নকশাল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সিনেপর্দায় নতুন ‘শ্রীকান্ত’ ট্রিলজি : পরিচালনায় অঞ্জন দত্ত

শ্রীকান্তর বন্ধু ইন্দ্রনাথের চোখ দিয়েই দেখা হবে পুরো ছবিটা

‘শ্রীকান্ত’ এমন একটি বিষয়, যেখানে বাঙালি পরিচালকরা বারবার ফিরে গেছেন। ভারতীয় পরিচালকদের আশ্রয় হয়ে উঠেছিলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। শরৎচন্দ্রের লেখায় যে স্তর এবং বাঙালির আবেগ সূক্ষ্ম মাত্রায় উঠে আসে, যা হয়তো কোনো সাহিত্যিকের লেখাতেই বিরল। তাই ‘দেবদাস’, ‘পরিণীতা’, ‘পথের দাবি’ বা ‘শ্রীকান্ত’র মতো এক একটি কালজয়ী লেখা বারবার জায়গা করে নিয়েছে সিনেপর্দায়। বাঙালির অত্যন্ত এক পছন্দের পরিচালক এবার নাম লেখালেন সেই দলে। 

খুব সম্প্রতি মুক্তি পাবে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’। পরিচালক বলেছেন, শ্রীকান্তর প্রথম পর্বকে আশ্রয় করেই সেই ছবি। মূল চরিত্রে অভিনয় করবেন ঋত্বিক চক্রবর্তী। শরৎ-সাহিত্যের অন্যতম সৃষ্টি শ্রীকান্তকে নতুন আঙ্গিকে এবার পর্দায় ফিরিয়ে আনবেন অঞ্জন দত্ত। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল, শ্রীকান্ত নিয়ে তিনি ট্রিলজি বানাতে চলেছেন। চিত্রনাট্য লেখা শেষ। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকেই নাকি প্রথম পর্বের শুটিং শুরু হবে।

রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত ছবিতে উত্তম-সুচিত্রা 

কয়েকদিন আগেই অভিনেতা-পরিচালক অঞ্জন দত্ত প্রকাশ করছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিসর্জন’ নাটক অনুপ্রেরণায় একটি থিয়েটার প্রযোজনা মঞ্চস্থ করতে চান। অঞ্জন দত্ত, যিনি ১৯৭৮ সালে নাট্যজীবন শুরু করেন সার্ত্রের নাটক দিয়ে। অস্তিত্ববাদী দর্শন তাঁকে টানে। মার্ক্সবাদ নিয়ে পড়াশোনার পরেও তাঁর মনে হয় ব্যক্তিস্বাধীনতার জায়গা থেকে অস্তিত্ববাদ অনেক বড়ো। প্রশ্ন এই জায়গায়। আর অঞ্জন দত্ত বারবার নিজেকেই প্রশ্ন করতে চান একজন বাইরের মানুষ হয়ে। আমরা কি ভালো আছি? আমাদের দেশটা কি ভালো আছে? ভারতবর্ষ এই মুহূর্তে যে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে, তা ক্রমশ ভাবাচ্ছে অঞ্জন দত্তকে। ধর্মের রাজনীতি আর অসহিষ্ণুতা কতদিন চলবে? হিন্দ্‌-হিন্দু-হিন্দুস্তান করে হিন্দু ধর্মকেই কি অপমান করা হচ্ছে না? সম্প্রতি এইসব লেখার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ট্রোলডও হতে হয়।

বাংলার দর্শক এর আগে অঞ্জন দত্তকে সাধারণত বিদেশি ক্লাসিকেই দেখতে অভ্যস্ত। নিজেকে ভাঙছেন অঞ্জন। থিয়েটার এবং চলচ্চিত্রে তাই ফিরিয়ে আনতে চান দেশীয় ঘরানা।

নতুন রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত ছবিতে ঋত্বিক চক্রবর্তী

শ্রীকান্তকে নিয়ে ছবি করলেও উপন্যাসের মূল বিষয় থেকে খানিক সরে গিয়ে শ্রীকান্তকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করতে চান। ১৯৭০-এর নকশাল সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রথম ছবির চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছে এবং শ্রীকান্তর বন্ধু ইন্দ্রনাথের চোখ দিয়েই দেখা যাবে পুরো ছবিটা। শ্রীকান্ত লেখা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ১০২ বছর আগে। অঞ্জন দত্ত বলেছেন, শ্রীকান্ত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস, যা সত্তরের নকশাল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেও তৈরি হতে পারে। উপন্যাসটি সময়ের বাঁধা-ধরার বাইরে, এমনকি এখানে এমনকিছু বিষয় ছুঁয়ে যাওয়া হয়েছে যা আজকের জন্যও খুব প্রাসঙ্গিক।

একটি সংবাদমাধ্যমকে অঞ্জন জানিয়েছেন, ইন্দ্রনাথের মতো চরিত্ররা তাঁকে মুগ্ধ করে। কারণ তাঁরা জাতিভেদ নিয়ে বিচলিত নন অথবা অস্পৃশ্যতা নিয়ে ভাবিত নন। গোমাংস খান এবং বাঈজি বাড়ি যান। জীবনের এই পর্যায়ে এসে অঞ্জন মনে করেন, বাঙালি পরিচালকদের উচিত প্রচুর পরিমাণে সাহিত্যনির্ভর ছবি করা। তিনি স্বীকার করে নেন, দেশের ঠিক এই সময়ে রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রে আস্থা না রাখলে চলবে না। তাঁর শ্রীকান্ত ছবিতে ইন্দ্রনাথের চরিত্রে অভিনয় করবেন পরিচালকের অত্যন্ত পছন্দের অভিনেতা সুপ্রভাত মুখোপাধ্যায়।

Developed by DXDasia