ইতিহাসের নতুন অধ্যায় খুলে দেয় জগজীবনপুর
নবম শতকের শুরুতে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর অংশে শাসন করতেন পাল সম্রাটরা। গাঙ্গেয় সমভূমি ছাড়িয়ে এযুগের পাকিস্তানের কিছু অংশ, উত্তর এবং উত্তর-পূর্ব ভারত, নেপাল এবং বাংলাদেশ জুড়ে তাঁদের সাম্রাজ্য ছিল। পালদের গৌরব শীর্ষে পৌঁছয় ধর্মপাল এবং দেবপালের আমলে। এছাড়াও মহীপাল, নয়পাল, বিগ্রহপাল, রামপালের মতো কৃতি শাসকদের নাম পাওয়া যায় ইতিহাসে। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বিখ্যাত ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘ’ উপন্যাসে রয়েছে নয়পালের পুত্র তৃতীয় বিগ্রহপাল এবং রাজা কর্ণের মেয়ে যৌবনশ্রীর প্রেমকাহিনি।

পাল সম্রাট মহেন্দ্রপালের উল্লেখ সেরকম পাওয়া যায় না ইতিহাসে। ১৯৮৭ সালে হঠাৎ করে তাঁর অস্তিত্ব গবেষকদের সামনে আসে। তিনি ছিলেন কিংবদন্তি সম্রাট দেবপালের পুত্র এবং উত্তরাধিকারী। তাঁর সম্পর্কে খোঁজ পাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে যোগ হয় আরেকটি প্রত্নক্ষেত্র তথা দারুণ এক ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন। উইকএন্ডে ঘুরে আসতে পারেন সহজেই।


মালদা জেলার জগজীবনপুর গ্রাম – ইংলিশবাজার থেকে ৪১ কিলোমিটার এবং কলকাতা থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে। প্রত্নবিদদের উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ ছিল একটি তাম্রফলক এবং প্রাচীন এক বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ। যার নাম নন্দদীর্ঘিকা উদরঙ্গ মহাবিহার। গবেষকদের মতে খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দী নাগাদ এই মহাবিহার হয়ে উঠেছিল বৌদ্ধধর্মের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাম্রফলকে থেকে জানা যায়, ৮৫৪ খ্রিস্টাব্দের ২ বৈশাখ মহাসেনাপতি বজ্রদেবের অনুরোধে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের এই জমি দান করএন সম্রাট মহেন্দ্রপাল।


১৯৮৭ সালের ১৩ মার্চ তাম্রফলকটি খুঁজে পান গ্রামবাসীরা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডিরেকটরেট অফ আর্কিওলজি অ্যান্ড মিউজিয়ামসের একটি দল সুধীন দে’র নেতৃত্বে তুলাভিটা ঢিবিতে খনন শুরু করেন ১৯৯২ সালে। ১৯৯৫-৯৬ নাগাদ অমল রায়ের নেতৃত্বে আরও ব্যাপকভাবে খননকার্য চলে। ইটের তৈরি বিশাল এক বৌদ্ধবিহার ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে। স্তূপ, ভিক্ষুদের ঘর, বারান্দা শৌচালয়, প্রবেশদ্বার – সব মিলিয়ে বিশাল মঠ। পাওয়া যায় বেশ কিছু পোড়ামাটির ফলক, শীলমোহর, খোদাই করা মাটির পাত্র, পুঁতি এবং দৈনন্দিন জীবনের আরও নানা জিনিস।

গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রচুর ঢিবি। ৫ মিটার (১৫ ফুট) উঁচু তুলাভিটা বা শলই ডাঙা ৯ হাজার বর্গমিটারের বেশি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এছাড়াও দেখতে পাবেন আখরি ডাঙা, নিম ডাঙা, নন্দগড় এবং রাজার মেয়ের ঢিপি। আর রয়েছে নন্দদিঘি নামের এক জলাশয়। মহেন্দ্রপালের তাম্রলিপিতে যাকে ‘নন্দদীর্ঘিকা’ বলা হয়েছে।

খননকার্য এখনও শেষ হয়নি। মাটিত তলায় ৬টি স্তর ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। যার মধ্যে রয়েছে দুটি পর্যায়ের নির্মাণ। জগজীবনপুরে গেলে আপনি নিজের চোখেই দেখতে পাবেন একের পর এক স্তর। খুঁড়ে বের করা বৌদ্ধবিহারের অংশও চোখে পড়বে।
জগজীবনপুর থেকে উদ্ধার হওয়া বেশিরভাগ সামগ্রী রাখা আছে মালদা জাদুঘর এবং কলকাতার বেহালায় রাজ্য প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে। বেড়াতে গেলে মালদা জাদুঘরে অবশ্যই যাবেন। গৌড় এবং পান্ডুয়া ঘুরে আসতেও ভুলবেন না। বাংলার গৌরময় ইতিহাস খুঁজে পাবেন এইসব জায়গায়।

বন্ধুবান্ধব কিংবা পরিবার নিয়ে কয়েকদিন আরামের থাকতে পারেন পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আম্রপালি ট্যুরিজম প্রপার্টিতে (পূর্বতন মালদা ট্যুরিস্ট লজ)। বুকিং এবং অন্যান্য তথ্যের জন্য +91 97330 08792 নম্বরে ফোন করুন অথবা tourismmalda@gmail.com-তে মেল করুন। অথবা যোগাযোগ করুন –
West Bengal Tourism Development Corporation Ltd
DG Block, Sector-II, Salt Lake
Kolkata 700091
Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
Website: https://www.wbtdcl.com/
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, mdwbtdc@gmail.com, dgmrwbtdc@gmail.com
ছবিঋণ : Jagjibanpur Tulavita Facbook Page
