অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রথম বাঙালি প্রেসিডেন্ট আনিশা

অক্সফোর্ডের নীতি প্রণয়নে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ভূমিকা রাখে এই ছাত্র সংসদ

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি। শুধু ‘প্রতিষ্ঠান’ বললে হয়তো ভুল হবে, শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে অক্সফোর্ড হয়ে উঠেছে বিদ্যাচর্চার এক পীঠস্থান। ইংরেজি ভাষাভাষী দুনিয়ায় সবথেকে পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয় এটিই। আর প্রাচীনতার দিক থেকে সমকালীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে অক্সফোর্ডের স্থান দু’নম্বরে। সেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের বর্তমান প্রেসিডেন্টের নাম আনিশা ফারুক। অক্সফোর্ড স্টুডেন্ট ইউনিয়নের ইতিহাসে তিনিই প্রথম বাঙালি প্রেসিডেন্ট। শুধু তাই নয়, প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রেসিডেন্টও তিনি। অক্সফোর্ডের নীতি প্রণয়নে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ভূমিকা রাখে এই ছাত্র সংসদ। পাশাপাশি, জাতীয় উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমের নীতির বিতর্কেও এই সংগঠন অংশ নেয় সক্রিয়ভাবে।

আনিশার বাবা বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর ফারুক আহমেদ। বাংলাদেশে তাঁদের বাড়ি ভোলা জেলার চর ফ্যাশন উপজেলায়। আনিশা বর্তমানে অক্সফোর্ডে ইতিহাস নিয়ে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। আগে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা লেবার ক্লাবের কো-চেয়ার ছিলেন। এটি লেবার পার্টির আদর্শে বিশ্বাসী পড়ুয়াদের সংগঠন। তাছাড়া স্টুডেন্টস ইউনিয়নের স্ক্রুটিনি কমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজ করেছেন ডিবেট সোসাইটি অক্সফোর্ড ইউনিয়নের স্ট্যান্ডিং কমিটিতে। স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছেন। সম্পাদনার দায়িত্ব সামলেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সবথেকে বড়ো সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অক্সফোর্ড স্টুডেন্ট’-এর।

এই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি অক্সফোর্ড ছাত্র সংসদের চূড়ান্ত নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন আনিশা। ২০১৯-২০ মেয়াদের জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের বিতর্কে তিনি বলেছিলেন, পড়ুয়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে অন্য প্রার্থীদের থেকে তাঁর যোগ্যতা বেশি। তাঁর থেকে যোগ্যতর কোনো প্রার্থী থাকলে তিনি ভোটে দাঁড়াতেন না, এই আত্মবিশ্বাস তাঁর ছিল। 

আনিশা ফারুকের আগে এশিয়ান বংশোদ্ভূত আরেক পড়ুয়া অক্সফোর্ড ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ১৯৯৩ সালে। সেই আকাশ মহারাজা ছিলেন প্রথম জাতিগত সংখ্যালঘু প্রেসিডেন্ট। ১৯৯৪ সালে ছাত্র সংসদের ক্ষমতা খর্ব করার বিলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন আকাশ। তাঁদের আন্দোলনের চাপে তখনকার শিক্ষামন্ত্রী জন প্যাটেন শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। 

 

Developed by DXDasia