শুধু সুস্বাদু নয়, এর স্বাস্থ্যগুণও অনেক
খাদ্যরসিক বাঙালি। তার খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ঋতু, সময়, পার্বণ, আরও কত কি! সকাল, দুপুর, সন্ধ্যে, রাত- বিভিন্ন সময় ভেদে খাবারের পদও ভিন্ন। খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মুডও। সারাদিন খাটাখাটনির পর বাড়ি ফিরে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চা, আর তার সঙ্গে কিছু সুস্বাদু জলখাবার পেলে সারাদিনের ক্লান্তি মিটে যায় এক লহমায়। সেইসব জলখাবারেরও কতই না ধরন, কতই না স্বাদ! পেঁয়াজ-কাঁচালঙ্কা আর সরষের তেল দিয়ে মাখা মুড়ি, চপ, বা পাঁপড়। খেলেই দিল খুশ। পাঁপড়ের মধ্যে সব বাঙালির ঘরেই প্রচলিত চালের পাঁপড় আর সাবুর পাঁপড়।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সাবুর পাঁপড় রয়ে গেছে বাঙালির প্রিয় খাদ্যতালিকার একেবারে উপরের দিকে। আধুনিক সময়ের হরেক বিদেশি স্ন্যাক্সের ভিড়েও ভাঁটা পড়েনি তার জনপ্রিয়তায়। আগেকার দিনে সব বাড়ির মা-ঠাকুমারা নিজের হাতেই বানাতেন সাবুর পাঁপড়। ছাদ বা উঠোন জুড়ে বড়ো বড়ো থালায়, রোদে পাঁপড় শুকোতে দেওয়ার দৃশ্য ছিল অতি পরিচিত। বর্তমান সময়ের কর্মব্যস্ততায় বাড়িতে পাঁপড় বানানোর অভ্যেসে ভাঁটা পড়েছে। মেশিনে, ভেজাল উপাদান মিশিয়ে বানানো পাঁপড় কিনতেই অভ্যস্ত আমজনতা। তবে, এখনও বাংলার অনেক জেলায় গ্রামের মেয়েরা সাবুর পাঁপড় তৈরি করেন। সেই পাঁপড় বাজারে বিক্রি করে হয়ে ওঠেন স্বনির্ভর। তাঁদের তৈরি পাঁপড়ের স্বাদে লেগে থাকে যত্ন, পরিশ্রম, আর গ্রাম বাংলার বিশুদ্ধতা।
আরও পড়ুন: বাংলার বারোমাসের আচার-কাহিনি
সাবুদানার পাঁপড়-এর উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হয় সাবুর বড়ো দানা, নুন, কালোজিরে, গোলমরিচ, তেল, জল। প্রথমে সাবুদানাগুলি ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হয়। তারপর একটি পাত্রে সাবু আর জল দিয়ে তাতে নুন, কালো জিরে, গোলমরিচ গুঁড়ো ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপরে সেগুলিকে ফুটিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। এবার একটা থালায় খানিকটা তেল মাখিয়ে সেই থালায় মিশ্রণটি ঢেলে দিতে হবে। সেই থালাটিকে রোদে শুকোতে দিতে হয়। শুকোনোর পর পাঁপড়গুলোকে ছোটো ছোটো টুকরো করে কেটে তেলে ভেজে পরিবেশন করতে হয়। বিকেলের গরম চায়ের সঙ্গে বা গরম ভাত আর ধোঁয়া ওঠা ডালের সঙ্গে, সাবুর পাঁপড়ের জুড়ি নেই।
সাবুর পাঁপড় তৈরির সময় শুধু কালোজিরে আর গোলমরিচ নয়, মেশানো যেতে পারে লাল লঙ্কার গুঁড়ো, টম্যাটো, বা ধনেপাতাও। প্রতিটি পাঁপড়ের আলাদা স্বাদ। তবে শুধু স্বাদ নয়, বিশুদ্ধ সাবুর পাঁপড়ের আছে অনেক স্বাস্থ্যগুণ। সাবুদানা সহজপাচ্য এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কালোজিরেতে আছে বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা লিভারকে সুস্থ রাখে। গোলমরিচে থাকে শরীরের উপযোগী বিভিন্ন খনিজ ধাতু আর ভিটামিন এ, ভিটামিন সি-তে ভরপুর গোলমরিচ কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্ষুধামান্দ্য, রক্তাল্পতা বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে উপযোগী।
খাদ্যদ্রব্য হিসেবে পাঁপড় কেনার সময় ক্রেতাদের মাথায় রাখতে হবে তার বিশুদ্ধতার দিকে। নিজের হাতে পাঁপড় বানিয়ে নেওয়াই সবথেকে নিরাপদ উপায়। নয়তো গুগলে খুঁজে নিতে পারেন ভেজালহীন, বিশুদ্ধ সাবুর পাঁপড়ের। দ্য বেঙ্গল স্টোর (The Bengal Store) নামে একটি বিপণী বহুদিন ধরে বিশুদ্ধ, খাঁটি জিনিসপত্রের মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্যকে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। স্টোরের এক কর্মী জানালেন, “শুধু সাবুর পাঁপড় বলে নয় আমরা যেসব খাদ্যদ্রব্য ক্রেতাদের হাতে তুলে দিই, তার বিশুদ্ধতার দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দিই। আমরা আপাতত তিন ধরনের সাবুর পাঁপড় রাখি- কালোজিরে মেশানো সাবুর পাঁপড়, শুকনো লংকা-কালোজিরে মেশানো সাবুর পাঁপড় আর কাঁচালঙ্কা-ধনেপাতা মেশানো সাবুর পাঁপড়। বিক্রির আগে খড়গপুর আইআইটির এএফটি ল্যাব থেকে সব খাদ্যদ্রব্যের গুণগত মান যাচাই করে নিই। তাই গ্রাহকরাও ভরসা করেন আমাদের উপর।”
*দ্য বেঙ্গল স্টোর থেকে সাবুর পাঁপড় কিনতে হলে এখানে ক্লিক করুন।


