‘চারুলতা’ থেকে ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ – পর্দায় আবার সৌমিত্র-মাধবী ম্যাজিক

শুরু হয়েছিল সেই ১৯৬৪ সালের ‘চারুলতা’ দিয়ে, সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে

পথ চলা শুরু হয়েছিল সেই ১৯৬৪ সালের ‘চারুলতা’ দিয়ে, সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে। চারু আর অমলের মধুর সম্পর্ক বাঙালির নস্টালজিয়ায় বার কতক ঘা মেরেছিল। এই ঘা আঘাতের নয়, হন্ট করার। বিশ্ব চলচ্চিত্র খুঁজে পেয়েছিল নতুন জুটিকে। সৌমিত্র-মাধবী। আজও তাঁদের কথা উঠলে প্রথমেই সানন্দের সঙ্গে উচ্চারিত হয় ‘চারুলতা’ চলচ্চিত্রের নাম। কিংবা ধরা যাক ‘কাপুরুষ ও মহাপুরুষ’ কিংবা ‘জোড়াদিঘির চৌধুরী পরিবার’। ২০১৯ সালেও তাঁদের জুটি অমোঘ। সম্প্রতি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং মাধবী মুখোপাধ্যায় আবার ফিরতে চলেছেন অনীক দত্তের নতুন ছবিতে। 

বরুণ চক্রবর্তী একলা থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। সংসারে তিনি বেশ উদাসীন। পরিবারে তিনি আছেন কিনা – তাই টের পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সেই বরুণবাবু হয়ে উঠলেন হঠাৎ সেলেব্রিটি। তাঁরই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সৌজন্যে। বন্ধু কথা দিয়েছেন, বরুণবাবুর জন্মদিনে আসবেন। আর এই বন্ধুর আসা নিয়েই বাড়িতে পড়ে গেছে হুলস্থুল কাণ্ড। কিন্তু বন্ধু কোথায়! সমস্ত মিডিয়া পৌঁছে গেছে। অথচ বন্ধুর দেখা নেই। এমন সময় হুটার লাগানো গাড়ির দরজা খুলে মাটিতে পা ছোঁয়ালেন বরুণবাবুর বন্ধু। আসলে কে তিনি? জানা যাবে আগামী ৩ জানুয়ারি অনীক দত্তের নতুন ছবি ‘বরুণবাবুর বন্ধু’র সৌজন্যে।

বরুণবাবুর বন্ধু ছবিতে মাধবী মুখোপাধ্যায় ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় 

রমাপদ চৌধুরীর ‘ছাদ’ ছোটোগল্প অবলম্বনে এই ছবিতেই আবার ফিরে আসছেন সৌমিত্র-মাধবী। সাংবাদিক সম্মেলনে অনীকবাবু জানিয়েছেন, “বরুণবাবুর মতো লোক আমি অনেক দেখেছি। যাঁরা খাপ খাইয়ে নিতে পারেননি পরিবার বা সমাজের সঙ্গে। ফলে সময়ের ধাক্কায় তাঁরা প্রান্তবাসী। তাঁরা তাঁদের পথে চলতে ভালোবাসেন। কিন্তু বিশেষ কোনও মানুষের কারণে যখন লাইমলাইটে চলে আসেন, তখন সবাই কী করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন, সেটাই ছবির বিষয়।” এমনকি এ-ও জানিয়েছেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং মাধবী মুখোপাধ্যায় রাজি না হলে এই ছবিই সম্পূর্ণ হত না। সেইসঙ্গে অসংখ্য বাঙালি অপেক্ষা করে আছে পর্দায় আবার এই জুটিকে দেখবেন বলে। সেই সঙ্গে শুনবেন বরুণবাবুর বন্ধুরা আসলে ঘরে ঘরে রয়েছে। আমরা তাঁদের খোঁজ রাখি না। খোঁজ রাখি না বরুণবাবুর মতো একা মানুষদেরও।

Developed by DXDasia