অন্যরকম দুর্গা দেখতে হলে আবারও যেতে হবে বেহালার এই ক্লাবের পুজোয়
সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর আমরা দেখেছি পরিযায়ী শ্রমিকদের লড়াই। কঠিন সময়ে তাঁরা কর্মচ্যুত, অভুক্ত – তবুও হার মানেননি। বেরিয়ে পড়েছেন রাস্তায়। সন্তানকে কোলে নিয়ে শত-শত মাইল হেঁটেছেন শ্রমিক মায়েরা। সেরকমই এক পরিযায়ী মায়ের রূপে দেবী দুর্গাকে দেখা গেছিল বেহালার বড়িশা ক্লাবের পুজোয়। এ বছর অন্যরকম ভাবনায় ফের চমক থাকছে বেহালার বড়িশা ক্লাবের পুজোয়। এবারের ভাবনায়- ‘ভাগের মা’।
পুজোর মণ্ডপ ভাবনা, পরিকল্পনা, সৃজনে শিল্পী রিন্টু দাস এবং মৃৎ শিল্পী দেবায়ন প্রামাণিকের হাতে আদল পেয়েছে প্রতিমা। দেবায়ন যাদবপুরের বাসিন্দা, গভর্মেন্ট আর্ট কলেজের ছাত্র। এক সংবাদমাধ্যমে শিল্পী রিন্টু দাসের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, ৪৭-এর দেশ ভাগের সময় বাক্স-প্যাটরা সন্তানদের নিয়ে পূর্ববঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গ চলে এসেছিলেন মায়েরা। তাঁদের চোখে-মুখে ছিল একরাশ হতাশা, উদ্বাস্তু হওয়ার বেদনা এবং মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার যন্ত্রণা। তারপর স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও দেশব্যাপী আতঙ্ক এবং অস্থিরতা। এবারেও ছিন্নমূল এবং উদ্বাস্তু হওয়ার আতঙ্ক গ্রাস করতে শুরু করেছে আমাদের মনে। 
প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যস্ত শিল্পী দেবায়ন প্রামাণিক (ছবিঃ শিল্পীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট)
এছাড়া এ এই থিমের পিছনে একটি ঐতিহাসিক প্রসঙ্গও আছে, যা জুড়েছে রাজা বল্লাল সেনের রাজত্বকে। পুজো কমিটির এক সদস্যের কথায়, সময়টা ১২০০ সাল। বাংলার সিংহাসনে তখন ধর্মপ্রাণ রাজা বল্লাল সেন । তিনি এক রাতে মহিষমর্দিনী দশভূজার স্বপ্ন দেখেন । স্বপ্নের আদেশ মতো ঢাকার (অধুনা বাংলাদেশ) নিকটবর্তী এক জঙ্গল থেকে দেবী দশভুজার একটি বিগ্রহ উদ্ধার করেন তিনি। বিগ্রহটি আচ্ছাদিত বা ঢাকা ছিল বলে তিনি এর নামকরণ করেন “ঢাকেশ্বরী” এবং প্রতিষ্ঠা করেন “ঢাকেশ্বরী” মন্দিরের। ঢাকেশ্বরী মন্দির ঢাকায় অবস্থিত হলেও দেবী ঢাকেশ্বরীর আদি বিগ্রহটি এখন কলকাতার কুমোরটুলির অঞ্চলে দুর্গাচরণ স্ট্রিটে ঢাকেশ্বরী মাতার মন্দিরে পূজিত হচ্ছেন । ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় অন্য সবকিছুর সঙ্গে মায়ের আদি বিগ্রহটি চলে আসে এখানে। কয়েকলক্ষ মানুষের সঙ্গে মা-ও উদ্বাস্তু হয়ে চলে আসেন কলকাতায়।
এত বছর পরেও কেন ভিটে-মাটি হারানোর অতীতের স্মৃতি ঘুরেফিরে আসছে? ফের কি তাহলে উদ্বাস্তু হওয়ার আশঙ্কা? এবার তাহলে কোথায় যাবেন মা? কোন ঠিকানায়? মায়ের ভাগ তাহলে কে পাবে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার বড়িশা ক্লাবের ভাবনায় ‘ভাগের মা।‘