
রাজ্য সরকার ব্যয় করেছে ২০৯১ কোটি টাকা
খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের কাছে স্বাস্থ্য এখনও অনেকের কাছে বিলাসিতা। স্বাস্থ্য সংকটের এই বিষয়টি মাথায় রেখেই রাজ্যবাসীর একটা বড়ো অংশকে স্বাস্থ্য বিমার আওতায় আনতে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২০২৩-২০২৪ আর্থিক বর্ষে এই প্রকল্পে রাজ্য সরকার রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২০৯১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে জটিল অস্ত্রোপচার – স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় ৬ হাজার রোগী উপকৃত হয়েছেন। মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে বেশি সংখ্যক রোগী উপকৃত হয়েছেন।
শুধু জেলা নয় কলকাতার বহু বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে অনেক রোগীই চিকিৎসা এবং অপারেশন করিয়েছেন। এছাড়া জেলার নামী বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোমগুলিতেও চিকিৎসা করানোর সুযোগ পাওয়া গিয়েছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কথায়, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে কোনও নার্সিংহোম বা হাসপাতাল চিকিৎসা করতে অস্বীকার করলে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। রোগীর পরিবারের লোকজনরা সরাসরি ফোন করে অভিযোগ জানান। এছাড়া অনেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী-তে ফোন করেন। রোগীদের ফেরানো যাবে না বলে নার্সিংহোমগুলিকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এক সময় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে নানা অভিযোগ আসত। কিছু বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের নানা কৌশলে টাকা হাতানোর অভিযোগ পাওয়া যেত মাঝেমধ্যে। এখন সেই সুযোগ নেই। অনিয়ম বন্ধ করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন রোগী কখন ভর্তি হচ্ছে, কোন সময়ে ছুটি হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করতে হয়। এছাড়া অপারেশন হওয়ার আগে এবং পরের ছবিও পোর্টালে দিতে হয়। সেখানে রোগীদের ফোন নম্বর দেওয়া হয়। সন্দেহ হলে আধিকারিকরা সরাসরি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। সব কিছু যাচাই করার পর অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হয়। নার্সিং হোমগুলির বাইরে ‘স্বাস্থসাথী কার্ডের সুবিধা পাওয়া যায়’ লিখে বোর্ড ঝোলানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির কাছে আগে সরকারি হাসপাতালগুলিই একমাত্র ভরসার জায়গা ছিল। সেখানেই তাঁরা অপারেশন করাতেন। কিন্তু এখন তাঁরা নামী বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিং হোমগুলিতে অপারেশন করাচ্ছেন। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্যই তা সম্ভব হচ্ছে। চলতি আর্থিক বর্ষেও রোগীদের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা বরাদ্দ করা হবে। আগে এই প্রকল্পে টাকা পেতে নার্সিংহোম মালিকদের অপেক্ষা করতে হত। এখন কিছুদিনের মধ্যেই তাঁদের অ্যাকাউন্টে চলে আসে।
শুধু জেলা নয় কলকাতার বহু বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে অনেক রোগীই চিকিৎসা এবং অপারেশন করিয়েছেন। এছাড়া জেলার নামী বেসরকারি হাসপাতাল বা নাসিং হোমগুলিতেও চিকিৎসা করানোর সুযোগ পাওয়া গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাসেই ক্যান্সার চিকিৎসায় মানুষের খরচ কমাতে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সার্থকতাকে মান্যতা দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা চিকিৎসা সম্মেলন ব্রেস্ট ক্যান্সার কনফারেন্স ২০২৫ বা ‘দ্য ব্রেস্ট’। ক্যান্সার চিকিৎসা, মূলত স্তন ক্যান্সার রোগীদের কেমোথেরাপি সম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসাথীর এই সাফল্য। এই প্রকল্প ক্যান্সার রোগীদের পাশে থেকে ভরসার প্রকল্প হয়ে উঠেছে ধীরে ধীরে। গবেষণাপত্র পাঠ করতে অস্ট্রিয়ায় আয়োজিত এক সম্মেলনে ডাক পেয়েছিলেন বাংলার চিকিৎসক। গত ১৩ মার্চ বিশ্বের তাবড় চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে সেই গবেষণাপত্র পাঠ করা হয়েছে।

