পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষার উদ্যোগ, দেখুন ভিডিও
মানুষের আদি বন্ধু গাছ। ফুল, ফল, ছায়ায় রিদ্ধ মানবসভ্যতা। আজকের যান্ত্রিক যুগের আধিপত্যে যখন মানুষ প্রকৃতি থেকে দূরে সরছে দ্রুত, তখন যেন না-ছুঁতে পারা গাছেদের, শহরের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া প্রকৃতির ডাক আরও বেশি করে শোনা যাচ্ছে। প্রকৃতির হাত ধরেই যদি জীবনযুদ্ধে নামে মানুষ? যদি প্রকৃতির কাছ থেকেই নেয় জীবনের পাঠ? তেমনই যাপনে অভ্যস্ত একদল শিশু। যাদের দিনের শুরু থেকে শেষের প্রতিটি অভ্যাসে জড়িয়ে থাকে ‘আলো-গহিন’ গাছ। সৌজন্যে গাছ গ্রিন হ্যান্ডস সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট (Gach Green Hands Social Welfare Trust)। অংশুমান ঠাকুর এবং তাঁর দল এই কর্মকাণ্ডের উদ্যোক্তা। মুর্শিদাবাদ জেলার ফরাক্কার অন্তর্গত শামলাপুর নামের একটি আদিবাসী গ্রাম। শিশুদের তাঁরা জড়িয়ে নিয়েছেন গাছে, নিজেরাও জড়িয়ে পড়েছেন, নিজেদের শিকড় উদযাপন করছেন। সেই উদযাপনে যেমন আছে অনির্বাণ গাছের ইস্কুল, তেমনই আছে পোড়ামাটি, কাঁচামাটি, শোলা আর বিভিন্ন গাছের বীজ থেকে তৈরি করা রাখি, অর্থাৎ পরিবেশবান্ধব রাখি।
গতবছর থেকে এই কাজ শুরু করে সংস্থা, তখন অনেকেই নাকি সন্দেহ করেছিলেন। আদিবাসী মহিলারা আর স্কুলের শিশুরাও সংকোচ জানিয়েছিল যে, এইসব রাখি আদৌ বিক্রি হবে কি না! কিন্তু তাঁরা মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন। যাঁরা এই রাখি বানানোর সঙ্গে যুক্ত, তাঁরাও উৎসাহ পাচ্ছেন এখন। আজকাল সাধারণত ভাই-বোনের মধ্যেই রাখিবন্ধন দিবস-এর উদযাপন সীমিত হয়ে পড়েছে। কিন্তু বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে যখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উৎসবের সূচনা করেন, সেই উৎসবের উদ্দেশ্য ছিল জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে আত্মিক যোগাযোগ স্থাপন করা। গাছের ইস্কুলের এই উদ্যোগ শুধু মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগই নয়, বার্তা দিচ্ছে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির যোগসূত্রকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার।