
আচার খেতে ভালবাসেন না, এখনও কিন্তু এরকম মানুষ পাওয়া মুশকিল
আচার খেতে ভালবাসেন না, এখনও কিন্তু এরকম মানুষ পাওয়া মুশকিল। ভাত-পাতে এছাড়া, রুটি-পরোটার সঙ্গে আচারের স্বাদ অন্য মাত্রা এনে দেয়। আবার আচার দিয়ে যদি মুড়ি মাখেন, তার স্বাদেও কিন্তু জিভে জল আসতে বাধ্য। ঠাকুমা-দিদিমারা দৌলতে এক সময় মোটামুটি সব বাড়িতেই খোঁজ করলে লঙ্কার আচার, আমের আচার, তেঁতুলের আচার, লেবুর আচার, কুলের আচার -একটা না একটা মিলতই। ‘সেই রামও নেই! সেই অযোধ্যাও নেই।’ এই প্রবাদবাক্যটি এক্ষেত্রে একেবারে মোক্ষম! সময়, রুচি, স্বাদ সব বদলে গেছে, বদলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে, প্রজন্মের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন, আচার খেতে নিখাদ ভালোবাসেন, প্রবীণ-নবীন এরকম মানুষ এখনও আছেন। বহুসংখ্যকই আছেন। তাঁদের জন্যই মূলত এই প্রতিবেদন।
কলাপাতায় মোড়া খোসা ছাড়ানো খয়েরি রঙা পাকা তেঁতুল – বাজারে গেলেই এই মরশুমি ফলের দেখা মিলছে এখন। তেঁতুলের আচারের যা অপূর্ব স্বাদ! কিন্তু হাতের সামনে পাওয়া সহজলভ্য, খাদ্যগুণে ভরপুর এই ফলকে অনেকেই হেলাফেলা করেন। রোজ একটু করে পাতে তেঁতুল রাখলে অনেক রকম উপকার পাওয়া যায়।
হার্ট ভাল রাখে: তেঁতুল হার্টের জন্য দারুণ উপকারী। কারণ এটি কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপ রাখে নিয়ন্ত্রণে। এছাড়াও থাকে ভিটামিন সি। যা ক্ষতিকারক ফ্রি র্যাডিক্যালকে শোষণ করে। এছাড়াও থাকে পটাশিয়াম। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
হজমের সমস্যায়: প্রাচীন কাল থেকেই হজমের ওষুধ তৈরি করতে আর্য়ুবেদ শাস্ত্রে তেঁতুল ব্যবহার করার নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। তেঁতুল আমাদের পিত্তথলি থেকে এক রকম উৎসেচক নির্গত হতে সাহায্য করে। যে কারণে হজমের সমস্যা দূর হয়। হজম তাড়াতাড়ি হয়। এছাড়াও তেঁতুলের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার। যা আমাদের রেচনে সাহায্য করে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর: তেঁতুলে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে। প্রতিদিন ১০০ গ্রাম তেঁতুল খেতে পারলে, ৩৬% থায়ামিন, ৩৫% আয়রন, ২৩% ম্যাগনেসিয়াম এবং ১৬% ফসফরাস পাবেন। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে নিয়াসিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, কপার এবং পাইরিডক্সিন। রয়েছে সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
ওজন কমাতে দারুণ কাজ করে: তেঁতুলে হাইড্রক্সি সাইট্রিক অ্যাসিড নামে একটি যৌগ রয়েছে যা শরীরে চর্বি জমা হতে বাধা দেয়। এই অ্যাসিড সেরোটোনিন নিউরোট্রান্সমিটারের মাত্রা বাড়িয়ে খিদে কমায়।
স্নায়ুর জন্য ভাল: তেঁতুলে বি ভিটামিন, থায়ামিন রয়েছে- যা স্নায়ুর সঠিক কার্যকারিতা এবং পেশীর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়।
জ্বালা, যন্ত্রণা, ডায়াবেটিসে: তেঁতুল যে কোনও রকম প্রদাহ কমাতে কার্যকর কারণ এতে উচ্চ মাত্রার টারটারিক অ্যাসিড রয়েছে। যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এছাড়াও উচ্চ মাত্রার পলিফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে। যা আমাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যে কারণে ডায়াবিটিক রোগীদের তেঁতুল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনেকেই এখনও স্মৃতি উসকে খাঁটি স্বাদের আচার বাড়িতে বানাতে চান। কেউ পারেন, কেউ পারেন না। এখন সকলে বাজারের রেডিমেড আচার কিনতেই অভ্যস্ত। ব্যস্ত জীবনধারায় সুবিধের মনে হলেও এবং স্বাদে কখন কখনও মনে ধরলেও, সেসবের গুণগত মান রীতিমত ভেবে দেখবার বিষয়। এপর্যন্ত বিভিন্ন সমীক্ষাতে পাওয়া গেছে রেডিমেড আচারে চিনির সিরাপ বা বিভিন্ন কৃত্রিম সুইটনার দেওয়া হয় ভেজাল হিসেবে। কৃত্রিম মিষ্টি ছাড়াও আচারে ব্যবহৃত আরও কিছু ভেজাল উপাদান থাকে, যেমন- তেল, মশলা। আচার বানাতে সরষের তেলের বদলে অন্য কোনও তেল ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু, খাঁটি সরষের তেল পাওয়াই তো দুষ্কর! মশলার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে।
বাজার জুড়ে ছেয়ে গেছে ভেজাল ঘি, কেনার সময় যা যা মাথায় রাখবেন
সম্প্রতি একটি জনৈক ইংরেজি সংবাদপত্র এই কৃত্রিম মিষ্টি-ভেজালের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং এর কারণে যেধরনের স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা রয়েছে, তা তুলে ধরেছে একটি প্রতিবেদনে। দীর্ঘ সময় অবধি সংরক্ষণের জন্য মেশানো হয় ক্ষতিকারক প্রিজারভেটিভ, আগে যেখানে খাঁটি সরষের তেলই এই কাজ হতো। বেশি মাত্রায় কৃত্রিম খাবার খাওয়ার ফলে সারা দেহে ভয়াবহ অ্যালার্জি ছড়িয়ে পড়তে পারে, বেড়ে যেতে পারে দেহের রক্তচাপ কিংবা রক্তে থাকা সোডিয়ামের মাত্রা। শুধু তাই নয়, লম্বা সময় ধরে এ ধরনের খাবার খেলে প্রাণঘাতী হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাহলে?
উপায় একটাই। কিনবার সময়েই দেখে নিতে হবে খাবারের প্যাকেটের গায়ে ‘কেমিক্যাল ও প্রিজারভেটিভ ফ্রি’ কথাটি উল্লেখ করা আছে কিনা। কিংবা ‘কেমিক্যাল ও প্রিজারভেটিভ ফ্রি ফুড’ কি-ওয়ার্ডটাই গুগল সার্চ করে দেখতে হবে কোন কোন স্টোরের নাম সামনে আসে। এছাড়া খাবারের গুণমান পরীক্ষার জন্য একাধিক পরীক্ষাগার আছে, সেখানে যাচাই করে নিতে পারেন।
প্রসঙ্গত, এখন সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই বিভিন্ন ছোটো ছোটো স্বনির্ভরগোষ্ঠী ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিচ্ছে ভেজালবিহীন আচার প্রস্তুত করতে। অনলাইন বিপণি ‘দ্য বেঙ্গল স্টোর’-এর তেঁতুলের আচার বেশ প্রসিদ্ধ। কেমিক্যাল ও প্রিজারভেটিভবিহীন খাবারের জন্য যথেষ্ট সুনাম রয়েছে এই স্টোরের। সমস্ত প্রোডাক্টই বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর থেকে আমদানি করেন তাঁরা। আইআইটি খড়গপুর ল্যাব থেকে এর গুণমান যাচাই করে নেওয়া হয়। ১০০% খাঁটি হওয়ায় গ্রাহকও চোখ বন্ধ করে ভরসা করেন। স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখবার কথাই বলে ‘দ্য বেঙ্গল স্টোর’। চাইলে আপনিও যাচাই করে দেখতে পারেন।
*‘দ্য বেঙ্গল স্টোর’-এর আচার কিনতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।
