিটি বোর্ডের নতুন পোর্টাল

শ্চিমবঙ্গ জীববৈচিত্র্যে এবং বাস্তুতন্ত্রের বিবিধতায় পরিপূর্ণ। এই রাজ্যে আছে অসংখ্য প্রজাতির গাছপালা ও পশুপাখি। কিন্তু প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আমরা খেয়াল রাখি না পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে। আমরা উপলব্ধি করি না পরিবেশ রক্ষায় বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব সম্বন্ধে। কিন্তু আমাদের জীবনে বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। পশুপাখিরা জীববৈচিত্রের অন্যতম প্রধান অংশ। পশুপাখিরা বাস্তুততন্ত্রের ভারসাম্য ও কার্যকারিতা বজায় রাখে। পরিবেশে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির উপস্থিতি সুস্থ এবং স্থিতিশীল বাস্তুতন্ত্রকে সুনিশ্চিত করে, যা যেকোনও রকম পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে।

মৌমাছি, প্রজাপতি, পাখি, বাদুড়রা উদ্ভিদের পরাগমিলনে সাহায্য করে। তারা এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পরাগ বয়ে আনে, যার ফলে উদ্ভিদের নিষেক ও প্রজনন সম্ভব হয়। ফল, বীজ তৈরি হওয়া, এবং সমগ্র উদ্ভিদ প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এই প্রক্রিয়াটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। পশুপাখিরা বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে পুষ্টিচক্রের ভারসাম্য বজায় রাখে। শিকার ও শিকারি রূপে খাদ্যশৃঙ্খল-এর ভারসাম্য রক্ষা করে। ধাঙর হিসাবে বর্জ্য পদার্থ পরিবেশ থেকে সাফ করে। আবার জৈব বস্তুর পচন ঘটিয়ে, তার থেকে পুষ্টিকর দ্রব্যগুলি মাটিতে ফিরিয়ে দেয়। সে কারণে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক। ফলে বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদনশীলতার সার্বিক বৃদ্ধি হয়। পশুপাখিদের মধ্যে শিকার-শিকারি সম্পর্ক পরিবেশে কোনও প্রজাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রনের জন্য খুবই জরুরি। শিকারি পশুরা তৃণভোজীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রন করে, ফলে উদ্ভিদ প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা পায়। এছাড়া, শিকারি প্রাণীর হাতে দুর্বল ও অসুস্থ প্রাণীর মৃত্যু হলে সেই প্রজাতির মধ্যে জিনবৈচিত্র্য রক্ষা পায়। 

পশ্চিমবঙ্গ বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড (West Bengal Biodiversity Board) হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবেশ দপ্তরের অধীনস্থ একটি সংস্থা, যা বায়োলজিকাল ডাইভার্সিটি অ্যাক্ট ২০০২ (Biological Diversity Act 2002) অনুসারে, ২০০৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তারিখে গঠিত হয়। এই সংস্থার মাধ্যমে বায়োলজিকাল ডাইভার্সিটি অ্যাক্ট ২০০২-এর নিয়মগুলি কার্যকর করা হয়ে থাকে। সংস্থার এই নতুন পোর্টাল থেকে একদিকে যেমন লাভবান হবে স্কুল ও কলেজের পড়ুয়ারা, তেমনই লাভবান হবে বনবিভাগ ও বিভিন্ন পৌরসংস্থা, পঞ্চায়েতগুলিও। পশ্চিমবঙ্গ বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বায়ো-ট্যুর বা জীবন-সফরের ব্যবস্থা করে, তাদের চারপাশের পরিবেশ ও জীবজগৎ চেনাতে। তারা সাধারন মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে আসছে বহুদিন ধরে। তার মধ্যে আছে সচেতনতার পাঠ, পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব সম্বন্ধে সচেতন করা, পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় হাতেকলমে পাঠ দেওয়া প্রভৃতি।

তবে রোজকার কাজের চাপে বেশিরভাগ মানুষের পক্ষেই চারপাশের পরিবেশ সম্বন্ধে এত তথ্য মনে রাখা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এখন থেকে সেটা আর সমস্যা থাকবে না। সৌজন্যে পশ্চিমবঙ্গ বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড। তাদের পোর্টালে গিয়ে এক ক্লিকেই জানা যাবে রাজ্যের সমস্ত প্রজাতির পশুপাখি ও উদ্ভিদ সম্বন্ধে। তাদের নতুন পোর্টালে থাকবে রাজ্যের সব প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ সম্পর্কিত সমস্ত ধরনের তথ্য। আমদের রাজ্যে কত প্রজাতির উদ্ভিদ আছে, এ রাজ্যের নদীনালা, খালবিল, পুকুরে কত রকমের মাছ জন্মায়, কত ধরনের পাখি ও সরীসৃপ দেখা যায়, জানা যাবে সব। জানা যাবে সব প্রজাতির পশুপাখি এবং উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম, স্থানীয় নাম, তাদের গড় আয়ু ইত্যাদি। 

পশ্চিমবঙ্গ বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড (West Bengal Biodiversity Board) হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবেশ দপ্তরের অধীনস্থ একটি সংস্থা, যা বায়োলজিকাল ডাইভার্সিটি অ্যাক্ট ২০০২ (Biological Diversity Act 2002) অনুসারে, ২০০৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তারিখে গঠিত হয়। এই সংস্থার মাধ্যমে বায়োলজিকাল ডাইভার্সিটি অ্যাক্ট ২০০২-এর নিয়মগুলি কার্যকর করা হয়ে থাকে। সংস্থার এই নতুন পোর্টাল থেকে একদিকে যেমন লাভবান হবে স্কুল ও কলেজের পড়ুয়ারা, তেমনই লাভবান হবে বনবিভাগ ও বিভিন্ন পৌরসংস্থা, পঞ্চায়েতগুলিও। পশ্চিমবঙ্গ বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বায়ো-ট্যুর বা জীবন-সফরের ব্যবস্থা করে, তাদের চারপাশের পরিবেশ ও জীবজগৎ চেনাতে। তারা সাধারন মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে আসছে বহুদিন ধরে। তার মধ্যে আছে সচেতনতার পাঠ, পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব সম্বন্ধে সচেতন করা, পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় হাতেকলমে পাঠ দেওয়া প্রভৃতি। এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা এই ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহন করেছে। গত ৬ মাস ধরে সংস্থার বিজ্ঞানীরা এই পোর্টালের জন্য সারা রাজ্য থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ করেছেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন সংস্থার চেয়ারপার্সন ড. হিমাদ্রি শেখর দেবনাথ। বিজ্ঞানীদের কাজ হল রাজ্যে নতুন প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের অনুসন্ধান করা। পূর্ব কলকাতার জলাভূমিতে বর্তমানে কত প্রজাতির অণুজীব আছে তা নিয়ে এখন কাজ করছেন এই সংস্থার বিজ্ঞানীরা। প্রথম পর্যায়ে ইতিমধ্যেই এইসব জলাভূমিতে কয়েকশো প্রজাতির নতুন অণুজীবের সন্ধান পাওয়া গেছে। যদি আর কোনও নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যায়, সেই সংক্রান্ত তথ্য পোর্টালে যোগ করে দেওয়া হবে। যে বিজ্ঞানী নতুন প্রজাতি খুঁজে পাবেন, তাঁর/তাঁদের নামও উল্লেখ করা থাকবে। পশ্চিমবঙ্গ বায়োডাইভার্সিটি বোর্ডের ওয়েবসাইটে (Website) এই নতুন পোর্টালের লিঙ্ক (Link) দেওয়া থাকবে। প্রসঙ্গত, কলকাতার জীববৈচিত্র সংক্ষেপে নিম্নরূপঃ

শহরে ১৩৮ রকমের প্রজাতি রয়েছে। ২৬ প্রজাতির ফলের গাছ, ৩৩ প্রজাতির ঔষধি গুণসম্পন্ন গাছ আছে। আছে ২৯০ প্রজাতির প্রাণী, ৭০ প্রজাতির প্রজাপতি, ৪৭ প্রজাতির মাছ, ৮৪ প্রজাতির পাখি, ২২ প্রজাতির সরীসৃপ।

 

বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সোমেন্দ্র মোহন ঘোষ-এর কথায়, “এই পোর্টালটি সাধারন মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী হবে। আমরা যেখানেই রবীন্দ্র সরোবর বা পূর্ব কলকাতার জলাভূমির মতন জীববৈচিত্রে পরিপূর্ণ স্থান খুঁজে পাবো, তাকে রক্ষা করতে হবে। সরকার এবং জাতীয় গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সেই সমস্ত স্থান থেকে অন্তত ১ কিমি দূরত্ব পর্যন্ত নিরাপদ অঞ্চল (Buffer Zone) রাখা জরুরি। আমাদের চারপাশের জঙ্গল, জলাভূমি, বাগানের আশেপাশে প্রতিনিয়ত প্রচুর নির্মানকাজ চলে, যা পরিবেশের ক্ষতি করে। জঙ্গল নিধনের কারণে বহু প্রজাতি হয় বিলুপ্ত হয়ে গেছে, নয়তো বিলুপ্ত হওয়ার পথে। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে, সেসব গাছে থাকা পাখিদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়, যা বাস্তুতন্ত্রকে সংকটের মুখে ফেলে। পরিবেশের সামগ্রিক ক্ষতির পিছনে দূষণও একটা বড়ো কারণ। শব্দ দূষণ, জল দূষণ, বায়ু দূষণ, এ সবই পরিবেশ ও জীবজগতের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর। পরিবেশে প্রতিনিয়ত প্লাস্টিকের পরিমাণ বাড়ছে। জল ও মাটিতে পড়ে থাকা পলিথিনের ব্যাগ ও প্লাস্টিকের অন্যান্য জিনিস নিজেদের অজান্তে খেয়ে বহু প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। প্রকৃতির পক্ষে যা যা ক্ষতিকর, সেসবের ব্যবহার অতি সত্বর বন্ধ করে, তার বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে বার করতে হবে। কারণ এইসমস্ত ক্ষতিকারক জিনিসের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে গত কয়েক দশকে উষ্ণায়ন প্রভূত পরিমাণে বেড়েছে। বেড়েছে বন্যা, খরা, সাইক্লোনের সংখ্যা, যা শুধু পশুপাখি বা উদ্ভিদজগতকেই নয়, বিপদে ফেলছে মানবসভ্যতাকেও। পশ্চিমবঙ্গ বায়োডাইভার্সিটি বোর্ডের নতুন পোর্টালের মাধ্যমে জনগণকে শিল্পজাত ক্ষতিকারক বর্জ্যের কুপ্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা যাবে। তাঁদেরকে বায়োডিগ্রেডেবল জিনিসপত্র (Biodegradable Products) ব্যবহারের দিকে প্রেরিত করা যাবে।”

পশ্চিমবঙ্গ বনদপ্তরের তরফে অজয় দাস জানান, “পশ্চিমবঙ্গের জীববৈচিত্র অতুলনীয়। একে রক্ষা করা জরুরি এবং সেজন্য সচেতনতা বাড়ানো অন্যতম কার্যকরী উপায়। অন্য অনেক পোর্টালকেও এই নতুন পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। যেমন- সুন্দরবন পোর্টাল, পশ্চিমবঙ্গ বন্যপ্রাণ পোর্টাল, বনদপ্তরের পোর্টাল ইত্যাদি। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আমাদের রাজ্যের ন্যাশনাল পার্ক, স্যাংচুয়ারি, কমিউনিটি রিসার্ভগুলি সম্পর্কে জানতে পারবেন। ফলে, জীববৈচিত্রের সুরক্ষার দিকটিও প্রাধান্য পাবে।”

Developed by DXDasia