
ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অধীনে এই মুহূর্তে ৪০ জন মেয়ে কাজ শিখছেন
তরাই অঞ্চলে একের পর এক চা বাগান। মেয়েরা আসছে যাচ্ছে। চা পাতা তুলছে। অনেকসময় পাতা তোলার কাজ থাকে না তাঁদের। বড়ো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেকসময় বাড়ির অভিভাবকরা কমবয়সী মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিতে চান। কোনো কোনো সময় পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে মেয়েরা। এই অবস্থায় শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসি দেওয়া অঞ্চলে পাহাড়গুমিয়া চা বাগানে চা শ্রমিক মেয়েদের হাতের কাজ শিখিয়ে স্বনির্ভরতার জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে তরাই টি গার্ডেন ওয়ার্কার্স এন্ড লেবার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। সংস্থার তরফে সভাপতি ইলা দে এবং তাঁর কন্যা তথা সম্পাদিকা লীপাখি দে দিনের পর দিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তরাইয়ের ওই চা বাগানে।

ওই ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অধীনে এই মুহূর্তে ৪০ জন মেয়ে আছে যাঁরা হাতের কাজ শিখছেন। চা বাগানে পাতা তোলার কাজ শেষ হলেই কেউ ব্যাগ তৈরি করতে নামে। কেউ খেলনা তৈরি করে, কেউবা বিশেষ ধরনের আয়না তৈরি করে। তার সঙ্গে চলে সেলাইয়ের কাজ। আর্থিক সংকটে থাকা শ্রমিকদের বাবা মায়েরা অনেক সময় তাদের মেয়ে পনেরো-ষোল বছরে পা দিলেই বিয়ের কথা ভাবতে থাকেন। সোসাইটির সম্পাদিকা জানালেন, তাঁরা চা শ্রমিকদের পরিবারের বাল্য বিবাহের কথা জানতে পারলেই দৌড়ে যাচ্ছেন। তারপর বাল্যবিবাহ আটকে সেই মেয়েদের হাতের কাজ শেখাচ্ছেন। একইভাবে অর্থের অভাবে থাকা যেসব মেয়েদের চাকরির টোপ দেখিয়ে বাইরে পাচারের চেষ্টা করছে, তারা জানতে পেরে সেই প্রচেষ্টাও রুখে দেওয়ার কাজে নেমেছেন স্বনির্ভরতার মাধ্যমে। চা শ্রমিকদের মেয়েরা অনেকেই এখন চা পাতা তোলা ছাড়া হাতের কাজের বিভিন্ন তালিম নিয়ে হাতে দুটো অতিরিক্ত পয়সা পাচ্ছে। ফলে তাদের মানসিকতাও অন্যরকম হয়ে উঠছে। হয়ে উঠছে স্বনির্ভর।

শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া অঞ্চলের পাহাড়গুমিয়া চা বাগানের বস্তি এলাকাগুলোতে শুধু বাল্য বিবাহই নয়, শিক্ষা সংস্কৃতির অভাবও একটা বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটি সেদিকের কথা মাথায় রেখে চা বাগানে শিক্ষা ও সংস্কৃতির কাজও করছে বলে সম্পাদিকা জানালেন। আর তাদের এই ধরনের কাজে খুশি হয়ে এগিয়ে এসেছেন শিলিগুড়ির সমাজসেবিকা জ্যোৎস্না আগরওয়াল। তাঁদের সংস্থা উত্তরবঙ্গ পৌষ মেলা কমিটির মাধ্যমে চা বাগানের নেহা খাতুন, শাহিনা খাতুন, কোরেশিয়া খাতুন, রূপসা বেগমের মতো মেয়েদের হাতে স্বনির্ভরতার জন্য সেলাই মেশিন প্রদান করেছেন। রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রাক্তনসদস্যা জ্যোৎস্নাদেবী বলেন, অর্থের অভাবে চা বাগানের মেয়েদের বাল্যবিবাহ এবং বাইরে পাচার করে দেওয়া একটি বড়ো সমস্যা। সেদিক থেকে পাহাড়গুমিয়া চা বাগানে তরাই টি গার্ডেন ওয়ার্কার্স অ্যান্ড লেবারার্স ওয়েলফেয়ার সোসাইটি শুরু করেছে এক নজিরবিহীন কাজ। মেয়েদের পাশে তাঁরা সবসময় থাকবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

