
ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যাল ২০২১ উদ্বোধন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
২০২০ সালে প্রায় সারা বছর ধরে চলেছিল কোভিডের তাণ্ডব। ২০২০ সালকে ইতিহাস মনে রাখবে অতিমারির জন্য। ২০২১-এও কোভিড পিছু ছাড়েনি। এসেছে দ্বিতীয় ঢেউ। এই টানা দেড় বছর আপনজনকে হারিয়েছেন কত মানুষ, পৃথিবী বদল গিয়েছে দ্রুত। তবুও কিছু আশার মাঝে লুকিয়ে আছে চিরন্তন উৎসব। অনেকটা আলোর মতো। উৎসব শুধুই কি বাইরের চাকচিক্য আর আগন্তুকদের ভিড়? আমরা বরং এইভাবে ভাবি— মহামারির বিরুদ্ধে জীবনের উদযাপন। এবারেও সেই রেশ থাকবে। উৎসবের মধ্যেই নতুন বছরকে স্বাগত জানাব আমরা।
বাংলার অন্যতম বড়ো উৎসব ক্রিসমাস। পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অনুপ্রেরণায় ২০১১ সাল থেকে শুরু হয়েছে কলকাতা ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যাল। এ বছর তার ১১তম সংস্করণ। যা আজ, ২০ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে শুরু হল। কলকাতা ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যালের আয়োজক পর্যটন দপ্তর। সহযোগিতায় কলকাতা পৌর কর্পোরেশন, কলকাতা পুলিশ, তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং এপিজে সুরেন্দ্র গ্রুপ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন দপ্তরের মাননীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, মাননীয় সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন, আইএএস মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, আইএস স্বরাষ্ট্র সচিব বি পি গোপালিকা, পর্যটন দপ্তরের আইএএস প্রধান সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, আইপিএস নগরপাল সৌমেন মিত্র, আর্চবিশপ অফ ক্যালকাটার রেভারেন্ড টমাস ডিসুজা এবং অবসরপ্রাপ্ত রেভারেন্ড ড. পরিতোষ ক্যানিং।
আজ বিকেল সাড়ে চারটেয় অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেস্টিভ্যাল চলবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এদিন উদ্বোধনী ভাষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। ফেস্টিভ্যালের সারমর্মকে স্মরণ করার জন্য আজ থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত কলকাতার পার্ক স্ট্রিট, অ্যালেন পার্ক, সেন্ট ক্যাথেড্রাল চার্চ এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের পুরো অংশকে যথাযথভাবে আলোকিত করা থাকবে। এই সময়কালে সমস্ত কোভিড সুরক্ষা প্রোটোকল অনুসরণ করে বাংলার নেতৃস্থানীয় বিশিষ্ট শিল্পীদের নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অ্যালেন পার্কের ভিতরে পর্যটন বিভাগের তথ্য কিয়স্ক এবং একটি প্রাথমিক চিকিৎসার স্টলও করা হয়েছে।
অন্যান্য বছরের মতো এবারেও প্রত্যেক সন্ধ্যায় ক্রিসমাস ক্যারোল গাইবেন বিভিন্ন গায়কদল। তারপর শুরু হবে মূল পারফরম্যান্স। কলকাতা ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যালের প্রধান সমন্বয়কারী মাইকেল শেন ক্যালভার্ট বলেছেন, বিভিন্ন ভাষাভাষী দর্শক ও শ্রোতারা এই ফেস্টিভ্যালে ভিড় জমান। তাই প্রত্যেকের কথা মাথায় রেখে ক্যারলগুলি গাওয়া হবে ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা এবং নেপালি ভাষায়। ক্যালভার্ট আরও জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের উপর জোর দেওয়া তো হবে অবশ্যই, পাশাপাশি তাঁরা গুরুত্ব দেবেন যাতে সাংঘাতিক ভিড় না হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ক্যাথলিক অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল পার্ক স্ট্রিট-ক্যাম্যাক স্ট্রিট মোড়ে মাদার টেরিজা আইল্যান্ড রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে।
কলকাতার অন্যতম প্রধান উৎসব ক্রিসমাস। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রচুর মানুষ তাতে অংশ নেন। গতবারের মতো এবারেও থাকছে না খাবারের স্টল। অ্যালান পার্কের বাইরে কোনো অনুষ্ঠান থাকছে না। যাঁরা পার্ক স্ট্রিট যেতে পারবেন না, তাঁদের জন্য রয়েছে ফেসবুক লাইভ।
আরও পড়ুন: শনিবারের কড়চা ১৮ – মেলাচ্ছে সেই ‘মেলা’
শুধুমাত্র কলকাতা নয়, জেলায় জেলায় আয়োজিত হবে উৎসব। দার্জিলিং, কার্শিয়াং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, চন্দননগর, ব্যান্ডেল, কৃষ্ণনগর, বারুইপুরের গির্জাগুলি এবং অন্যান্য বিশেষ কিছু জায়গা ঝলমলিয়ে উঠবে আলোয়। একইভাবে মহানগরের পার্ক স্ট্রিট আলোয় সেজে থাকবে জানুয়ারির ১০ তারিখ পর্যন্ত।

