প্রতিদিন থাকছে মহাভোজের আয়োজন
উত্তর কলকাতার বনেদিবাড়ির প্রসঙ্গ উঠলেই সবার আগে উঠে আসে যে নামটি, তা হল শোভাবাজার রাজবাড়ি। এই বাড়ির পুজো নিয়ে কতই না গল্প! ১৭৫৭ সালে রাজা নবকৃষ্ণ দেবের হাত ধরে শোভাবাজার রাজবাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু হয়। ২০২৫ সালে এই রাজবাড়ির পুজোয় ফিরছে হারিয়ে যাওয়া রীতি। নহবতখানায় আসর জমাবেন বেনারসের শিল্পীরা। সঙ্গে সর্বসাধারণের জন্য থাকছে বিশেষ আকর্ষণ।
১৭৫৭ সাল। রাজা নবকৃষ্ণ দেবের হাত ধরে পলাশির যুদ্ধের ঠিক পরেই শুরু হয় কলকাতার সবথেকে পুরোনো বনেদিবাড়ির দুর্গাপুজো। এবার শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপুজো-র বয়স ২৭৯ বছর। কথিত আছে, বনেদি কলকাতায় এটিই প্রথম সর্বজনীন পুজো, যেখানে সবার প্রবেশের অধিকার ছিল। এই বাড়ির পুজো দেখতে বারবার ছুটে এসেছেন বহু গুণীজন – শ্রীরামকৃষ্ণদেব থেকে স্বামী বিবেকানন্দ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় – কার না পা পড়েনি এই রাজবাড়িতে! অতীতে বেনারস থেকে আসা শিল্পীরা নহবতখানায় আসর জমাতেন, এই বছরও সেই পুরোনো রীতি আয়োজন করা হচ্ছে। মাঝে এই রীতি বন্ধ ছিল দীর্ঘ প্রায় কয়েকবছর। শোভাবাজার রাজবাড়ির সদস্য দেবরাজ মিত্রের পালা পড়েছে এবার, তাই তিনি উদ্যোগ নিয়ে আবার ফিরিয়ে আনছেন পুরোনো এই রীতি। বেনারস থেকে আসছেন শিল্পীরা, পুজোর চারদিনই বসবে নহবত।
অতীতে বেনারস থেকে আসা শিল্পীরা নহবতখানায় আসর জমাতেন, এই বছরও সেই পুরোনো রীতি আয়োজন করা হচ্ছে। মাঝে এই রীতি বন্ধ ছিল দীর্ঘ প্রায় কয়েকবছর।
বংশ পরম্পরা অনুযায়ী এই পুজোয় সর্বশেষ প্রতিমাশিল্পী ছিলেন হারু পাল। তাঁর কোনো বংশধর না থাকায় বিগত দুই বছর ধরে কৌশিক পাল এই বাড়ির প্রতিমা গড়ছেন। এখানে দেবীর বাহন অশ্বরূপী সিংহ। প্রতিবারের মতোই চক্ষুদান হবে মহালয়ার নির্দিষ্ট সময়ে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বসে যাবে বোধন। আর এবার পুজোয় বাড়তি পাওনা হিসেবে শোভাবাজার রাজবাড়িতে প্রতিদিন থাকছে রাজকীয় মহাভোজের আয়োজন। পঞ্চমী থেকে নবমী পর্যন্ত উনিশ রকমের পদ থাকছে দুই বেলা। কলকাতার একটি খ্যাতনামা ক্যাটারিং সংস্থা সাধারণ মানুষের জন্য মহাভোজের আয়োজন করবে। তার জন্য রাজবাড়ির অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে কুপন। রাজবাড়ির সুবিশাল দোতলায় থাকবে এই রাজকীয় খানাপিনার আয়োজন। শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজোয় হারিয়ে যাওয়া প্রায় সমস্ত অনুষঙ্গ ফিরছে এ বছর।