ব্রকোলি চাষে হাসি ফুটছে বাংলার চাষিদের মুখে, আশা দেখছেন কৃষি বিজ্ঞানীরাও

খাদ্যরসিক বাঙালিকে স্বাস্থ্যসচেতন করছে বিদেশের ব্রকোলি

ছরের শেষে শীতের সবজির অনুপ্রবেশ ঘটতেই রঙিন হয়ে ওঠে বাংলার সবজিবাজার। বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে খবারের থালা সেজে ওঠে গাজর, বিনস্, ফুলকপি, বিট আর ব্রকোলিতে। ব্রকোলি অনেকটা ফুলকপির মতো হলেও তা অনেক বেশি পুষ্টিকর। স্বাদে অসামান্য না হলেও, ব্রকোলি হল ভিটামিন সি এবং কে-র উৎসস্থল। যা আমাদের হৃদপিণ্ড ও চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতিসাধন করে। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং হরমোনাল ব্যালেন্সও স্থাপন করে। ব্রকোলির বিজ্ঞানসম্মত নাম ব্রাসিকা ওলেরাসিয়া, দেখতে খানিকটা ফুলকপির মতো হলেও এর রং ঘন সবুজ। ব্রকোলি ফুলকপির থেকে আলাদা হলেও, একই প্রজাতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

সম্প্রতি বাংলার মাটিতে ব্রকোলির চাষ অতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা সকলেরই নজরে এসেছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে, বাংলার চাষিরা চিরাচরিত ফুলকপির চাষ ছেড়ে মন দিয়েছে ব্রকোলি চাষে। আর এই আচমকা পরিবর্তনের পিছনে কারণ হিসেবে রয়েছে বাজারের চাহিদা বৃদ্ধি। আজ থেকে বছর তিনেক আগে পর্যন্ত, প্রতিদিন কলকাতা জুড়ে মাত্র দেড় টন ব্রকোলির প্রয়োজন হত। সে সময় মূলত বাংলার উত্তরপূর্বাঞ্চল এবং কর্ণাটক থেকে আমদানি করা হত ব্রকোলি। তবে সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ টনে।

আজ থেকে বছর তিনেক আগে পর্যন্ত, প্রতিদিন কলকাতা জুড়ে মাত্র দেড় টন ব্রকোলির প্রয়োজন হত। সে সময় মূলত বাংলার উত্তরপূর্বাঞ্চল এবং কর্ণাটক থেকে আমদানি করা হত ব্রকোলি। তবে সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ টনে।

এর আগে অবধি, নামী দামী পাঁচটারা হোটেলেই কেবল ব্রকোলির ব্যবহার হত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসচেতন মধ্যবিত্ত ঘরের প্রাত্যহিক আহারাদির তালিকাতেও জুড়ে গেছে ব্রকোলির নাম। ক্রিমযুক্ত ব্রকোলির স্যুপ হোক, কিংবা মাখন দিয়ে সৌতে করা ব্রকোলির টুকরো, বাঙালি যথেষ্ট ভালোবাসার সঙ্গে আপন করে নিয়েছে এই বিদেশি সবজিটিকে। কলকাতায় যে ব্রকোলি আসে, তার অধিকাংশ আনা হয় দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নিকটবর্তী ভাঙড় ১ ও ২ থেকে। রাজ্য কৃষি দপ্তরের সমীক্ষা অনুসারে, ১৬০০ হেক্টর জমি জুড়ে চলে ব্রকোলি চাষ, যেখানে কিনা ফুলকপি চাষের জন্য বরাদ্দ জমির পরিমাণ ১৫৮৮ হেক্টর।

মরসুমের প্রথম ফুলকপিটির দাম যেখানে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে, সেখানে শীত চলে গেলে, তা কমে দাঁড়ায় ৫ টাকা প্রতি পিসে। অন্যদিকে, মরসুমে ব্রকোলির দাম হয় ৪০ টাকার কাছাকাছি। আর বছরের কোনো সময়েই তা ২০ টাকার নিচে নামে না। সমীক্ষা বলছে, বাংলার কৃষকেরা বর্তমানে ৯-১০ মেট্রিক টন ব্রকোলি উৎপাদন করছে প্রতিদিন। উৎপাদিত ফসলের খানিকটা রপ্তানি হয় বিদেশে, মূলত থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশে। লাভের আশায় বেশিরভাগ চাষিরাই ঝুঁকছেন ব্রকোলি চাষের দিকে।

তবে লাভের সম্ভাবনা অনেকখানি হলেও, ব্রকোলি চাষের ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু অন্তরায়। ফুলকপির চাইতে ব্রকোলির চাষ অনেক বেশি সাবধানতা ও ধৈর্যের কাজ। তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা আশা রাখছেন। কেবলমাত্র কৃষকেরাই নয়, সবুজায়নের এই উদ্যোগ খাদ্যরসিক বাঙালিকে খানিক স্বাস্থ্য সচেতন হতে সাহায্য করবে।

Developed by DXDasia