কেশর চা, আদা চা, মশলা চা – মধ্য কলকাতার বিখ্যাত এই অরুণ টি স্টল

সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা, বারো ঘণ্টা ধরে তৈরি হয় সুস্বাদু চা এবং অন্যান্য খাবার

বাঙালির চা প্রীতি কে না জানে! তার উপর আবার হেমন্ত পেরিয়ে বঙ্গে ঢুকছে শীত। এই হেমন্ত-শীতের দিনগুলোয় দুধ, চিনি, এলাচ, আদা সহযোগে ভাঁড়ে চা… আহা! তুলনাহীন। তেমনই মধ্য কলকাতার ধন্য ধন্য অরুণদা’র চা। এখন আমরা চা দিবস পালন করি ১৫ ডিসেম্বর। কিন্তু এই দোকানের সামনে এলেই বুঝতে পারবেন শুধুমাত্র একটা দিনে জাস্ট কিচ্ছু এসে যায় না। সারাবছর তাই চা দিবস এবং চা পান। আর চায়ের সঙ্গে একটু টা না হলে চলে? টা বলতে এখানকার খাদ্যপ্রেমীরা বোঝেন গরম গরম কচুরি। 

কলকাতার বিখ্যাত অরুণ টি স্টল। সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা, টানা বারো ঘণ্টা ধরে তৈরি হয়ে যাচ্ছে সুস্বাদু চা, প্রাতরাশ থেকে সন্ধের খাবার। ৫৩/এফ, শেক্সপিয়র সরণিতে রমরমিয়ে চলছে অরুণদার টি স্টল। এখানে হিংকচুরি, কলম কচুরি, বাটার টোস্ট, কেশর চা, গোলাপজাম, জিলিপি। কচুরির সঙ্গে যে তরকারিটা আপনি পাবেন, তা অনেকটা আলুরদমের মতো। কালোজিরে এবং অন্যান্য মশলা দিয়ে বানানো এই রান্নায় ছোলাও পাওয়া যাবে। খাদ্যরসিকদের মতে এর স্বাদ অতুলনীয়। এক প্লেটে থাকবে ছয়টি কচুরি। কচুরি ৩০ টাকা প্লেট। জিলিপি ১২ টাকা। গোলাপজাম ১২ টাকা। কেশর চায়ের দাম ৪০ টাকা। কেশর চায়ের উপর আবার জাফরান ছড়িয়ে দেওয়া থাকে। স্বাদে কলকাতার সমস্ত চায়ের দোকানগুলিকে হার মানাবে।

হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট এবং শেক্সপিয়র সরণির ক্রসিংয়ের মুখে পড়বে এই ছোট্ট চায়ের দোকানটি। লোকে অবশ্য চেনে জেভিয়ার্স ব্যাক গেটের অরুণদার দোকান নামেই। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ক্লাস শুরু হয় সকাল ৬টা থেকে। তাই ভোরবেলা থেকেই এই চত্বরে ভিড় থাকে। অরুণদাও প্রত্যেকের কথা মাথায় রেখে ৫টা থেকে ধীরে ধীরে সব প্রস্তুত করে ৬টা নাগাদ দোকান খোলেন। বেলা বাড়লে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস পাড়ার ভিড় উপচে পড়ে এই দোকানে। এই দোকানের কচুরি দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি খাস্তা কচুরি, আরেকটি মিনি কচুরি। খেতে পারেন গরম গরম গুলাবজামুন। এই ছোট্ট দোকানের ভিতর বা বাইরে বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই খাদ্যরসিকেরা দোকানের এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন। দোকানের কর্মীরা আপনাকে ঠিক খুঁজে চা দিয়ে যাবেন হাতে হাতে। তবে এখানকার কেশর চা ছাড়াও বিখ্যাত আদা চা এবং মশলা চা।

অরুণদা’র ব্যবসায় ভাটা পড়েনি কোনোদিন। কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে অফিসকর্মী – প্রত্যেকেই একবার অরুণদা’র চায়ের দোকানের সামনে এসে থমকে যান। কলকাতার বুকে আজ যা যা টিকে আছে, তাদের দীর্ঘকাল বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমার, আপনার।

Developed by DXDasia