বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাদুঘর আমাদের শহরেই, এছাড়াও বাংলা জুড়ে রয়েছে আরও বিস্ময়

বঙ্গদর্শনের চোখে ঘুরে দেখুন বাংলার চেনা-অচেনা সংগ্রহশালাগুলি

৮ মে, আন্তর্জাতিক সংগ্রহশালা দিবস (International Museum Day)। বঙ্গদর্শনের (Bonodorshon) চোখে ঘুরে দেখুন বাংলার (Bengal’s) চেনা-অচেনা সংগ্রহশালাগুলি (Museums)।

 

ভারতের সবথেকে পুরোনো জাদুঘর আমাদের মহানগরেই

‘মিউজিয়াম’-এর বাংলা কেন ‘জাদুঘর’ রাখা হল? কী এমন জাদু আছে বিশাল বিশাল ওই বাড়িগুলোয়? আসলে কল্পবিজ্ঞানের টাইম মেশিন যেন বাস্তবের রূপ পেয়েছে এই জাদুঘরগুলোতে। একের পর এক যুগ চোখের সামনে থরে থরে সাজানো। ইচ্ছে হল তো চলে গেলাম ফ্যারাও যুগের মিশরে। আবার ঠিক তার পরেই যদি ডাইনোসোরদের জগতে চলে যেতে মন চায়, তাতেই বা আটকাচ্ছে কে? এখানেই মিউজিয়ামের জাদু। লাইব্রেরির সঙ্গে মিউজিয়ামের সেদিক থেকে দারুণ মিল। তবে অতীতে পেছোতে পেছোতে লাইব্রেরি আপনাকে ততটাই নিয়ে যেতে যেতে পারে, যতদিন আগে মানুষ লেখা শিখেছে। এর বেশি যাওয়ার ক্ষমতা গ্রন্থাগারের নেই। কিন্তু জাদুঘরের গতি আরও অনেক দূর পর্যন্ত। আর আধুনিক ভারতের সবথেকে পুরোনো এবং বড়ো জাদুঘর তো বটেই, গোটা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেরই প্রথম জাদুঘর কিন্তু কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম’ই।

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন। 

ছুঁচ-সুতোয় গল্প বোনা আছে যে সংগ্রহশালায়

ব্রতচারী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা গুরুসদয় দত্ত বাংলার ইতিহাস এবং লোকসংস্কৃতি চর্চাতেও দুর্মূল্য অবদান রেখেছেন। তিনি বুঝেছিলেন, শুধুমাত্র লেখালিখি আর বক্তৃতার মাধ্যমে বাংলার চলমান সংস্কৃতিকে ধরে রাখা সম্ভব নয়। ব্রতচারী আন্দোলন প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নানান লোকশিল্প সামগ্রী সংগ্রহ করা শুরু করেন। এই দুটি কাজের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন স্ত্রী সরোজনলিনী দেবীর কাছ থেকে। ১৯৩২ সালে তাঁর সংগ্রহকে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন ‘প্রকৃত জহুরির কাজ’। যুবসমাজকে উৎসাহ দিতে গুরুসদয় দত্ত ১৯২৫ সাল থেকে মাসিক ‘বঙ্গলক্ষ্মী’ এবং ১৯২৯ সাল থেকে ‘গ্রামের ডাক’ পত্রিকার প্রকাশ শুরু করেন। ব্রিটিশ সরকারের উচ্চ প্রশাসনিক পদে চাকরি করতে করতেই বাংলার ঐতিহ্য-কৃষ্টির সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধির জন্য তিনি বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন। ১৯৪১ সালে প্রয়াত হন গুরুসদয় দত্ত। ১৯৬৩ সালে তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহ নিয়ে ঠাকুরপুকুরে একটি জাদুঘর গড়ে তোলা হয়। ‘গুরুসদয় সংগ্রহশালা’।

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন।  

 

হারিয়ে যাওয়া বাদ্যযন্ত্র-মুখোশ সংরক্ষণে ‘হিমালয় ওয়ার্ল্ড মিউজিয়াম

হিমালয় পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতির সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। আবার তাদের সংস্কৃতিতে নানারকম মুখোশের নামও পাওয়া যায়। এরকম বাদ্যযন্ত্র বা মুখোশের অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে। সে কথা চিন্তা করে শিলিগুড়ি মহকুমার বাগডোগরা ভুট্টা বাড়িতে শুরু হয়েছে হিমালয় ওয়ার্ল্ড মিউজিয়াম। 

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন। 

প্রাচীন ইতিহাস আজও কথা বলে বিষ্ণুপুর জাদুঘরে 

জোড় বাংলা মন্দির থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার এবং বিষ্ণুপুর বাস স্টেশন থেকে মাত্র ২ কিলোমিটারের মধ্যে পাবেন আশ্চর্য এক বাড়ি – বিষ্ণুপুর মিউজিয়াম। ঠিকানা দলমাদল পাড়া। কাগজে কলমে নাম ‘আচার্য যোগেশচন্দ্র পুরাকৃতি ভবন’।  নাম যাই হোক না কেন, বিষ্ণুপুরে গেলে একবার ঢুঁ মারতেই হবে এখানে। বাঁকুড়া জেলায় শিল্প এবং প্রত্নতত্ত্বের একমাত্র সংগ্রহশালা এটি। এবং এখনও চলমান। শেষ ভাস্কর্য খুঁজে পাওয়া গিয়েছে চলতি বছর, মার্চের ৫ তারিখ, দ্বারকেশ্বর নদের তীরে পাত্রসায়র থানা এলাকায় নালিচা গ্রামের এক পুরোনো মন্দিরের কাছে।

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন। 

 

উত্তরবঙ্গের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে গভীরভাবে জানতে ঘুরে আসুন কালিম্পং-এর লেপচা মিউজিয়াম   

কালিম্পং-এ দর্শনীয় স্থান অনেক। তার মধ্যে অন্যতম হল লেপচা মিউজিয়াম। উত্তরবঙ্গের কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যের প্রতি যদি আগ্রহ থাকে, তাহলে একবার ঢুঁ মারতেই হবে এখানে। কালিম্পং, দার্জিলিং, সিকিম, নেপাল, ভুটান এবং আশেপাশের অঞ্চলগুলিতে লেপচা জনগোষ্ঠীর বাস। তাঁদের নিজস্ব যাপনশৈলী এবং সংস্কৃতি মুগ্ধ করে সবাইকে। লেপচা জনগোষ্ঠী ঐতিহ্যকে জানার সেরা জায়গাগুলির একটি হল এই জাদুঘর

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন। 

রানি ভিক্টোরিয়ার চিঠি-সহ নানান ঐতিহাসিক দ্রব্যে সমৃদ্ধ বড়শুলের জমিদার বাড়ির সংগ্রহশালা 

পূর্বরেলের বর্ধমান-হাওড়া মেইন ও কর্ড লাইনের জংশন শক্তিগড় স্টেশন। এখান থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার পথ বড়শুল গ্রাম। সেখানেই এক সময়কার বিখ্যাত জমিদার দে পরিবারের বাড়িতে গড়ে উঠেছে ঐতিহাসিক সংগ্রহশালা। এই জমিদারির পত্তন হয়েছিল নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ’র আমলে। এই জমিদার বাড়ি্র শেষ জমিদার ছিলেন ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের সদস্য রায় সাহেব গোপেন্দ্রকৃষ্ণ দে। এই দে বাড়িরই বংশধর হিমাদ্রী শংকর দে। এলাকায় টুটুল নামেই পরিচিত। পেশায় ছোটোখাটো ব্যবসায়ী। তবে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি আকর্ষণে একক প্রচেষ্টায় হিমাদ্রীবাবু এই সংগ্রহশালা তৈরী করেছেন। তাঁর বাবার স্মৃতিতে নাম দিয়েছেন ‘শুভেন্দু মোহন দে ঐতিহাসিক সংগ্রহশালা’।

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন। 

 

রাজকীয় মেটকাফ হলের আশ্চর্য মিউজিয়াম 

এমন জাদুঘর আগে কখনও দেখেনি কলকাতা। এই শহর যে শুধু ‘আনন্দনগরী’-ই নয়, তার পাশাপাশি ‘চমকের শহর’, ‘স্মৃতির শহর’, ‘প্রতিপত্তির শহর’, ‘জনসংগমের শহর’, এমনকি ‘গল্পের শহর’-ও বটে, তার স্বাদ পেতে গেলে আপনাকে ঢুঁ একবার মারতেই হবে মেটকাফ হলের ‘আমি কলকাতা’ সংগ্রহশালায়।

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

 

পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র স্পোর্টস মিউজিয়াম কলকাতার নিউটাউনে

ক্রিকেট বিশ্বকাপ এবং কোপা আমেরিকার ভরা মরশুমে নিউটাউনের ইকোস্পেস বিজনেস পার্কে গড়ে ওঠা ফ্যানাটিক স্পোর্টস মিউজিয়াম সত্যিই ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে সব পেয়েছির দেশ। এই মিউজিয়ামে একই ছাদের নিচে আপনি চাক্ষুষ করতে পারবেন আধুনিক ক্রিকেটের সেরা ব্যাট্‌সম্যান বিরাট কোহলির ব্যাট এবং বর্তমান ফুটবলের অবিসংবাদী শ্রেষ্ঠ মেসির বুট জোড়া।

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন। 

 

তারাশংকরের ২৫০ বছরের প্রাচীন পৈতৃক বাড়িতে গড়ে উঠছে সংগ্রহশালা

লাভপুরে তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ির নাম ‘ধাত্রীদেবতা’। প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন এই বাড়ির কাঠামো ধুঁকছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। মাটির তৈরি বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়েছিল। দিন দিন খারাপ হচ্ছিল বাংলার বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিকের স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক বাড়ির হাল। তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১২১তম জন্মদিনে এই বাড়িটি সংরক্ষণের কথা ঘোষণা করেন বীরভূম জেলাপরিষদের সভাপতি। ৩২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয় সংরক্ষণের জন্য। নতুনভাবে সেজে ওঠে ‘ধাত্রীদেবতা’। গড়ে উঠেছে সংগ্রহশালাও। মাটির তৈরি পুরোনো কাঠামো ভেঙে ফেলে ঠিক আগের আদলেই নতুন করে গড়া হয়েছে ভবনটি। কিন্তু এবারের ভবনটি আর মাটির বদলে পাকা করেই গড়ে তোলা হয়েছে। প্রবেশপথের তোরণটি অবশ্য ভাঙা হয়নি। সেটিকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে মূল ভবনের সঙ্গে। তীব্র গরমেও বাড়িটি যাতে ঠান্ডা থাকে, সেই জন্য পাঁচিলের মধ্যে বালি ভরে দেওয়া হয়েছে। সংগ্রহশালায় তারাশংকরের ব্যবহৃত নানা জিনিসপত্র রাখা আছে।

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

 

এক প্রচারবিমুখ মিউজিয়াম

১১৩, এ পি সি রয় রোড, কলকাতা – ৭০০ ০০৯, ১৮১৪ সালে রাজা রামমোহন রায়-এর জন্য তৈরি হয় এই বাড়ি। ১৯৯৬ সাল নাগাদ এই বাড়িতে গড়ে ওঠে কলকাতা পুলিশের এক মিউজিয়াম। সোমবার বাদে সপ্তাহের বাকি ছ’দিন এই মিউজিয়াম খোলা থাকে সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। সাধারণ মানুষের জন্য প্রবেশ অবাধ রাখা হয়েছে এই সংগ্রহশালায়। বিনা টিকিটে ভিসিটিং আওয়ারস এর মধ্যে যেকোনও পথচলতি মানুষ ঢুকে পড়তে পারেন এই ঠিকানায় এবং কোনওভাবেই তিনি হতাশ হবেন না এটুকু বলাই যায়।

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন। 

 

যে সংগ্রহশালার পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ 

উত্তর-মধ্য কলকাতার ফুলবাগানের মোড় থেকে দুটো স্টপেজ। ভি.আই.পি রোডের ওপর আম্বেদকর ভবন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনগ্রসর জনজাতি কল্যাণ দফতরের (Backward Classes and Welfare Department) অধীনে এই বাড়িটিতেই আছে বোট মিউজিয়াম বা নৌকার সংগ্রহশালা। দুই বাংলার এবং অন্যান্য রাজ্যের হরেকরকম নৌকার মিনিয়েচার মডেল নিয়ে এই মিউজিয়ামে গেলে স্তম্ভিত হতে হয়। 

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন।  

 

রাজ্যে প্রথম ধানের সংগ্রহশালা

নদিয়া জেলার ফুলিয়াতে রাজ্যে প্রথম ধানের মিউজিয়াম তৈরি করছে কৃষি দপ্তর। মিউজিয়ামে রাখা হবে রাঁধুনি পাগল, রাধা তিলক, কনকচূড়, বাদশাভোগের মত প্রায়  ৪৫০ প্রজাতির পুরনো সহ নতুন প্রজাতির ধানও। পুরনো ও স্থানীয় ধানগুলিকে ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ। সংরক্ষণ ও গবেষণার কাজ করা হবে এই সংগ্রহশালায়। রাইস মিউজিয়াম তৈরির জন্য ৭১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে কৃষি দপ্তর।

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

 

রাজ্যের প্রথম আদিবাসী মিউজিয়াম ঝাড়গ্রামে

শাল-পিয়াল-মহুয়ার জঙ্গল ঘেরা মল্ল রাজার দেশ। দলমা হাতির দল। পশ্চিমে সূবর্ণরেখা নদী আর এখানকার আদিম অধিবাসী। আদিবাসী সমাজ অধ্যুষিত লালমাটির এই শহরই হল অরণ্য সুন্দরী ঝাড়গ্রাম। জঙ্গল, বন্যপ্রাণী এবং আদিবাসী। এই হল এখানকার, এই অঞ্চলের পরিচয়। যে পরিচয় আধার কার্ডে লেখা থাকে না। হয়তো থাকা সম্ভবও নয়। এই সব নিয়েই পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী সম্প্রদায়কে উৎসর্গ করে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে তৈরি হয়েছে রাজ্যের প্রথম আদিবাসী সংগ্রহশালা  ‘আদিবাসী ইন্টারপ্রিটেশন সেন্ট্রার’।

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন।  

Developed by DXDasia