
আইয়ুব বাচ্চু আছেন, গভীর ভাবে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে মিশে আছেন…
বাংলাদেশের রূপোলি গিটার প্রকৃত অর্থে একজনই। যিনি প্রায় চার দশক বাংলা ব্যান্ড বা রক কালচারকে নিয়ে এসেছেন গ্রাম থেকে মফস্সলের প্রতিটা মানুষের হৃদয়ে। তিনি আইয়ুব বাচ্চু। তরুণরা তাঁকে অনুসরণ করে। আইয়ুব বাচ্চু তাঁর পরবর্তী প্রজন্মকে সবসময় অনুসরণ করতে শিখিয়েছেন, অনুকরণ নয়। জীবনের প্রথম দিকে পাড়ায় পাড়ায় গান গাইতেন। ১৯৭৮ সাল থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হোটেলে গান করেছেন। তখন সত্তরের দশক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তাল। তার মাঝেই সেই প্রথম বাংলার দর্শক অনুভব করল একটা ভাইব্রেশন। যেখানে হার্ড মিউজিক ধ্বনিত হবে ঢাকা থেকে সিলেট। ইংরেজি গান, হার্ড রক, ব্লুজ, অল্টারনেটিভ রক এই সমস্তকিছুর সঙ্গে মানুষের পরিচয় হল সেই প্রথম। এরপর সোলস, এলআরবি-র হাত ধরে উত্থান তাঁর। একক অ্যালবাম করেছেন ১৬টি। আর ব্যান্ড অ্যালবাম প্রায় ১৩টি।
ফেরারি এ মনটা আমার…
ফেরারি মন তাঁর ব্যান্ড অ্যালবাম। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায় এই অ্যালবাম। অ্যালবামের টাইটেল গানে তিনি লিখছেন, “যে পথে হারিয়েছি তোমায়/ সেই পথে খুঁজে আমি যাব/ অভিমান করে থেকো না/ অপবাদ দিয়ে যেও না/ তাই আমি ফিরে আসি বারেবার”। নিজের গানের মধ্যে বারবার নিজেকেই খুঁজতে চেয়েছেন শিল্পী। কখনও পুরোনো ব্যথা, স্মৃতি, শহর সবকিছুই তাঁর গানে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। গানের কথা বেদনার হলেও গানের রিদম পৌঁছে গেছে সর্বসাধারণ মানুষের কাছে। আইয়ুব বাচ্চুর দুটি অ্যালবাম ‘কষ্ট’ এবং ‘ফেরারি মন’– এই দুটি অ্যালবামের গান বাংলাদেশের বড়ো শহর ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। নব্বইয়ের দশকে আইয়ুব বাচ্চুর হিট অ্যালবামের প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে। চল্লিশ বছরের দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে তার সুপারহিটের গানের সংখ্যা যে কত তা গুনে শেষ করা যাবে না। এরকম সাফল্য খুব কম শিল্পীর জীবনেই আসে। ‘চলো বদলে যাই’ শিরোনামের গানটি দুই বাংলার কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।

রুপালি গিটার ফেলে…
নব্বইয়ের দশক থেকে এমন কোনো লাইভ অনুষ্ঠান নেই, যেখানে শ্রোতারা এই গানটি গাওয়ার জন্য আইয়ুব বাচ্চুকে অনুরোধ করেননি। কী অসামান্য গানের আবেদন- “এই রূপালি গিটার ফেলে একদিন চলে যাব দূরে, বহুদূরে/ সেদিন চোখে অশ্রু তুমি রেখো গোপন করে”। সত্যিই গিটার ফেলে চলে গেলেন আইয়ুব বাচ্চু। এমন একটা জীবন বাচ্চু ভাই পেয়েছিলেন, যেখানে সমস্ত রাগ, ব্যথা, অভিমান জমাট বেঁধেছে শুধুমাত্র তাঁর গানে। সে গানের সুরই হোক বা গানের কথা। আর এই কথাটা বলতে ইচ্ছা করে না যে, আইয়ুব বাচ্চু আর নেই। তিনি আছেন, গভীর ভাবে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে মিশে আছেন।
