উঁকি দিন ভিতরকণিকায়

নদী, জঙ্গল ও সমুদ্রের মেলবন্ধন চাঁদবালিপুর ব্রিটিশ আমলের বন্দর শহর

আবহাওয়া দপ্তর যখন বলছে নিম্নচাপের ফলে বৃষ্টি চলবে সেই সময় চলুন ঘুরে আসি চাঁদবালি। ওড়িশার বৈতরণী নদীর তীরে ভদ্রক জেলায় অবস্থিত এটি। ব্রিটিশ আমলের এই বন্দর শহরটিতে মেলবন্ধন ঘটেছে নদী, জঙ্গল ও সমুদ্রের। তাই পুরীর বদলে এবার ঘুরে আসতে পারেন চাঁদবালি।

কী ভাবে যাবেন
ট্রেনে চলে যান ভদ্রক। সেখান থেকে গাড়িতে চাঁদবালি। দূরত্ব ১০৭ কিলোমিটার। বিমানেও যেতে পারেন। বিমানবন্দর থেকে ১২৫ কিলমিটার।
থাকবেন কোথায়
টুরিজম ডিপার্টমেন্টেরই এসি ও নন-এসি ঘর। খাবার সম্পূর্ণ ভারতীয়। কলকাতা থেকেও বুকিং করা যায়। এছাড়া কিছু আবাসন আছে, যেমন -দাঙ্গমালা, একাকুলা, গুপি এবং হাবিলখাটির ফরেস্ট লজ।

ব্রাহ্মণী, বৈতরণী ও ধামারা নদীর পলিমাটিতে তৈরি চাঁদবালি। এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা মাছ ধরা ও চাষবাস। গ্রামের নিরিবিলি পরিবেশে একদিন কাটিয়ে বেরিয়ে পড়ুন জঙ্গলের উদ্দ্যেশে। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ ম্যানগ্রোভ অরণ্য ভিতরকণিকা ন্যাশানাল পার্ক। চাঁদবালি থেকে যেতে হবে যন্ত্রচালিত ভুটভুটি করে।

বৈতরণী ও ব্রাহ্মণী নদীর মিলন স্থল থেকে খাড়ি পথেই এগিয়ে যেতে হবে ভিতরকণিকার দিকে। এই অঞ্চলটি ৬৭২ স্কোয়ার কিলোমিটার নিয়ে অবস্থিত। ১৯৯৮ সালে ১৬ সেপ্টেম্বর ১৪৫ স্কোয়ার অঞ্চলকে ভিতরকণিকা জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এই উদ্যানে প্রবেশ করতে হয় খোলা চেকপোস্ট দিয়ে।

সুন্দরবনে একটিই ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ পাওয়া যায় – সুন্দরী। কিন্তু ভিতরকণিকায় একটি নয়, পাওয়া যায় প্রায় ৬২ প্রজাতির ম্যানগ্রোভ। এই ম্যানগ্রোভ জঙ্গলই আটকে রাখে অরণ্যময় দ্বীপের মাটিকে। মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই বললেই চলে। সোলারে চলে ঘরে আলো ও পাখা। খাঁড়ির দুপাশে ছড়ানো ছিটানো সৌন্দর্য। একটি বাঁক মানেই নতুন দৃশ্য। গাছ ভর্তি পাখি। আর জলে কুমির। এখানে নোনা জলের কুমির নিয়ে গবেষণা ও প্রজনন করা হয়। জোয়ার ভাটার সময় জলে ভরে যায় দ্বীপটি। কিন্তু জল সরতেই দেখা মেলে কুমির, হরিণের দলের। গাছের মাথায় দেখা যায় পাখিদের ঝাঁক। দেশি-বিদেশি নানা পাখি।

পরিযায়ী পাখিদের প্রজনন সময় জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। হেঁটে যেতে হবে জঙ্গলের ভিতরে। বার্ড ওয়াচিং টাওয়ার থেকে দেখা মেলে ঈগল, কাঠঠোকরা, শঙ্খচিল, হর্নবিল, বার হেডেড গ্রিস, ওয়াডার ছাড়াও নানা ধরনের পাখির। বন দপ্তরের তৈরি জঙ্গল লাগোয়া ছোট চিড়িয়াখানায় দেখা মেলে সাদা কুমিরের। এখানে নোনা জলের কুমিরের প্রজনন করে ডিম ফুটিয়ে ছোট বাচ্চাদের রাখা হয়। জঙ্গলে দেখা পেয়ে যেতে পারেন বিশাল আকৃতির এশিয়ান কিং কোবরার। এছাড়া আছে বুনো শুয়োর, হায়না, পাইথন, গোসাপ, তিন প্রজাতির লিজার। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের একটি মিউজিয়াম আছে যেখানে দেখা যাবে বিভিন্ন ধরনে ফসিল এবং প্রাণীকে রাসায়নের সাহায্যে প্রিজার্ভ করা প্রাণী, হাড়গোড়।

এবার চলুন সমুদ্র সৈকত একাকুলা ও বারুনেই-এর দিকে। মাইপুরা ও কবিরমাতা নদী ও বঙ্গপ্রসাগরের মিলনস্থলে একাকুলা সৈকত। বাঁশের মাচা দিয়ে ঝাউগাছের বনের মধ্য দিয়ে পৌঁছে যান সমুদ্র সৈকতে। কাছেই নির্জন গহরিমাথা সৈকতের কালোবালির জন্য দেখা মেলে এক বিরল প্রজাতির কচ্ছপ অলিভের। এরা এখানে ডিম পেরে চলে যায় সমুদ্রে। এই সব ডিম রক্ষাবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত আছে অফিসারা। এই খানে একটি টুরিস্ট কটেজও আছে। আছে বিশ্রাম ও খাওয়ার ব্যবস্থা। সারাদিন ঘুরে ফিরে আসুন জঙ্গল গাছ ঘেরা ফরেস্ট হাউজগুলিতে। রাতে অন্ধকার নির্জন ফরেস্ট হাউসে বসে উপভোগ করুন নৈঃশব্দ্য।

 

Developed by DXDasia