বৃষ্টি-বাদল সঙ্গে নিয়েই দুর্গাসেবায় দেশান্তরে পাড়ি দিচ্ছে বাংলার পদ্ম

এ বার পুজোর অনেক আগেই বরাত পেয়েছে পদ্ম চাষিরা

পুরাণ কাহিনি অনুযায়ী রাম ও রাবণের যুদ্ধের সময়ে দেবী দুর্গার অকালবোধন হয়েছিল। দেবী সন্তুষ্ট হচ্ছেন না দেখে বিভীষণ রামকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, ১০৮টি নীল পদ্ম দিয়ে দেবীর আরাধনা করতে হবে। রাম তাই করেন। রামের আদেশে হনুমান উড়ে যান দেবীদহে, একমাত্র সেখানেই নাকি নীল পদ্ম পাওয়া যায়। পদ্ম আনার পর পুজো করতে করতে রাম দেখেন একটি পদ্ম নেই। তখন রাম নিজ পদ্ম সদৃশ চোখ দেবীকে দান করার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তখন দেবী আবির্ভূত হন ও এই বর দেন যে, তিনি রাবণের থেকে নিজ সুরক্ষা সরিয়ে নেবেন। অতএব রাবণ বধে আর কোনো বাধা থাকে না। আর এই কারণেই ১০৮টি পদ্মফুল এত গুরুত্বপূর্ণ ।

পুরাণ কাহিনি, সন্ধিপুজো সবই তো হলো। কিন্তু বছর বছর দেশ-বিদেশ মিলিয়ে এত পদ্মের জোগান দেওয়া তো আর মুখের কথা নয়। পদ্ম চাষ করলাম আর বাজারে বিক্রি করে দিলাম, পদ্ম চাষীদের জন্য ব্যাপারটা অতটাও সহজ নয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আর্থিক মন্দা, সব মিলিয়ে আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

তবে মন্দেরও ভালো রয়েছে। এবার বাঁকুড়ার পদ্মে সাজবে অস্ট্রেলিয়া থেকে জার্মানি, লন্ডনের প্রবাসী বাঙালিদের দুর্গাপুজো। অষ্টমীতে সেই পদ্মেই হবে দেবী দুর্গার আরাধনা। পুজোর আগেই তার বরাত জুটেছে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের পদ্মচাষিদের কাছে।

এবার বাঁকুড়ার পদ্মে সাজবে অস্ট্রেলিয়া থেকে জার্মানি, লন্ডনের প্রবাসী বাঙালিদের দুর্গাপুজো। অষ্টমীতে সেই পদ্মেই হবে দেবী দুর্গার আরাধনা। পুজোর আগেই তার বরাত জুটেছে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের পদ্মচাষিদের কাছে।

একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন পুজো উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার পদ্মের বরাত পাওয়া গিয়েছিল। এবারেও রফতানিকারী সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তা প্রায় পাকা। পঞ্চমীর দিন সকালে একাধিক পুকুর থেকে পদ্ম তুলে পৌঁছে দেওয়া হবে কলকাতায়। এরপর মালবাহী বিমানে বাঁকুড়ার পদ্ম উড়ে যাবে অস্ট্রেলিয়ায়, জার্মানিতে, লন্ডনে। ফুলের কারবারিদের দাবি, বাংলার অন্যান্য জেলার তুলনায় বাঁকুড়ার পদ্মফুল পুকুর থেকে তোলার পরও বেশ কয়েক দিন একই রকম তরতাজা থাকে। ফলে রফতানিকারী সংস্থাগুলিকে সাধারণত লোকসানের মুখে পড়তে হয় না।    

প্রসঙ্গত, পাঁচ চারেক আগে থেকেই পুজোর সময় বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে বাঁকুড়ায় পদ্ম। এ বার পুজোর অনেক আগেই বরাত পাওয়ায় পদ্মচাষিদের কপাল ফিরেছে। মাসখানেক আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাঙালি পুজো উদ্যোক্তাদের তরফে পদ্মফুলের জন্য কলকাতার একটি রফতানিকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বাঁকুড়া জেলা উদ্যান পালন দফতরের সঙ্গে কথাবার্তা বলে সেই সংস্থা। দফতরের মধ্যস্থতায় বাঁকুড়ার সিমলাপাল এবং খাতড়া ব্লকের একাধিক চাষির উৎপাদিত পদ্ম অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হবে বলে স্থির হয়।

Developed by DXDasia