মুইদিপুর গ্রামে দামোদর পারাপারের একমাত্র সাঁকো তৈরি করেছেন এই বৃদ্ধ

গ্রামের নাম মুইদিপুর, জামালপুর থেকে দশ কিলোমিটারের দূরত্ব

“নদী কোথা হতে এল নাবি…”

গন্তব্য বর্ধমানের দামোদর নদ থেকে মুণ্ডেশ্বরি নদীর উৎস স্থলের দিকে। গ্রামের নাম মুইদিপুর। জামালপুর থেকে দশ কিলোমিটারের দূরত্ব। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। যেখানে গ্রাম্য সরলতা ভরা কিছু সময় এখনও বিলুপ্ত হয়নি। চারদিকে সারি সারি বাঁধা আছে ছোটো বড়ো ডিঙা। সবুজ ডাঙা ভরে গেছে ঘাসে। অদেখা গ্রাম্য জীবনের ক্যানভাস বদলে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে।

দামোদরের ওপর এক সরু বাঁশের সাঁকো। এটাই মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। একজন বয়স্ক মানুষ এই সাঁকোটি তৈরি করে গ্রামবাসীদের যাতায়াতের সুবিধা করে দিয়েছেন। বৃদ্ধকে গ্রামের সবাই বেচা বলে ডাকে। তাঁর পুরো নাম কী কেউ জানেন না, এমনকি তিনিও বলতে নারাজ। সাঁকো পারাপারের জন্য নেন পাঁচ টাকা। নদের পাশেই একটা অস্থায়ী ঘরে সারাদিন থাকেন। প্রতি বর্ষায় ভেঙে যায় সাঁকো, নদের দুপারে হাঁটু সমান জল। গ্রামবাসীদের ভারি কষ্ট হয়। সেই বিপদে পাশে থাকেন বেচা। এই বৃদ্ধ মানুষটি নৌকা করে গ্রামবাসীদের পার করে দেন।

সাঁকো পারাপারের জন্য নেন পাঁচ টাকা। নদের পাশেই একটা অস্থায়ী ঘরে সারাদিন থাকেন। প্রতি বর্ষায় ভেঙে যায় সাঁকো, নদের দুপারে হাঁটু সমান জল। গ্রামবাসীদের ভারি কষ্ট হয়। সেই বিপদে পাশে থাকেন বেচা।

বর্ষার সময় ফুলেফেঁপে ওঠে দামোদর। এই নদীগর্ভ যেমন সমৃদ্ধ সম্পদে পরিপূর্ণ করে রেখেছে মানুষকে, বড়ো বড়ো খনি ও শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠেছে, তেমনই এই দামোদরকেই একসময় বলা হত ‘বাংলার দুঃখ’। তবে গরম পড়তেই তার জলস্তর নেমে যায় অনেকখানি। নদের পাশেই তখন বোরো ধানের চাষ হয়।

পূর্ব বর্ধমানের এই অঞ্চলের দামোদর সারা বছর বৃদ্ধ মানুষটির পেট চালায়। কখনও নদীর ওপর সাঁকো ভেঙে গেলে তিনি বেতের সুতো দিয়ে তাকে বেঁধে পাকাপোক্ত করে গড়ে তোলেন। আবার একইভাবে মাঠে ফসল ফলান। দুপুরে নদীর পাশে ভাঙা ঘরে খাওয়া সেরে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে নেন। স্নান দামোদরের জলেই। এরপর আবার তিনি রুজির টানে নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে যান।

জীবন যেন একটি বিশালাকায় নদী। কলকল আওয়াজে সে বয়ে চলেছে। শৈশব আসে, যৌবন আসে, একসময় বুড়ো হয় নদী। এই বৃদ্ধের মতোই।

_____

ছবিঃ প্রতিবেদক

Developed by DXDasia