
এবার বেশি পরিমাণে বীজ চাষিদের জোগান দেওয়া সম্ভব
খরিফ মরশুমে চাষিরা যাতে বেশি পরিমাণে ধান ফলাতে পারেন, তার জন্য উচ্চফলনশীল সার্টিফায়েড বীজের ওপর ভরসা রাখতে বলেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, যে সমস্ত এলাকায় বৃষ্টির জল দাঁড়ায় না বা কম বৃষ্টি হয়, সেখানে রাজেন্দ্র ভাগবতী ধানের চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু এই ধানের বীজ পাওয়া যায় খুবই কম। ২০১৬ সাল থেকে বিহারে রাজেন্দ্র ভাগবতী ধানের খানিকটা চাষ হয়েছে। এই রাজ্যের কয়েকটা কৃষি খামারে এই ধানের বীজ পাওয়া যায় খুবই অল্প পরিমাণে। অন্যদিকে এই বীজের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। পূর্ব ভারতে কৃষি বিপ্লব আনার যে প্রকল্প সরকার নিয়েছে তাতে প্রচলিত লাল স্বর্ণ ধানের বাইরে জোর দেওয়া হচ্ছে রাজেন্দ্র ভাগবতী, সম্প্রীতির মতো ধানের ওপর। তাছাড়া এই প্রজাতির ধান উচ্চ ফলনশীল। হাল্কা সুগন্ধিও বটে।
এরকম পরিস্থিতিতে বিধানগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন পদ্ধতিতে রাজেন্দ্র ভাগবতীর বীজ উৎপাদন করে নজির সৃষ্টি করল। এবার আরও বেশি করে এই ধানের বীজ কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। রাজেন্দ্র ভাগবতী ধান দেখতে অনেকটা শতাব্দী ধানের মতো। তবে আকারে এই ধানের গাছ শতাব্দী ধানের থেকে বড়ো। ফলনও যথেষ্ট বেশি। এই ধান বেশি সেদ্ধ করলে তার ভাত দলা পাকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। জানা গেছে, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্ডৌরি খামারে গত খরিফ মরশুমে এই ধানের বীর উৎপাদন করা হয়েছে। এখানে প্রথম রাজেন্দ্র ভাগবতীর বীজ খুব অল্প পরিমাণে ফলানো হয়েছিল ২০১৭ সালে। এবারের খরিফ মরশুমেও অনেকটা পরিমাণে এই ধানের বীজ উৎপাদন করানো হবে।
চাষিরা সমস্ত সরকারি খামার এবং এসকেইউএস থেকে সার্টিফায়েড ধানের বীজ কিনলে ভর্তুকি পাবেন। সার্টিফায়েড ধানের বীজের মধ্যে রাজেন্দ্র ভাগবতীও রয়েছে। কৃষি অধিকর্তাদের মতে, চাষিরা সিল সই দেখে ২০ কেজির প্যাকেট কিনলে উপকৃত হবেন। উত্তর ভারতের মতো সবুজ বিপ্লবের সুফল এ বার যাতে পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিও পায়, সে জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ‘দ্বিতীয় সবুজ বিপ্লব’ কর্মসূচি চালু করেছিল। সবুজ বিপ্লব প্রকল্পে কৃষকদের প্রয়োজন মতো বীজ শোধন করার ওষুধ, ঘাস মারার ওষুধ, অনুখাদ্য অর্থাৎ জিংক, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের জোগান দিচ্ছে কৃষি দপ্তর। তার সঙ্গে সঙ্গে চাষ করতে গিয়ে কৃষক যদি হঠাৎ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়েন, তাতে সরকার থেকে রয়েছে ক্ষতিপূরণের বন্দোবস্তও।
তথ্যসূত্র – বর্তমান, আজকাল
