
নতুন ও পুরোনো বিজ্ঞাপনের এবং বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট নানাবিধ প্রসঙ্গ উঠে আসবে এই পত্রিকার আলোচনায়
অলি’স বিজ্ঞাপনের বৈঠকখানা ফেসবুকের প্রযত্নে একটি সোশাল মিডিয়া গোষ্ঠী। দেশে বিদেশে ছড়িয়ে থাকা এই গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রত্যেকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে বিজ্ঞাপন জগতের সঙ্গে বা বিজ্ঞাপনের ধারক ও বাহক গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত অথবা বিজ্ঞাপনের বিষয়ে আগ্রহী। সোশাল মিডিয়ায় আড্ডা দেওয়া ছাড়াও এই গোষ্ঠীর তরফে একটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; তাঁদের প্রচেষ্টাতেই সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বাংলাভাষার প্রথম বিজ্ঞাপনের ত্রৈমাসিক ই-পত্রিকা – ‘সেকাল একাল’।
কম্পিউটার, ফোটোগ্রাফির চল না থাকায় সে সময় বিজ্ঞাপনে ইলাস্ট্রেশনের খুব ব্যবহার হতো। সেই সময় আর এই সময়ের বিজ্ঞাপনের কাজের আঙ্গিকে বিস্তর ফারাক, তবু বিজ্ঞাপনের ভিতর যে অন্তর্নিহিত শিল্পভাবনা থাকে, সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। নতুন ও পুরোনো বিজ্ঞাপনের এবং বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট নানাবিধ প্রসঙ্গ উঠে আসবে এই পত্রিকার আলোচনায়। পত্রিকাটি পিডিএফ পদ্ধতিতে অলি’স বিজ্ঞাপনের বৈঠকখানা ফেসবুকের পাতায় প্রকাশিত হবে। পড়া যাবে বিনামূল্যে। উদ্দেশ্য, পুরোনো বাংলা বিজ্ঞাপন, বাংলার বিভিন্ন বিপণন সংস্থার এবং তাদের প্রসিদ্ধ ব্র্যান্ডের ইতিহাস সংরক্ষণ করা। এছাড়াও ভবিষ্যতে নানা বিজ্ঞাপনের ও বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত বিভিন্ন লেখা সংগ্রহ করে নিজেদের একটি স্থায়ী ঠিকানা তাঁরা অন্তর্জালে বা ইন্টারনেটে তৈরি করবেন।
শতবর্ষের শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘সেকাল একাল’-এর প্রথম সংখ্যার বিষয় সত্যজিৎ রায়। যে বিজ্ঞাপন জগৎ সত্যজিতের কর্মজীবনের বুনিয়াদ, তা নিয়ে “অন্য সময় অন্য কাল” শীর্ষক লেখাটি লিখেছেন পত্রিকার প্রকাশক সুজিত সান্যাল। লিখেছেন যুগ্ম সম্পাদক ঊর্মিমালা চৌধুরী। মৃত্যুঞ্জয় চ্যাটার্জি লিখেছেন “অন্য সত্যজিৎ”, যার সৃষ্ট চলচ্চিত্রে ডায়ালগ কম, ভিজুয়াল এক্সপ্রেশনই বেশি। সুতীর্থ দাশের কলমে ধরা পড়েছে সত্যজিতের প্রথম জীবনের কথা। অপু বন্দ্যোপাধ্যায় আলোচনা করেছেন সত্যজিতের আঁকা প্রচ্ছদ নিয়ে। সংগঠনের সদস্য ছাড়াও এই সংখ্যায় কলম ধরেছেন দুই বিশেষ ব্যক্তি। হিরণ মিত্র এবং অলকানন্দা রায়। প্রথম জন আলোচনা করেছেন সত্যজিতের নিজের সিনেমার বিজ্ঞাপন পোস্টারের গড়ন ও শৈলী নিয়ে “দৃশ্যের আভিজাত্য” শীর্ষক নিবন্ধে এবং দ্বিতীয় জনের আলোচনায় উঠে এসেছে “কাঞ্চনজঙ্ঘা ছবির ডিজাইন” নিয়ে। সত্যজিৎ রায়ের করা বিজ্ঞাপন, পরিচয় লিপি, প্রচ্ছদ ও পোস্টার এই সংখ্যার অন্যতম আকর্ষণ।
প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ কিছুদিন শান্তিনিকেতনে চিত্রশিল্প নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং পথের পাঁচালী বানানো অনেক আগে সত্যজিৎ রায় কাজ শুরু করেছিলেন বিজ্ঞাপনী সংস্থা ডি জে কিমার-এ। বিজ্ঞাপনের ইলাস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে সেসময়ের দিকপালেরা ছিলেন অন্নদা মুন্সী, মাখন দত্তগুপ্ত, ও সি গাঙ্গুলি। বিজ্ঞাপনের চাকরি বেশি দিন না করলেও বিজ্ঞাপনের লোকেদের (সুভাষ সেন, শাঁটুলবাবু, প্রশান্ত সান্যাল প্রমুখ) সঙ্গে তাঁর আমরণ বন্ধুত্ব ছিল। পথের পাঁচালীর প্রথম প্রদর্শনীতে কলকাতার অ্যাডভার্টাইজিং ক্লাবের সদস্যদের সদস্যদের দেখানো হয়েছিল। ১৯৯০-এ কলকাতার অ্যাডভার্টাইজিং ক্লাব আয়োজিত কলকাতার সেরা বিজ্ঞাপনকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য বিচারক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ছিলেন। সেটাই বিজ্ঞাপনের সঙ্গে ওনার শেষ ইন্টারঅ্যাকশন। সব মিলিয়ে পত্রিকার উদ্বোধনী-সংখ্যায় সুস্পষ্ট ধরা পড়েছে কিংবদন্তী পরিচালকের অন্য এক পরিচয়, যেখানে মূর্ত হয়েছেন এক অতুলনীয় ব্যবহারিক চিত্রশিল্পী।
তথ্য ও ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অলি’স বিজ্ঞাপনের বৈঠকখানা ফেসবুক পেজ
