বিভিন্ন কায়দা-কানুন দিয়েও প্লাস্টিক ব্যবহারে লাগাম টানা যাচ্ছে না
প্লাস্টিক নাকি ক্ষতিকর নয়! হ্যাঁ, আবোল-তাবোল মনে হলেও বিষয়টা এরকমই। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলেই জানে পৃথিবীকে দূষিত করার অন্যতম মূলচক্রী হল ‘প্লাস্টিক’। কী আশ্চর্যের কথা, বিভিন্ন কায়দা-কানুন দিয়েও এর ব্যবহারে লাগাম টানা যাচ্ছে না। জেনে শুনে বিষ পান করাতে আমরা এখন অভ্যস্ত। কিন্তু, তা স্বত্বেও আমাদের মধ্যেই কেউ কেউ থাকেন, যাঁরা মুক্তির উপায় খুঁজে চলেন, খুঁজে চলেন অন্ধকারের ভিতর আলো। ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী, প্রীতিরঞ্জন মণ্ডল, শুভাশিস মাইতি, অধ্যাপক সূর্যসারথী বসু এবং কৌশিক চট্টোপাধ্যায় তাঁদের মধ্যেই পড়েন। প্লাস্টিক দূষণের হাত থেকে মানব সভ্যতাকে চিরতরে রেহাই দিতে বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক বানিয়েছেন এই পাঁচ বাঙালি গবেষক।

গবেষকদের বানানো বায়োপ্লাস্টিকের সামগ্রী
এই বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক হল- ‘বায়োপ্লাস্টিক’। সাধারণ প্লাস্টিক সহজে প্রকৃতিতে মিশে যেতে পারে না, বহু সময় লাগে এবং তা থেকে দূষণ ছড়ায়। কিন্তু বায়োপ্লাস্টিক সহজেই মাটিতে মিশে যাবে। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের পাঁচ বাঙালি গবেষক কীভাবে উদ্ভাবন করলেন এই বায়োপ্লাস্টিক? গবেষক দলের অন্যতম প্রীতিরঞ্জন মণ্ডল বঙ্গদর্শন-কে জানিয়েছেন, “একসঙ্গে গবেষণা করতে করতেই বিষয়টা আমাদের মাথায় আসে। বায়োপ্লাস্টিকের কাঁচামাল সহজেই পাওয়া যায় বাজারে। এর জন্য লাগে ধান ও গমের নাড়া, তুষ এবং রেড়ির তেল। ধান ও গমের নাড়া, তুষ থেকে সেলুলোজ বের করে তার সঙ্গে রেড়ির তেলের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়। স্বাভাবিক ভাবেই বায়োপ্লাস্টিকের উৎপাদন খরচ সাধারণ প্লাস্টিকের তুলনা অনেকটাই কম। বায়োপ্লাস্টিক মাটিতে মিশে যাচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্য মাটিতে পুঁতে পরীক্ষাও করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমরা ইতিমধ্যেই এই প্লাস্টিকের দিয়ে চামচ, গ্লাস, ব্যাগ তৈরি করেছি। সেগুলো সাধারণ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি পণ্যের মতোই উপযোগী। এক কেজি বায়োপ্লাস্টিক তৈরি করতে খরচ পড়ছে ৫০-৫৫ টাকা, যা সাধারণ প্লাস্টিকের দামের তুলনায় অনেকটাই কম।”
এই গবেষণা প্রকল্পে তাঁরা অর্থ সাহায্য পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিভাগ। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাও এই গবেষণার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাও। একাধিক সিমেন্ট কোম্পানিও তাঁদের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছে। হালকা থেকে ভারী সমস্ত ধরনের সামগ্রী তৈরি করা যাবে বায়োপ্লাস্টিক থেকে। চিকিৎসা ক্ষেত্রেও বায়োপ্লাস্টিকের ব্যবহার যাতে বাড়ে, তার জন্যো চেষ্টা চালাচ্ছেন গবেষকরা।
ছবিঃ গবেষক প্রীতিরঞ্জন মণ্ডল