এই মেলা চতুর্থ বছরে পা দিল এবার
বর্ধমান লিটল ম্যাগাজিন মেলা এবার চতুর্থ বছরে পড়ল। বিমলানন্দ রায় এবং অংশুমান কর চার বছর আগে প্রথম বর্ধমানে লিটল ম্যাগাজিন মেলা করার কথা ভেবেছিলেন। তারপর সমমনস্কদের নিয়ে তৈরি হয় একটি কমিটি। এভাবে ২০১৬ সালে শুরু হল এই লিটল ম্যাগাজিন মেলা। ‘বর্ধমান সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র’-র উদ্যোগে প্রত্যেক বছর মেলাটি আয়োজিত হয়। আরও বেশ কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে এই ‘বর্ধমান সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র’ সংস্থাটি।

এবারের মেলা শুরু হয়ে গেছে শুক্রবার, ২২ নভেম্বর। চলবে রবিবার ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। বর্ধমান টাউন হলের ময়দানে দুপুর ২টো থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলার আসর বসছে। মেলায় আছে চারটি অঙ্গন। ‘রবীন মণ্ডল স্মৃতি প্রদর্শনী’-তে স্থান পেয়েছে অনবদ্য সব ছবি। এছাড়াও, দুর্লভ লিটল ম্যাগাজিনের সংগ্রহ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে ‘সুকুমার সেন প্রদর্শশালায়’। এই বছর মেলায় ১৩৫টির মতো পত্রিকা যোগদান করেছে। তার মধ্যে ৩০টি বাংলাদেশের, ১৬টি অসমের, ৩টি ত্রিপুরার। ঝাড়খণ্ডের পত্রিকাও রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উল্লেখযোগ্য পত্রিকাগুলির মধ্যে আছে 'এবং মুশায়েরা', 'কৃত্তিবাস, 'কারুবাসনা', 'নাটমন্দির', 'বোধশব্দ', 'ধ্যানবিন্দু', 'আঙ্গিক', 'ভাষালিপি', 'ভুমধ্যসাগর'। বাংলাদেশ থেকে এসেছে 'ঈক্ষণ', 'রাষ্ট্রচিন্তা'-র মতো পত্রিকা। সব মিলিয়ে মনন এবং সৃজনের এক বিশাল ভূরিভোজ।
একালের লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে বর্ধমান লিটল ম্যাগাজিন মেলা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। মেলার অন্যতম সম্পাদক সুকান্ত দে বললেন, “সংকলন নয়, আমরা যারা লিটল ম্যাগাজিন করি, তারা চাই সম্পাদনা। অভিমুখী সম্পাদনা খুব জরুরি। বহু লিটল ম্যাগাজিন এখন প্রকাশনার দিকে চলে যাচ্ছে, ফলে, কমে যাচ্ছে ম্যাগাজিনের সংখ্যা। এই নিয়ে একটি বিতর্কসভাও রয়েছে আমাদের মেলায় – ‘বই প্রকাশের প্রবণতা লিটল ম্যাগাজিনের জন্য আত্মঘাতী’। এই জায়গায় খেয়াল রেখে কাজ করলে লিটল ম্যাগাজিনের ভবিষ্যৎ আরও ভালো হবে”।
