‘পাখির গ্রাম’ কালনার মানিকহার

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্রীষ্মের শুরুতেই গ্রামের গাছে গাছে চলে আসে পাখিরা

পূর্ব বর্ধমানের কালনার একাংশ এখন বাহারি পাখিদের কলতানে মুখরিত। কিচিরমিচির রীতিমতো উপভোগ করছেন গ্রামের মানুষরাও। দূর দূরান্ত থেকে পাখিদের দেখতে আসছেন গ্রামবাসীরা। কালনা-১ ব্লকের কাঁকুড়িয়া পঞ্চায়েতের মানিকহার গ্রাম এখন ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবেই পরিচিত। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্রীষ্মের শুরুতেই গ্রামের গাছে গাছে চলে আসে শ্যামখোল থেকে নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দল।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, কৃষি প্রধান এই গ্রামের আশপাশে রয়েছে বিস্তীর্ণ চাষের জমি ও খালবিল। চাষের জমির পোকামাকড় ও খালবিলের শামুক, ঝিনুক, ছোট ছোট মাছ পাখিদের খাদ্য। সেই টানে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে কয়েক দশক ধরে এই গ্রামটি বেছে নিয়েছে পাখির দল। শীত পড়ার আগেই তারা চলে যায় অন্যত্র।

অন্যান্যবারের তুলনায় এ বছর পাখিদের সংখ্যা বেশি। সকাল হলেই পাখিরা বেরিয়ে পড়ে খাবারের সন্ধানে। পড়ন্ত বিকেলে বাসায় ফিরে আসে। ঘরে ফিরে আসার দৃশ্যও চমৎকার। ঝাঁক ঝাঁক সেই পাখিদের ঘরে ফেরা দেখতে ভিড় জমান গ্রামবাসীরা। অন্য গ্রামের মানুষরাও ছুটে আসেন। গ্রামের বাচ্চারা এই দৃশ্য উপভোগ করে নিজেদের মতো। এমনকি বিভিন্ন স্কুল থেকে পড়ুয়াদের গ্রামে পাখি দেখাতে নিয়ে আসেন শিক্ষকরা। গ্রামের মানুষ পাখিদের এতটাই ভালোবাসেন যে, তাদের কেউ কোনও ক্ষতি করলে জরিমানা করার নিয়ম রয়েছে।

তাদের রক্ষা করতে গ্রামের ক্লাব ও পাড়ার সকলে সব সময় সজাগ। পাখিদের ক্ষতি করা ও বিরক্ত করা যাতে না হয়, তার জন্য নোটিস বোর্ডও লাগানো হয়েছে।

Developed by DXDasia