টোমেটো চাপিলার ভুনা: ওপার বাংলার স্বাদ এপারের হেঁসেলে

এমন মাছ না চাখলে বাঙালিজন্মের বারো আনাই মাটি

‘খেঁদুবাবুর এঁধো পুকুর, মাছ উঠেছে ভেসে
পদ্মমণি চচ্চড়িতে লঙ্কা দিল ঠেসে।’

মাছের সঙ্গে এমন আদিখ্যেতার সম্পর্ক বাঙালির চিরকালের। মাঝেমাঝে মনে হয় ‘ভেতো বাঙালি’ না বলে ‘মেছো বাঙালি’ বললেই বোধহয় আমাদের জিনকে ঠিকঠাক ব্যখ্যা করা যেত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই ছড়া তাই যেন গ্রাম বাংলার ঘরে-ঘরের ধর্মসত্য। ঘরের বাইরে একচিলতে পুকুর কিংবা পথের ধারে নয়ানজুলি। সেখান থেকে টুক করে মাছ ধরলেই বাড়িতে ভোজের আনন্দ। ঈশ্বর গুপ্ত লিখেছিলেন না, ‘ভাত-মাছ খেয়ে বাঁচে বাঙ্গালি সকল/ ধানে ভরা ভূমি তাই মাছ ভরা জল।’

অবশ্য শহরে পুকুরের আর দেখা মেলে না। মফস্‌সলেও জলাভূমি কমছে। কিন্তু, মাছের আশা তো ছাড়তে শিখিনি আমরা। তাই, বাজারে গিয়ে হা-পিত্যেশ হয়ে দরদাম করি। রুই, কাতলা, বোয়াল, চিংড়ি ছাড়াও অন্য মাছের খোঁজ চলে। পুঁটি, মৌরলার ভিড়ে যদি চাপিলা মাছের দেখা মেলে, তাহলে তো হাতে চাঁদ পাওয়ার দশা। এই এক মাছ যেন দুই বাংলার সেতু। ওপার বাংলায় চাপিলা মাছের কত পদ। এপার বাংলাতেও সেইসব রান্নার লোভ ধরানো গন্ধেরা উজিয়ে আসে মাঝেমাঝেই। বাংলার আবার এপার-ওপার! চাপিলা মাছকে নিয়েও একই কথা সাজে। এমন মাছ না চাখলে বাঙালিজন্মের বারো আনাই মাটি। 

আজ তাই চাপিলা মাছেরই পদ। পদের নাম চাপিলা টমেটো ভুনা। মোটেই কঠিন রেসিপি নয়। শুধু মন দিয়ে রাঁধতে হবে, এই যা।

উপকরণ:

চাপিলা মাছ- ৮ টুকরো
পেঁয়াজবাটা- ১টি মাঝারি আকারের
আদাবাটা- ১ চা-চামচ
হলুদগুঁড়ো- ১ চা-চামচ 
জিরেগুঁড়ো- ১ চা-চামচ
লঙ্কাগুঁড়ো- ১ চা-চামচ
টমেটোকুচি- ১টা বড়ো আকারের
কাঁচালঙ্কা – ৪টে
ফোড়নের জন্য গোটা জিরে
নুন, সরষের তেল, জল পরিমাণমতো 

প্রণালি:

প্রথমে মাছগুলো নুন, হলুদ মাখিয়ে ভেজে একটি পাত্রে তুলে রাখুন। এবার কড়াইয়ে তেল দিয়ে গরম হলে তাতে জিরে ফোড়ন দিন, পেঁয়াজবাটা দিয়ে নাড়তে থাকুন। এরপর সামান্য জলে আদাবাটা আর গুঁড়ো মশলাগুলো দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে মিশ্রণটি কড়াইতে ঢেলে দিন। মশলা ভালো করে কষিয়ে গোটা কাঁচালঙ্কা চিড়ে দিন এবং নুন দিন। এরপর পরিমাণমতো জল দিন। জল ফুটে উঠলেই তাতে মাছগুলো দিয়ে দিন এবং মিনিট দশ ঢাকা দিয়ে রাখুন। মিনিট দশ পর ওপর থেকে সামান্য সরষের তেল ও ধনেপাতা ছড়িয়ে দিয়ে নামিয়ে নিলেই তৈরি টমেটো চাপিলার ভুনা।

Developed by DXDasia