
আর্ট পেপার, পুরোনো সংবাদপত্র দিয়ে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ
ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা ছোট থেকেই নেশা তাঁর। শিলিগুড়িএ ভক্তিনগর থেকে সুদূর উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়াতে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরও সেই নেশা ছাড়তে পারেননি পায়েলি ধর চক্রবর্তী। এবারে তিনি সংবাদপত্র দিয়ে তৈরি করেছেন ব্যাগ। প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের দূষণের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছেন তাঁরা এই কাগজের ব্যাগ তৈরির জন্য শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছেন পায়েলিকে। প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ হটাতে কাগজের ব্যাগ তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য পায়েলির কাছে আবেদনও করছে শিলিগুড়ির নাগরিক সমাজ।
শিলিগুড়ি শহরে নিষিদ্ধ হয়েছে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ। কিন্তু তারপরও তার ব্যবহার বন্ধ হয়নি। বাজারে, মুদির দোকানে পুরোমাত্রায় চলছে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ। আর তা থেকে দূষণও ছড়াচ্ছে। প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ নষ্ট হয় না। তা মাটির মধ্যে পড়ে থাকে বছরের পর বছর। এই প্লাস্টিক বৃষ্টির জলকে ভূগর্ভে পৌঁছাতে দিচ্ছে না। ফলে ভূগর্ভের জলস্তরেও সমস্যা হচ্ছে। এমনিতে দেশের অন্যতম দূষণ নগরীতে পরিণত হয়েছে শিলিগুড়ি শহর। সেখানে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ একটি বাড়তি মাত্রা যোগ করছে। গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের আগে শিলিগুড়িতে নাগরিক সমাজ বিভিন্ন স্তরের মানুষকে নিয়ে এই ক্যারিব্যাগের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। সেই আন্দোলন এখনও চলছে। বিভিন্ন বাজার থেকে শুরু করে অন্যত্র তাঁরা সভা করার পাশাপাশি সঙ্গীত, নাটকের মাধ্যমে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের বিরুদ্ধে সচেতনতার প্রচার করছেন। কিন্তু তারপরও বন্ধ হয়নি প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ। তাই তাঁদের এই আন্দোলনে কাগজের ব্যাগ একটি বাড়তি মাত্রা এনে দিতে পারে বলে আন্দোলনকারীদের তরফে বিশিষ্ট নাট্যকার পার্থ চৌধুরী জানিয়েছেন।
প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করা নিয়ে বিয়ের আগে থেকেই ভাবছিলেন পায়েলি। সেই সময় থেকেই কাগজের ব্যাগ বানানোর পরিকল্পনা মাথায় আসে তার। এরপর বিয়ের পর,স্বামী পিএইচডি ডিগ্রি করার সময় বিশ্ববিদ্যলয়ে গেলে নিজে হাতে ফেলে দেওয়া সংবাদপত্র দিয়ে কয়েকটি কাগজের ব্যাগ তৈরি করে দেন পায়েলি। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই ব্যাগ সাড়া ফেলে। সেটা দেখে হাবড়াতে পায়েলির প্রতিবেশী কিছু কাগজের ব্যাগ চাইলে তিনি শখানেক ব্যাগ তৈরি করে দেন। সেই ব্যাগও বিপুল চাহিদা তৈরি করে। আর্ট পেপারের সঙ্গে ফেলে দেওয়া সংবাদপত্র, সঙ্গে ফেব্রিকের কাজ আর কিছু সেলোটোপ লাগছে এটা তৈরি করতে। পায়েলি জানান, ব্যাগগুলোয় কিছু ডিজাইন করা হয়েছে।

কোনওটায় স্বরবর্ণ, কোনটায় কাগজগুলোকে গোল করে কাটা হয়েছে। একসময় বাজারে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ ছিল না। সবাই কাগজের ঠোঙা ব্যবহার করতেন। সেই ঠোঙার ধাঁচে এবার কাগজের আরও ব্যাগ তিনি তৈরি করতে চান যাতে তা কম খরচের হয়। সবাই ব্যবহারও করতে পারে আবার খরচও আয়ত্তের মধ্যে, এমন কাজেই তিনি এবার হাত দিচ্ছেন। যে ব্যাগগুলো তিনি এখন পর্যন্ত তৈরি করেছেন তা একটু ব্যয়বহুল। তাই সেই পরীক্ষামূলক ভাবে তৈরি হওয়া কাগজের ব্যাগকে আরও সস্তায় তৈরি করার কাজে তিনি ইতিমধ্যে হাত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, পরিবেশ বাঁচাতে এই কাগজের ব্যাগ প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে একটা নতুন পরিবেশ জন্ম দিতে পারে। শিলিগুড়ি নাগরিক সমাজের তরফে বিশিষ্ট নাট্যকার পার্থ চৌধুরী বলেছেন, তারা প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ হটাতে পায়েলি দেবীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে কাগজের ব্যাগ তৈরির প্রশিক্ষণ শুরু করতে চান। তাঁরা সকলের কাছে আবেদন করছেন, প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ বন্ধ করে কাগজের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করুন। আগামী এক বছর ধরে তারা শিলিগুড়ি শহরে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রচার করে যাবেন।
পায়েলির তৈরি করা কাগজের ব্যাগ পরিবেশকে কতটা সারিয়ে তুলতে পারে, এখন সেটাই দেখার।
