বাংলাজুড়ে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ
পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত, পাহাড়ি দুর্গম, পশ্চাৎপদ ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া হলো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। রাজ্য স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে, সম্প্রতি স্বাস্থ্যভবনে ১১০টি স্বয়ংসম্পূর্ণ ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা যান (মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট) উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা যাচ্ছে, একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা যানে নার্স, টেকনিশিয়ান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ওষুধ নিয়ে উপস্থিত থাকবেন চিকিৎসকরা।
এর ফলে বিশেষ করে উপকৃত হবেন গর্ভবতী মায়েরা। জঙ্গলমহল, সুন্দরবন-সহ বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গর্ভবতী মহিলাদের জন্য আল্ট্রাসোনোগ্রাফি পরিষেবা দেবার জন্য ব্যবস্থা থাকবে। পরিষেবা চালাতে প্রতিমাসে ২কোটি ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করবে রাজ্য।
ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা যানগুলো উদ্বোধন করার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২১০টি যান প্রস্তুত রয়েছে। প্রথম দফায় ১১০টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট উদ্বোধন করা হলো। জেলায় জেলায় পৌঁছে যাবে সেগুলি। কবে, কখন, কোথায় যানগুলি যাবে, সবকিছু আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হবে সাধারণ মানুষকে। বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা, শারীরিক পরীক্ষা করা যাবে গাড়িগুলিতে। বিশেষ করে উপকৃত হবেন গর্ভবতী মায়েরা। জঙ্গলমহল, সুন্দরবন-সহ বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গর্ভবতী মহিলাদের জন্য আল্ট্রাসোনোগ্রাফি পরিষেবা দেবার জন্য ব্যবস্থা থাকবে। পরিষেবা চালাতে প্রতিমাসে ২কোটি ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করবে রাজ্য।
প্রসঙ্গত, বিগত বছরগুলোয় ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালেও নিখরচায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা হচ্ছে। ‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ টেলিমেডিসিন প্রকল্পে প্রায় ১০ হাজার কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন গড়ে ৯০ হাজার মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিনামূল্যে টেলি কনসাল্টেশন পরিষেবা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই উপকৃত হয়েছেন ৬ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ। তাছাড়াও ‘চোখের আলো’ প্রকল্পে বিনামূল্যে ২৬ লক্ষ ছানি অপারেশন করা হয়েছে এবং বয়স্ক মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ৩৪ লক্ষ বিনামূল্যে চশমা বিতরণ করা হয়েছে। ‘শিশুসাথী’ প্রকল্পে প্রায় ৬৪ হাজার বাচ্ছা ছেলেমেয়ের হার্ট বা অন্যান্য অপারেশন করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ১৪টি নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ, ৪২টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, ১৩ হাজার ৫০০টিরও বেশি সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৭৬টি সিসিইউ, ৩টি এইচডিইউ, ১৭টি মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব, ১৩টি মাদার্স ওয়েটিং হাট, ১১৭টি ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান, ১৫৮টি বিনামূল্যে রোগনির্ণয় কেন্দ্র তৈরি হয়েছে।