প্রথম চন্দননগর বিধানসভা উৎসব শুরু হচ্ছে

এককালের ‘ফরাসডাঙা’য় নতুন উৎসবে মাতবে চন্দননগরবাসী

চন্দননগরের সমস্ত রাস্তা হয়তো আর এসে মেলে না স্ট্র্যান্ড রোডে। কিন্তু, ২-৬ ফেব্রুয়ারি সেন্ট মেরির মাঠে এসে জড়ো হবে গোটা চন্দনগরই। সুন্দর, ছিমছাম ঐতিহাসিক শহরটিতে উদযাপিত হতে চলেছে ‘চন্দননগর বিধানসভা উৎসব ২০১৯’। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনিতেই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য ও স্থাপত্য সংরক্ষণের ব্যাপারে খুবই উৎসাহী। তাঁরই অনুপ্রেরণায় এবং চন্দননগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের পর্যটন এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী শ্রী ইন্দ্রনীল সেনের উদ্যোগে ও উৎসাহে চন্দননগর চাক্ষুষ করতে চলেছে এই নতুন উৎসব। শহরের বিখ্যাত জগদ্ধাত্রী পুজোর থেকে বাহারে ও চরিত্রে যা অনেকখানিই আলাদা। এই উৎসব আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে চন্দননগর পৌর নিগম এবং ভদ্রেশ্বর পৌরসভা।

অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইতিহাস চন্দননগরের। শহর জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ফরাসি স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ কিছু নিদর্শন। চন্দননগরের এহেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরো বড়ো অবয়বে তুলে ধরাই এই উৎসবের প্রধান লক্ষ্য। নতুন প্রজন্মও যাতে এই ঐতিহ্য, সংস্কৃতির ব্যাপারে আরো সচেতন ও যত্নবান হয়ে ওঠে, তার জন্য এমনিতেই নানা উদ্যোগ নিচ্ছে চন্দননগর পৌরসভা। সেই উদ্যোগেরই অংশ চন্দননগর উৎসবের মঞ্চ থেকেই ‘চন্দননগর গৌরব’ সম্মাননা প্রদান। চন্দননগর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ২৭ জন কৃতী ব্যক্তিকে তাঁদের বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান করবে চন্দননগর পৌরসভা।

একসময় ফরাসিরা পা রেখেছিল গঙ্গাতীরবর্তী চন্দননগরে। তাদের হাত ধরেই সতেরো শতকের শেষদিক থেকে নতুন শহর এবং বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করে চন্দননগর। ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সুবেদারের থেকে এই অঞ্চলে ব্যবসা করার অনুমতিপত্র খরিদ করেছিল ফরাসিরা। কিন্তু, চন্দননগরের সমৃদ্ধির সূচনা ফরাসি গভর্নর দুপ্লের আমলেই। তখন চন্দননগর থেকে ইউরোপে রপ্তানি হত আফিম, রেশম, সুতির কাপড়, চাল এবং চিনি। দ্রুতই বাংলা-ইউরোপ বাণিজ্য মানচিত্রের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল গঙ্গাতীরের এই ‘ফরাসডাঙা’। পরে, গোটা ভারত ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হলেও চন্দননগর ফরাসিদের অধীনেই ছিল। ভারতের স্বাধীনতার পরে চন্দননগরে একটি গণভোটের আয়োজন হয়। ১৯৫২ সালে ভারতরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয় চন্দননগর। পশ্চিমবঙ্গে চন্দননগরের প্রবেশ আরো দু’বছর পরে, ১৯৫৪-তে। ফরাসি আমলের সেইসব গপ্পেরা এখনো কথা চালাচালি করে স্ট্র্যান্ড রোডে কিংবা পবিত্র হার্ট চার্চের গাম্ভীর্যের ভিতরে।

সেন্ট মেরির মাঠে ‘চন্দননগর উৎসব ২০১৯’-এ অবশ্য বোনা হবে এই সময়ের গপ্পদেরও। ২-৬ ফেব্রুয়ারি নানা রকমের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী, নাটক, গানে জমে উঠবে উৎসব প্রাঙ্গণ। ফরাসি ও বাংলা সংস্কৃতির যে অভিনব যুগলবন্দি চন্দননগরের বৈশিষ্ট্য— তাতে বুঁদ হবেন স্থানীয় মানুষ। চন্দননগরের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং আরো সমৃদ্ধ করে তুলতে অবদান রেখেছেন যাঁরা—সেই সমস্ত শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, অভিনেতা, গায়ক, শিল্পীদের সম্মান জানানো হবে উৎসবের মঞ্চ থেকে। চন্দনগরবাসী নন? তাতে কী? চাইলে আপনিও সামিল হতে পারেন এই উৎসবে। আপনাকে সাদর আমন্ত্রণ জানাতে প্রস্তুত চন্দননগরবাসী।
 

Developed by DXDasia