ডুয়ার্সে বন্ধ হয়ে যাওয়া চা-বাগানের অনগ্রসর মেয়েদের জন্য শুক্লা দেবনাথের উদ্যোগ
আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলার হাসিমারা এলাকার শুক্লা দেবনাথ (Sukla Debnath), সংসারে রয়েছে অভাব। বাবা নেই। ২০১১ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (Rabindra-Bharati University) থেকে সংস্কৃতে স্নাতকোত্তর অর্জন করেছেন। যদিও শুক্লার একমাত্র পরিচয়, তিনি একজন সমাজসেবী। ডুয়ার্সে (Dooars) বন্ধ হয়ে যাওয়া চা-বাগানে অনগ্রসর মেয়েদের স্বনির্ভরতার পাঠ দিচ্ছেন তিনি। পিছিয়ে পড়া মেয়েদের রূপসজ্জা প্রশিক্ষণ করিয়ে অর্থ উপার্জনের পথ তৈরি করে দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, শুক্লার লড়াই মেয়ে-পাচার প্রতিরোধের মধ্যেও। এখনও পর্যন্ত একশোর বেশি মেয়ে শুক্লা দেবনাথের প্রয়াসে স্বনির্ভর হয়েছেন। কেউ কেউ তাঁর কাছে রূপসজ্জা প্রশিক্ষণ নিয়ে বেঙ্গালুরু গিয়ে কাজও করছেন।

কিন্তু মেয়েদের স্বনির্ভরতার পাঠ দেওয়ার পিছনেও রয়েছে বিপুল খরচ। শুক্লা বঙ্গদর্শনকে জানাচ্ছেন, “বিভিন্ন বিবাহনুষ্ঠানে কনে সাজানোর কাজ করি। সেখান থেকে যা রোজগার হয়, তার একটা অংশ দিয়ে অনগ্রসর মেয়েদের স্বনির্ভরতার পাঠ দিই।” “ছোটো থেকেই সমাজের জন্য কিছু কাজ করার ইচ্ছা ছিল। মানুষের সৌন্দর্য আসলে লুকিয়ে রয়েছে মনের ভিতরে। অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেও একপ্রকার সৌন্দর্য রয়েছে। তাই এ কাজে মেতে আছি।” বলছেন শুক্লা দেবনাথ।
চা-বাগানে মেয়েদের স্বনির্ভরতার জন্য এইসব উদ্যোগের পাশাপাশি স্যানিটারি ন্যাপকিনও বিলি করছেন শুক্লা। তৈরি করছেন সচেতনতার স্বচ্ছ পরিবেশ। এছাড়াও অনগ্রসর ছেলে-মেয়েদের মধ্যে খাতা-কলম বিলি করছেন। কালচিনি গুদাম লাইনে রয়েছে এক চা-শ্রমিক পরিবার। সেই পরিবারের মেয়ে সুশান্তি সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন। মেয়েটিকে গান শিখিয়ে মূল স্রোতে ফেরানোর চেষ্টা করছেন শুক্লা। আদিবাসী পরিবারের মেয়ে সুশান্তির মা দুলারি কেউটের মুখেও হাসি ফুটছে। শুক্লার মানবিক পরিচয় নজর কেড়েছে ‘পদ্মশ্রী’ করিমূল হক-কেও।
এই ধরনের কাজে আয়ের থেকে ব্যয়ই বেশি হয়। কিন্তু হাল ছাড়তে নারাজ শুক্লা। তিনি বলেন, বিবাহনুষ্ঠানে কনে সাজিয়ে যা রোজগার হয়, তা দিয়ে স্বনির্ভরতার পাঠ ও অন্য সামাজিক কাজে ব্যয় হয়ে যায়। আবার চা-বাগানের অনেক মেয়েরা বিয়েতে টাকা খরচ করে সাজগোজ করতে পারে না। তাদেরকেও বিনামূল্যে সাজগোজ করিয়ে বিয়ের পিড়িতে বসাতে হয় তাঁকে। শুক্লা দেবনাথের কাজে খুশি এলাকার মানুষ।