এক প্রচারবিমুখ মিউজিয়াম

১৯৯৬ সাল নাগাদ এই বাড়িতে গড়ে ওঠে কলকাতা পুলিশের এক মিউজিয়াম

১১৩, এ পি সি রয় রোড, কলকাতা – ৭০০ ০০৯, ১৮১৪ সালে রাজা রামমোহন রায়-এর জন্য তৈরি হয় এই বাড়ি। ১৯৯৬ সাল নাগাদ এই বাড়িতে গড়ে ওঠে কলকাতা পুলিশের এক মিউজিয়াম। সোমবার বাদে সপ্তাহের বাকি ছ’দিন এই মিউজিয়াম খোলা থাকে সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। সাধারণ মানুষের জন্য প্রবেশ অবাধ রাখা হয়েছে এই সংগ্রহশালায়। বিনা টিকিটে ভিসিটিং আওয়ারস এর মধ্যে যেকোনও পথচলতি মানুষ ঢুকে পড়তে পারেন এই ঠিকানায় এবং কোনওভাবেই তিনি হতাশ হবেন না এটুকু বলাই যায়।

১৯৯৬ সালের ৩১ অগাস্ট এই সংগ্রহশালার দরজা খুলে দেওয়া হয় আপামর জনসাধারণের জন্য। তখন সংগ্রহশালার অধিকাংশ সংগ্রহই ছিল আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ। বিভিন্ন ধরণের এই আর্মস এবং অ্যামুনিশনস-এর বেশিরভাগই স্বাধীনতার সময়ে বাজেয়াপ্ত করা। ২০০৬ অবধি অর্থাৎ দশ বছর মিউজিয়ামটি এই চেহারাতেই চলতে থাকে। এরপর ২০০৭ নাগাদ ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের তত্ত্বাবধানে নতুনভাবে সাজানো হয় এই সংগ্রহশালাকে। ফলে মানুষ সেখান থেকে এক সম্মক ধারণা পান কলকাতা পুলিশের ইতিহাস ও কার্যক্রম সম্পর্কে।

বিভিন্ন স্কুল অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এডুকেশনাল ট্যুরে নিয়ে আসা হয়ে থাকে এই সংগ্রহশালায়। কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বিশেষ কিছু ক্লাস নেওয়া হয় তখন। এছাড়াও রিডিং রুমে বিভিন্ন মূল্যবান ফাইলের সফট কপির একসেস দেওয়া হয়ে থাকে সাধারণ মানুষকে। কম্পিউটারে বসে তাঁরা পড়ে নিতে পারেন তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি। এছাড়াও আর্কাইভে রয়েছে বিভিন্ন সহায়ক বইপত্র। মূলত যা স্বাধীনতা সংগ্রাম বিষয়ক। এছাড়াও প্রাচীন কলকাতার ইতিহাসের বই, কলকাতা পুলিশের পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ কেস ডায়েরি, গোয়েন্দা বিভাগের বিভিন্ন ফাইল রয়েছে এখানে। যদিও এইসমস্ত ফাইল পড়তে চাইলে হায়ার অথোরিটির থেকে অনুমতিপত্র জোগাড় করা জরুরি।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও তাঁর পরিবার সংক্রান্ত ৬৪টি ফাইল একটি পৃথক গ্যালারি বানিয়ে রাজ্য সরকারের আদেশে নিয়ে আসা হয় এই সংগ্রহশালার অধীনে। গত চার বছরে এই গ্যালারি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং মিউজিয়ামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের কাছে। গবেষকদের জন্য এই ৬৪টি ফাইলের অ্যাকসেস রয়েছে রিডিং রুমের কম্পিউটারে। এছাড়াও অনুমতিক্রমে তাঁরা এগুলির প্রতিলিপিও পেতে পারেন।

মোটের উপর উত্তর কলকাতার বুকে এমন এক সংগ্রহশালার অস্তিত্ব অথবা বিবরণ অনেকেই জানেন না। হাতে এক বেলা সময় ফাঁকা থাকলে যেকোনও দিনই ঘুরে চলে আসতে পারেন সেখানে। যেমন সুব্যবস্থা তেমনই ভদ্র ব্যবহার কর্তৃপক্ষের। তাছাড়া পায়ে পায়ে জড়ানো ইতিহাস। কাচের আড়ালে থাকা জিনিসগুলিতে এখনও লেগে রয়েছে মানুষের রক্ত, মানুষের ঘাম। স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়ার সেই অদম্য ইচ্ছা। আমাদের ইচ্ছাকৃত মেনে নেওয়া পরাধীন বর্তমানকে দেওয়ার পক্ষে এর চেয়ে ভালো উপহার কীই বা হতে পারে!

Post Tags
Developed by DXDasia