চাঁদের অন্ধকারে পাড়ি দিয়ে ইতিহাস গড়ার পথে বাঙালি বিজ্ঞানীর শ্যাডো ক্যামেরা

চাঁদের ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন’ অংশ এখনও অজানা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে

হু বছর কেটে গেছে চাঁদের মাটিতে সফল পদার্পণ করেছে পৃথিবীর মানুষ–মহাকাশচারী। কিন্তু, এত বছর পরেও বিজ্ঞানীদের অন্যতম আলোচনার বিষয় চাঁদের ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন’ অংশ, যা এখনও অজানা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে। তবে, এবার সেই অজানাকেই আবিষ্কার করতে চলেছে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির বাঙালি বিজ্ঞানী প্রসূণ মহান্তির শ্যাডো ক্যামেরা। আগামী বছর অগাস্ট মাস নাগাদ তাঁর তত্ত্বাবধানে তৈরি এই ক্যামেরা কেপ ক্যানাভেরাল থেকে স্পেস-এক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটে চড়ে পাড়ি দেবে চাঁদের অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশে।

এই প্রথম কোনও মহাকাশযান পাঠাতে চলেছে দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ‘কোরিয়ান অ্যারোস্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (কেএআরআই)। এতে সওয়ার হয়েই ইতিহাস গড়তে চলেছে বাঙালি বিজ্ঞানীর শ্যাডো ক্যামেরা। চাঁদের কক্ষপথে তা স্থাপনের পর এক বছর ধরে চন্দ্রপৃষ্ঠের ১০০ কিলোমিটার উপর থেকে অন্ধকার অংশের ছবি তুলবে।জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের এই অন্ধকারে রয়েছে বহু মূল্যবান সম্পদ। সেকারণেই বিস্তারিত গবেষণার জন্য ২০১৭ সালে এই ক্যামেরা তৈরির কাজ শুরু হয়। নেতৃত্বে ছিলেন বিজ্ঞানী মার্ক রবিনসন। শ্যাডো ক্যামেরার সাহায্যে যদি ওখানে মূল্যবান খনিজের সন্ধান মেলে, তবে এই সংক্রান্ত গবেষণা অন্য মাত্রায় পৌঁছে যাবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে চাঁদের এই অংশে মহাকাশচারীরা যদি কোনওদিন নামতে পারেন, তবে সেই অভিযানে সহায়তা করবে শ্যাডো ক্যামেরায় তোলা ছবি। ইতিমধ্যে এই ক্যামেরার সবরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে।

একটি সংবাদপত্রে দেওয়া প্রসূণ বাবুর বিবৃতি অনুযায়ী, চাঁদের অন্ধকার অংশে কী রয়েছে, সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও স্পষ্ট কোনও ধারণা নেই। সেখানকার খনিজ বস্তু থেকে শুরু করে আবহাওয়া—সব কিছু বুঝতেই সহযোগিতা করবে এই ক্যামেরা।

 

 

 

Developed by DXDasia