কোচবিহারের মনসা পট : জনপ্রিয়তায় প্রান্তিক হয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গের এই ঐতিহ্য

শ্রাবণের মেঘলা ভোরে নীরবে বয়ে চলেছে স্রোতস্বিনী তোর্সা নদী। তার এগিয়ে চলার পথে পলি পড়ে চড়া তৈরি হলেও স্থির প্রত্যয়ের সঙ্গে সে এগিয়ে চলেছে নিজের গন্তব্যের অভিমুখে। ভোরের প্রথম রক্তিম সূর্যের গায়ে মেঘের আস্তরণ গ্রামীণ কোচবিহারকে আরো মরমী করে তুলেছে। সরু আঁকাবাঁকা পথের ধারে বিক্ষিপ্ত টিনের নকশা করা ছোটো বাড়িগুলো ঘুম ভেঙ্গে উঠে পড়েছে। ঘন বিশালাকায় গাছের ছায়ায় ডোবার মধ্যে জন্ম নিয়েছে ফুল। জলমগ্ন ক্ষেতে নতুন অঙ্কুরিত ধান মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। পুরনো ধানের গোলাগুলো প্রবেশদ্বারের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। এমনই আবহে বাংলার ঐতিহ্যশালী মনসা পটকে বাঁচিয়ে রেখেছেন উত্তরবঙ্গ—কোচবিহারের ভেটাগুড়ি বালাডাঙ্গা গ্রামের মালাকার সম্প্রদায়ের শিল্পীরা।

বর্তমানে এই গ্রামের দশটি পরিবার এই শিল্পের ধারাকে বহন করে চলেছে। এই গ্রামে মনসার বিষহরি পট, কানি বিষহরি পট আজও অঙ্কিত হয়। কিন্তু বর্তমান সময় শোলার দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজার চলতি আর্ট পেপারের ওপর মনসা পট অঙ্কিত হয়ে থাকে।

এই গ্রামে শোলার উপর মা মনসার পট অঙ্কনের রীতি ও ঐতিহ্য রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে স্থানীয় শোলা শিল্পী লক্ষ্মণ মালাকার জানিয়েছেন, শোলার ওপর মনসা পট অঙ্কনের ঐতিহ্য বংশপরম্পরায় এই গ্রামে মালাকার সম্প্রদায়ের শিল্পীরা এগিয়ে নিয়ে চলেছে। বর্তমানে এই গ্রামের দশটি পরিবার এই শিল্পের ধারাকে বহন করে চলেছে। এই গ্রামে মনসার বিষহরি পট, কানি বিষহরি পট আজও অঙ্কিত হয়। কিন্তু বর্তমান সময় শোলার দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজার চলতি আর্ট পেপারের ওপর মনসা পট অঙ্কিত হয়ে থাকে। লক্ষ্মণবাবুর একটি হাত অকেজো। তিনি প্রতিবন্ধী। কিন্তু এই প্রতিবন্ধকতা শিল্পী হিসেবে তাঁর চলার পথকে অবরুদ্ধ করতে পারেনি। পিতা ষষ্ঠী মোহন মালাকারের কাছে মাত্র ৯ বছর বয়সে মনসা পট তৈরির হাতে খড়ি হয় লক্ষ্মণ মালাকারের। বর্তমানে তার বয়স ৫৬। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শিল্পধারাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। নিজের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে দিয়েছেন এই শিল্পের রীতি। মনসা পট ছাড়াও তিনি শোলার কালিমুখা, মাসান ঠাকুর তৈরি করেন। এ ছাড়াও টোপর, দেবতাদের শোলার গহনা, শোলার ফুল তিনি তৈরি করে থাকেন। তাঁর তৈরি মনসা পট শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও পড়শি রাজ্য অসমে যায়। প্রতিবছর প্রায় দু’হাজারের মতো মনসা পট তিনি অঙ্কন করে থাকেন। এই বিপুল কর্মযজ্ঞে তিনি পাশে পান পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। মনসা পুজোর বিভিন্ন আঙ্গিকের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, যে তাঁর পরিবারে মা মনসার ডেলা পুজো হয়। সেই পুজোতে মনসার বিভিন্ন ধরনের পটকে পুজো করা হয়। এই পটের মধ্যে রয়েছে বিষহরি এবং কানি বিষহরি। এছাড়াও থাকে সম্পূর্ণ শোলার তৈরি মূর্তি গোদা ও গুদি (গোদা ও গুদির ছবির দেখে তাদের শারীরিক গঠনশৈলী পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদকের মনে হয়েছে এই দুই চরিত্র আদতে চাঁদ সওদাগর ও সনকা)। এদের পেছনে থাকে দুই জন সেপাই। কোনও প্রকার ছাঁচ ব্যবহার না করে এই মূর্তিগুলি তৈরি হয়ে থাকে। শোলাকে ‘কাইত’ নামক ধারালো যন্ত্র দিয়ে কেটে, কাগজের মতো হাল্কা করা হয়। এরপর গুঁড়ো রং প্রয়োগ করে অঙ্কিত হয় মা মনসা। ভেটাগুড়ি বাজারের সিংহীজানি অঞ্চল থেকে শোলা সংগ্রহ করেন শিল্পীরা। লক্ষ্মণ মালাকারের কথায়, এখানকার মালাকার সম্প্রদায়ের শিল্পীরা ছাড়াও বর্মণ পদবিধারী মানুষরাও এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে শ্রাবণ সংক্রান্তিতে যে মনসা পুজো হয় তার অঙ্কন করেন এই পাড়ার বছর ৬৪-র শোলা শিল্পী ধীরেন্দ্র মালাকার। এছাড়াও নিজের অপ্রশস্ত টিনের ঘরে মাটির মেঝেতে বসে তিনি মনসার বিভিন্ন ধরনের পট সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি করে থাকেন। সদ্য লেপা মাটির মেঝের উপর দাঁড়িয়ে শিল্পী দুঃখ করে বলেন যে, প্রকৃত শিল্পীর জীবনে আনন্দ বলে কিছু হয় না। একজন শিল্পীর জীবন দুঃখ ও কষ্টে জড়ানো থাকে। অপর্যাপ্ত পরিসরের মধ্যে দাঁড়িয়ে এই গরমের মধ্যেও তিনি নিজের শিল্পসাধনা থেকে সরে আসেননি। শোলা শিল্পী হিসেবে তিনি কোনও সরকারি ভাতা পাননি। এমনকি বার্ধক্য ভাতা তাঁর ভাগ্যে জোটেনি। তাঁর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম এই শিল্পধারা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। তারা বেছে নিয়েছে অন্য পেশা। তাঁর তৈরি মনসা পট কোচবিহার, ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কালিয়াগঞ্জে যায়। কোন অঞ্চলে মনসার কোন পটের চাহিদা সর্বাধিক বেশি সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করতে গিয়ে ধীরেন্দ্র মালাকার জানিয়েছেন, মনসার বিষহরি পটের চাহিদা সর্বাধিক বেশি হচ্ছে কোচবিহারে। আবার মা মনসার পট করণ্ডির পুজো করে থাকেন পাবনা ও ময়মনসিংহ থেকে এপারে আসা পরিবারগুলো। এই পাড়ায় মালাকার পরিবারগুলোর আদি নিবাস হচ্ছে পূর্ববঙ্গের রংপুর। কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে মনসা পুজো সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এখানে মূলত মা মনসার পটে পুজো হয়ে থাকে। এই পটগুলির সর্বাধিক উচ্চতা সাড়ে সাত ফুট এবং সর্বনিম্ন উচ্চতা সাড়ে তিন ফুট। মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি এই পট তৈরির জন্য বছরের শুরুর দিকেই চুক্তিবদ্ধ হন। তারপর চলে পট তৈরির কাজ।

এই পাড়ায় মালাকার সম্প্রদায়ের তৈরি মনসা পটের বিভিন্ন শৈলী রয়েছে; তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিষহরি পট। ত্রিকোণাকৃতি এই পটের মধ্যবর্তী স্থানে বিরাজ করেন মা মনসা। স্বাস্থ্যবতী বঙ্গরমনীর বিন্যাস ফুটে ওঠে এই পটের মধ্যে। মুখের গঠনের মধ্যেও বাঙালি রমনীর মাতৃত্বের ছাপ সুস্পষ্টভাবে প্রস্ফুটিত হয়। লাল শাড়িতে পদ্মাসনে বসে থাকেন মা মনসা। তার মাথার ওপর বিরাজ করেন মহাদেব। সরু তুলির টানে মহাদেবের চোখে নেশাতুর ভাবকে ফুটিয়ে তোলা হয়। চতুর্ভুজা মনসার দুই প্রান্তে দেখা যায় দুটি হাঁসকে। চতুর্ভুজা মনসার প্রথম দুটি হাতের মধ্যে ধরা থাকে সাপ। অপর দুটি হাতে অভয় মুদ্রায় আশ্বস্ত করেন ভক্তদের। ত্রিকোণাকৃতি এই পটের তিনটি কোণ শোলা দিয়ে তৈরি হয়। আগে মনসার ছবিও শোলার ওপর আঁকা হতো, এখন তা আর্ট পেপারের ওপর হয়। সরু তুলির ব্যবহার দেখা যায় মনসার এই বিষহরি পটের মধ্যে। পটের গঠনের মধ্যে লোকজ আঙ্গিক স্পষ্টভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। পটের ঠিক মাথায় বসানো হয় শোলার তৈরি সাপ। এই পটকে স্থানীয় শিল্পীরা পদ্মা পটও বলে থাকেন। বছরের ১২ মাসই এই পটের চাহিদা থাকে।

এখানে নির্মিত মনসার অপর একটি পটের নাম হলো, কানি বিষহরি পট। ত্রিকোণাকৃতি এই পটের মধ্যে মনসার মুখের একটি দিক দেখতে পাওয়া যায়। একে সাইড প্রোফাইল পিকচারও বলা হয়ে থাকে। ঘোমটা দেওয়া স্বাস্থ্যবতী বঙ্গবধূ রূপে দেখা দেন মনসা। হাতে ধরা থাকে পদ্ম। তার ঠিক নিচেই থাকে হাঁস। চুলের সিঁথির মধ্যবর্তী স্থানে উদ্যত ফণা তুলে রয়েছে সাপ। ভরাট মুখমণ্ডলে টিকলো নাক ক্ষমতার ব্যাপ্তিকে প্রসারিত করেছে। চোখের দৃষ্টিতে শান্ত উদাসীন ভক্তিভাব উন্মোচিত হয়েছে। এখানে মনসা হয়ে উঠেছেন সংগ্রামরত গ্রাম্য বধূর প্রতিচ্ছবি। অপর যে পটটি এখানে লক্ষ্য করা যায়, সেটিকে বলা হয় মা মনসার পট বা পটি। একে বিষহরি পট বলা হয় না। এই পটের ওপরের অংশটি অর্ধগোলাকৃতি। অনেকটা দুর্গাপুজোয় ব্যবহৃত হওয়া চালির মতো। এই অর্ধগোলাকৃতি অংশের ঠিক উপরে শোলার নকশা তৈরি করে অলংকৃত করা হয়েছে। পটের একেবারে নিচে বাণিজ্য তরীতে বসে রয়েছেন চাঁদ সওদাগর ও তার সহযোগী। চোখের দৃষ্টিতে অহংকার ও ক্ষমতার দম্ভ ভাব স্পষ্ট। মাথায় টুপি। তার ঠিক পাশেই মৃত স্বামী লখিন্দরকে বাঁচিয়ে তোলার প্রচেষ্টায় প্রার্থনায়রত সতী বেহুলা। এই দুটি দৃশ্যের মাঝখান থেকে একটি বোঁটা উঠে গেছে। দৃঢ়চেতা এই বোঁটার ওপর রয়েছে পদ্মফুল। ফুল যেন ছাতার মতো আচ্ছাদিত করে রেখেছে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলাকে। আর সেই পদ্মের ওপরেই বিরাজ করছেন মনসা। অষ্টনাগ তাকে ঘিরে রেখেছে। তার মাথার মুকুটের ওপর জাগ্রত রয়েছেন মহাদেব। মনসার দুই দিকে যথারীতি দুটি হাঁস। চতুর্ভুজা দেবী উপরের অংশের দুটি হাত ধরে রয়েছেন সাপ। অপর দুটি অভয় মুদ্রায় আশ্বস্ত করে চলেছেন। দেবীর গঠনে স্বাস্থ্যবতী মাতৃত্বের পূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে। সরু তুলির টানে দেবীর মুখের আদল নির্মাণ করা হয়েছে। সেই আদলে ভক্তিময়ী, করুণ ভাবুক অভিব্যক্তি লক্ষ্য করা যায়। এই পটটি মূলত শ্রাবণ সংক্রান্তিতে পূজিত হয়ে থাকে।

এই পাড়ায় মালাকার সম্প্রদায়ের তৈরি মনসা পটের বিভিন্ন শৈলী রয়েছে; তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিষহরি পট। ত্রিকোণাকৃতি এই পটের মধ্যবর্তী স্থানে বিরাজ করেন মা মনসা। স্বাস্থ্যবতী বঙ্গরমনীর বিন্যাস ফুটে ওঠে এই পটের মধ্যে।

এই পাড়ার বরিষ্ঠ শিল্পী জ্ঞানেন্দ্রচন্দ্র মালাকার। তাঁর শোলার তৈরি শিল্পকর্মের জন্য ১৯৯৩ এবং ১৯৯৫-তে জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০২৩ সালে তিনি শেষবারের মতো মনসা পট তৈরি করেছিলেন। বার্ধক্য জনিত কারণে এই শিল্প থেকে বর্তমানে অবসর গ্রহণ করেছেন। তাঁর কথায়, এখানে মূলত মা মনসার বিভিন্ন শৈলীর পটের পাশাপাশি করণ্ডি, মঞ্জুষ, সাইটোল তৈরি হয়ে থাকে। ১৯৮৮ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকারের নজরে আসে এই পাড়ার শিল্পীদের সৃষ্টি। তারপর থেকে বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিল্পীদের দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়াস হয়েছিল। শিল্পী জানিয়েছেন, নিজের তৈরি শোলার বিভিন্ন শিল্প সামগ্রী দিয়ে তিনি ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে গেছেন। তিনিই এখানকার শিল্পীদের প্রশিক্ষিত করেছিলেন। এমনকি এক দশক আগেও কলকাতায় অনুষ্ঠিত রাজ্যের হস্তশিল্প মেলায় তাঁর তৈরি শোলার শিল্পকর্ম দেখা যেত।

বর্তমানে উত্তরবঙ্গ সহ প্রতিবেশী রাজ্য অসমে এখানকার শিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন শোলার শিল্প সামগ্রী যায়। মনসা পটের পাশাপাশি শোলার তৈরি কালী মুখা বা মুখোশের চাহিদাও বিপুল পরিমাণ রয়েছে। পৌষ মাসে যখন নতুন ধান ওঠে তখন কালী মুখোশ পরে নৃত্যের রীতি এই অঞ্চলে রয়েছে। সেই নৃত্য করে বিভিন্ন বাড়িতে মাগন করা হয়। এই পরম্পরা চড়ক পর্যন্ত চলতে থাকে। শিল্পীর পরবর্তী প্রজন্ম মনসা পট নির্মাণ করেন না। তাঁরা বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা। এই পাড়ারই অপর আরেক শিল্পী দুলাল মালাকার জানিয়েছেন, তাঁর তৈরি মনসা পট রায়গঞ্জ, ইসলামপুর, কালিয়াগঞ্জ, মালদহ, কোচবিহার, ধুপগুড়ি, মাথাভাঙ্গা, জলপাইগুড়ির দিকে যায়।

উল্লেখ করা যেতে পারে, বর্তমানে প্রচারের আলো থেকে অনেকটাই দূরে অবস্থান করছেন এখানকার শিল্পীরা। প্রতি বছর কলকাতায় অনুষ্ঠিত হওয়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য হস্তশিল্প মেলা এবং জেলাভিত্তিক সবলা মেলাগুলিতে এখানকার মনসা পট দেখা যায় না। দক্ষিণবঙ্গের অখণ্ড মেদিনীপুর পিংলার নয়া গ্রামের জড়ানো পট আজ জগৎবিখ্যাত হয়ে উঠেছে। এমনকি বিষ্ণুপুরের দুর্গাপটও আভিজাত্যের বৈঠকখানায় শোভিত হয়ে চলেছে। অথচ এখানকার তৈরি মনসা পট বাংলার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু বর্তমানে সার্বজনীন জনপ্রিয়তা থেকে সে প্রান্তিক হয়ে রয়েছে। নিত্য আর্থিক অনটন ও পর্যাপ্ত বিপণনের অভাবে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারছে না এখানকার মনসা পট।

Written by
Developed by DXDasia