
এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল
নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশন (New Jalpaiguri Station) শুধুমাত্র সাধারণ যাত্রী নয়। পর্যটকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই একটি আকর্ষণীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল (Northeast Frontier Railway)। তৈরি হচ্ছে নতুন ‘টয় ট্রেন-রেস্তরাঁ’ (Rail Restaurant)। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (Darjeeling Himalayan Railway)-এর টয় ট্রেনের দুটি বাতিল কোচ নিয়ে একটি রেস্তোরাঁ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে NFR৷ প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এনজেপি-কে একটি বিশ্বমানের রেলস্টেশন হিসাবে গড়ে তোলার জন্য ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এই নবনির্মান পরিকল্পনার মধ্যেই যুক্ত রয়েছে টয় ট্রেন-রেস্তরাঁটি। রেলকর্মকর্তাদের আশা রেস্তোরাঁটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। কারণ, এখানে যাত্রীদের ভালো ও উন্নতমানের খাবার সরবরাহ মূল লক্ষ্য। সেই সূত্রে রেলের আয় বাড়ার সম্ভাবনাও বিপুল।
এনজেপি স্টেশনে এটি হবে এই ধরনের দ্বিতীয় রেল-রেস্তোরাঁ। এর আগে স্টেশনের প্রবেশদ্বারে একটি বাতিল ব্রডগেজ কোচ নিয়ে তৈরি এরকম আরেকটি রেস্তোরাঁ খোলা হয়েছিল।
এই নতুন রেস্তোরাঁটি অবশ্য দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মের কাছে স্টেশনের ভিতরে থাকবে। জানা যাচ্ছে, রেস্তোরাঁটি চালানোর জন্য একটি কোম্পানিকে টেন্ডার দেওয়া হবে । একইভাবে পাহাড়ের ঘূম স্টেশনে রেস্তোরাঁ খোলার কথাও ভাবছে রেল।
এর আগে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছিলেন যে সুকনা, তিন্ধরিয়া, কার্সিয়ং এবং দার্জিলিং স্টেশনে রেল-রেস্তোরাঁ খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কবে নাগাদ এই রেস্তোরাঁগুলো চালু হবে সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টয় ট্রেন স্টেশনে এই ধরনের রেল-রেস্তোরাঁ রেলের জন্য অতিরিক্ত রাজস্ব আনতে পারে এবং পর্যটন বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে বলে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
NFR প্রধান জনসংযোগ আধিকারিক সব্যসাচী দে বলেন, এনজেপি স্টেশনের প্রবেশদ্বারের রেল-রেস্তোরাঁটি ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়। “অনেক ভ্রমণকারী এবং পর্যটক এই রেস্তোরাঁয় খাওয়া দাওয়া করে। একবার দ্বিতীয় রেস্তোরাঁটি চালু হলে, যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মেই খাবার খেতে পারবেন।” তিনি বলেছিলেন।
ভারতীয় রেল ২০২০ সাল থেকে পরিত্যক্ত কোচে এই ধরনের রেস্তোরাঁ চালু করেছে। আসানসোল স্টেশনে ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০-তে প্রথম এই ধরনের রেস্তোরাঁর উদ্বোধন করা হয়েছিল। ভারতের অন্যান্য স্থান, যেমন ভোপাল এবং জবলপুরেও এরকম রেস্তোরাঁ রয়েছে।
