সিনেমার পর্দায় হাজির ‘ব্যোমকেশ সমগ্র’

আমাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যোমকেশেরও বয়স বাড়ছে। বাংলা সিনেমায় এবার বৃদ্ধ ব্যোমকেশ

কবীর সুমন তাঁর গানে লিখেছেন, “তিনি বৃদ্ধ হলেন, বৃদ্ধ হলেন, বনস্পতির ছায়া দিলেন…”। এই বৃদ্ধ দশায় অতীতের স্বজনেরা ছায়া দেন, আমরা একটু জিরিয়ে নিই। কিংবা গল্প শুনে ফিরে যাই পঞ্চাশ বা ষাট বছর আগের সভ্যতায়। সুমনের এই লাইনগুলো হঠাৎ করে মাথায় এল। মনে হল ব্যোমকেশ বক্সীকে যদি এমন ভাবে ভাবা যায়! ব্যাপারটা অদ্ভুত ঠিকই; কিন্তু এই অদ্ভুত ব্যাপারেই অসাধ্যসাধন করেছেন টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নতুন পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য। বাংলা চলচ্চিত্রে হাজির করতে চলেছেন বৃদ্ধ ব্যোমকেশকে। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল এমন গল্প আমরা আগে কোনোদিন শুনিনি বা শরদিন্দুবাবুও লিখে যাননি। দেবালয় ভট্টাচার্যর দ্বিতীয় ছবি ‘বিদায় ব্যোমকেশ’ (ওঁর প্রথম ছবি ‘রোগা হবার সহজ উপায়’)। যেখানে ব্যোমকেশ-সত্যবতী দুজনেই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। এই ব্যোমকেশের নাতির চরিত্রে দেখা যাবে আবিরকেই।

দর্শক যে এত ব্যোমকেশের ছবি দেখছেন, সেটা শুধুমাত্র গল্পের জন্য নয়। চরিত্রের জন্য। ব্যোমকেশ তুলনামূলক ভাবে সাংসারিক। আমাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যোমকেশেরও বয়স বাড়ছে। আর এই ভাবনাটাকেই তুরুপের তাস করতে চেয়েছেন পরিচালক। বিদেশে শার্লক হোমসকে পুনর্নিমাণ করেছে বিবিসি। সম্পূর্ণ অন্য মোড়কে রূপ দেওয়া শার্লক হোমসকে গোটা পৃথিবী গোগ্রাসে গিলেছে। সমসাময়িক প্রজন্মের জন্য মৌলিক গোয়েন্দা চরিত্র নিয়ে কাজ হলে আখেরে বাংলা সিনেমার লাভ না ক্ষতি, তা সময় বলবে। দেবায়নের ‘বিদায় ব্যোমকেশ’-এর ট্রেলারে দেখা যাচ্ছে শরদিন্দুর গল্পগুলো ক্রমশ পেরিয়ে পেরিয়ে শেষে আসছে ব্যোমকেশ সমগ্র। গল্পের টুইস্ট এখানেই। বাংলা সিনেমায় ব্যোমকেশকে নিয়ে নাড়াঘাঁটা করেছেন বহু পরিচালক। কিন্তু এই ছবির প্লট সম্পূর্ণই আলাদা। পরিচালক তাঁর সিনেমায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কারণ তিনি অনুপ্রাণিত, কিন্তু অনুকরণ করেননি। নতুনত্বের স্বাদ এখানেই।

এর আগেও বাংলা সিনেমায় ব্যোমকেশকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা হয়েছে নানাভাবে। শৈবাল মিত্র, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে বানিয়েছিলেন ‘শজারুর কাঁটা’। সেখানেও ধরা পড়েছিল ব্যোমকেশের প্রৌঢ়ত্ব। আবার ঋতুপর্ণ ঘোষ ‘চোরাবালি’ অবলম্বনে নির্মাণ করেছিলেন ‘সত্যান্বেষী’। ব্যোমকেশ অবলম্বনে যদি এই দুটো ছবিকে এক্সপেরিমেন্টাল তকমায় ব্যাখ্যা করা যায় তবে এ দুটি ছবি বক্সঅফিসে একেবারেই সফল হয়নি। ‘শজারুর কাঁটা’ ছবিতে ব্যোমকেশ শান্ত, স্থিতধী। এই প্রথমবার বাংলা ছবিতে দেখা গিয়েছিল ব্যোমকেশের বৃদ্ধ রূপ। আবার ঋতুপর্ণ তাঁর ব্যোমকেশকে নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন খানিক ফেমিনিন সত্ত্বা দিয়ে। হিরোয়িক ইমেজকে পুরোপুরি ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলেন। তিনিও শান্ত স্বভাবের, ভেবেচিন্তে কাটা কাটা কথা বলেন। তবে ‘বিদায় ব্যোমকেশ’-এর পুরো জার্নিটাই অন্যরকম। এটি প্রথমত শরদিন্দুর কোনো গল্পের আশ্রয়ে নির্মিত নয়। সম্পূর্ণ মৌলিক গল্পের উপর ভিত্তি করে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে। ছবির ট্রেলার এবং গান দর্শক পছন্দ করেছেন। এবার সময় বলবে পুরো ছবিটি দর্শক কতটা গ্রহণ করবেন। আপাতত এই নতুন ব্যোমকেশের জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা।

Developed by DXDasia