বাজার জুড়ে ছেয়ে গেছে ভেজাল ঘি, কেনার সময় যা যা মাথায় রাখবেন

সকালে খালি পেটে এক চামচ বিশুদ্ধ ঘি খেয়ে দেখুন, ফল পাবেন হাতেনাতে

বাড়িতে একটু ঘি থাকলে আর চিন্তা নেই। কোনও কিছু রান্না না হলেও এক থালা ভাত খেয়ে নেওয়া যাবে। সঙ্গে নুন, কাঁচালঙ্কা আর আলুভাতে হলে তো কথাই নেই। এটা আম বাঙালির মনের কথা। কিন্তু বাজার থেকে কেনা ঘি বেশিরভাগই খাঁটি হয় না। লেবেল-এ ‘খাঁটি’ শব্দটা বড়ো করে লেখে সবাই। কিন্তু তার পরেও যে ভেজাল থাকে, তার প্রমাণ অতীতে অনেক বার দেখা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও প্রশাসন বিভিন্ন সময় বাজার থেকে ভেজাল ঘি বাজেয়াপ্ত করেছে। ভেজাল ঘিয়ের কারখানায় হানা দিয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত বহু সংস্থার ঘিয়ের মধ্যে প্রাণীজ ফ্যাট অথবা হাইড্রোজেনেটেড ফ্যাট থাকে। একসঙ্গে দু’টোও থাকতে পারে। এগুলোর প্রভাব মারাত্মক। রক্ত সংবহনতন্ত্রের ক্ষতি হয়, রক্তের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, এমনকি হৃদপিণ্ডের ক্রিয়াও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় হাইড্রোজেনেটেড ফ্যাট। মানুষের মস্তিষ্ক, লিভার, কিডনিতে যার খারাপ প্রভাব পড়ে, হজমশক্তিও দুর্বল করে দেয়। যে সব ঘি-তে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়, সেগুলি খেলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়।

মনে রাখবেন, বাজারের ঘি বলে যেগুলি বিক্রি হয়, তার অনেকগুলিতেই প্রচুর পরিমাণে সাধারণ বনস্পতি (ডালডা) ও পাম তেল থাকে। গন্ধের জন্য কিছুটা ঘি মেশানো হয়। সঙ্গে থাকে রং। মোষের দুধের ঘিয়ে রং দিয়েই বানিয়ে ফেলা হয় গাওয়া (গরুর দুধের) ঘি। অনেক সময় ভেজালের পরিমাণ এমনও হয় যেখানে এক কেজির মধ্যে ৬০০ গ্রাম ডালডা আর ৩০০ গ্রাম পাম তেল থাকে। বাকি মাত্র ১০০ গ্রাম খাঁটি ঘি। এর সঙ্গে অনেক সময়ে এমন রং ব্যবহার করা হয় যা আদৌ ভোজ্য নয়। ঘিয়ের মধ্যে দানা তৈরি করার জন্যও নানা কিছু মেশানো হয়।

দ্য বেঙ্গল স্টোর শুরু থেকেই ঠিক করেছিল, খাদ্যসামগ্রীর গুণমানের সঙ্গে কোনও আপস করবো না। আর সেই ভাবনার উপর নির্ভর করেই তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রাহক সংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে।

এবার ভালো খবরে আসা যাক। বিশুদ্ধ ঘিয়ে এইসব রোগের সম্ভাবনা নেই। প্রাচীন কাল থেকেই ভারতীয়দের রান্নায় এবং আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় বিশুদ্ধ ঘি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গন্ধ যেমন সুন্দর, তেমনি খাদ্যগুণে ভরপুর। লবণহীন মাখনকে জ্বাল দিয়ে ঘি তৈরি করা হয়। মাখনের বিকল্প হিসেবে বিশুদ্ধ ঘি ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যাডিটিভ, প্রিজারভেটিভ, ট্রান্স ফ্যাট থেকে মুক্ত এটি। বিশুদ্ধ ঘি আপনি ফ্রিজে না রেখেও বছরখানেক সংরক্ষণ করতে পারবেন।

সকালে উঠে এক চামচ বিশুদ্ধ ঘি খেলে যা যা উপকার পাবেন :

>ভেজাল ঘি নয়, দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে পরীক্ষাগারে যাচাই করা বিশুদ্ধ ঘি
>বিশুদ্ধ ঘি ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়
>বিভিন্ন রকম অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, বিশেষ করে ভিটামিন-ই থাকে প্রচুর পরিমাণে। ফ্যাট দ্রবণীয় ভিটামিন, মনোআনস্যাচুরেটেড ওমেগা ৩ ইত্যাদিও থাকে, যেগুলি রক্তে কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগ কমাতে সাহায্য করে।
>ত্বক এবং মাথার ভালো ময়েশ্চারাইজার হিসেবে এটি কাজে দেবে। শুষ্ক চামড়া এবং চুলের বৃদ্ধিতে উপকারী।
>যন্ত্রণা-প্রদাহ কমাতে এবং হজম শক্তি বাড়াতে বিশুদ্ধ ঘি খুবই কার্যকরী। দুগ্ধজাত খাবার খেলে যাদের সমস্যা হয়, তারা বিশুদ্ধ ঘি ব্যবহার করতে পারেন, কারণ তাতে কেবলমাত্র দুগ্ধ প্রোটিন ল্যাকটোজ থাকে।

খাঁটি ঘি চিনবেন কী করে?

খাঁটি ঘি চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হল হাতের তালুতে কিছুটা পরিমাণ রাখা। শরীরের তাপে গলে গেলে বুঝতে হবে বিশুদ্ধ ঘি। উনুনে রেখেও গলাতে পারেন। সেই সময়ে যদি দেখেন ঘি গলতে সময় নিচ্ছে এবং হলুদ রং হয়ে যাচ্ছে তবে তা খাঁটি নয় মোটেও। আরও একটি সহজ পদ্ধতি রয়েছে। কোনও পাত্রে গরম জল করে তার মধ্যে ঘিয়ের শিশি বসিয়ে দিন। ভিতরের ঘি গলে যাবে। এর পরে ফ্রিজে রেখে দিন। যদি দেখেন গোটা শিশিতে একই রঙের জমাট বাধা ঘি তবে সেটা খাঁটি। কিন্তু ভেজাল থাকলে আলাদা আলাদা তেলের আলাদা আলাদা স্তর থাকবে। তবে খাঁটি ঘি চেনার নির্ভরযোগ্য উপায় হলো সার্টিফায়েড কোনও পরীক্ষাগারে যাচাই করে নেওয়া। ভেজাল ঘি এড়িয়ে যেতে বাড়িতে তৈরি করে নেওয়াই ভাল। তবে একান্ত না পারলে সতর্ক হয়ে কেনা উচিত। সব সময় ভালো সংস্থার ঘি কেনাই ঠিক। সেটাও পরীক্ষা করে নেওয়া ভাল। আমরা খোঁজ দিতে পারি পরীক্ষাগারে যাচাই করা বিশুদ্ধ ঘি’র।

‘দ্য বেঙ্গল স্টোর’ -এ বিগত কয়েক বছর ধরে ভেজালহীন খাদ্য সামগ্রী বিক্রি করছে এবং গ্রাহকদের বিশ্বাসযোগ্যতাও অর্জন করেছে। এই সংস্থার ঘিয়ের গুণমান বাজারের অন্য সমস্ত ঘিয়ের থেকে উন্নত, এমনকি ‘বিশুদ্ধতা’র তালিকার একেবারে শীর্ষেই রয়েছে।

বাজার চলতি কম-বেশি সব ব্র্যান্ডের ঘি-তেই ভেজাল থাকে। যাঁরা চেনেন তাঁরা ঠিক ধরে ফেলতে পারেন খাঁটি ঘি’র স্বাদ-গন্ধ। এছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষাগার তো রয়েছেই, যাচাই করলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। দ্য বেঙ্গল স্টোর শুরু থেকেই ঠিক করেছিল, খাদ্যসামগ্রীর গুণমানের সঙ্গে কোনও আপস করবো না। আর সেই ভাবনার উপর নির্ভর করেই  তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রাহক সংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে। এই অনলাইন বিপণিটি গ্রামের ঘি-প্রস্তুতকারীদের থেকে খাঁটি ঘি সরাসরি সংগ্রহ করে, যা পরখ করে শংসাপত্র দেয় আইআইটি খড়গপুর।

উপরে আলোচিত ঘি’র যাবতীয় উপকারিতা নিজে প্রত্যক্ষ করতে একবার বিশুদ্ধ ঘি ব্যবহার করে দেখুন, হাতেনাতে ফল আপনি পাবেনই।

দ্য বেঙ্গল স্টোরের ঘি কিনতে এখানে ক্লিক করুন।

 

Developed by DXDasia