‘আহারে বাংলা’-র মিষ্টির সম্ভার

নিউটাউনের মেলার মিষ্টি বিভাগের গলিঘুঁজি

ডিসেম্বর মাস মানেই কলকাতায় ফেস্টিভ্যাল টাইম। ইতিমধ্যেই কলকাতায় শুরু হয়ে গেছে ক্রিসমাস ও নতুন বছরের প্রস্তুতিপর্বও। এই ফেস্টিভ্যাল সময়ে নতুন সংযোজন ‘আহারে বাংলা’। বাংলার খাদ্য উৎসব। এটা আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। 

নিউটাউনের মেলা প্রাঙ্গণ তিনটি ভাগে বিভক্ত। নিরামিষ, আমিষ, চা ও স্ন্যাক্স এবং মিষ্টি বিভাগ। মিষ্টি বিভাগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিষ্টি বাংলা’। মিষ্টির নাম শুনলেই সাধারণ বাঙালির মন উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। তাই চললাম মিষ্টি বাংলা দর্শনে। মনে মনে ভাবলাম হয়ত চেনাপরিচিত মিষ্টিই পাওয়া যাবে। কিন্তু আমার ভুল ভাঙল। দেখি, মিষ্টি বাংলা নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সারা বাংলার বিভিন্ন জেলা থেকে মিষ্টি বিক্রেতারা এখানে এসেছেন। চেনা পরিচিত দোকানগুলির সঙ্গে মানুষ ভিড় জমাছেন ওই সব মিষ্টির দোকানেও।

 

 

পিঠা বিলাস
হরেকরকম নামে সেজে উঠেছে এক একটি মিষ্টি। একটি দোকানের নামে গিয়ে আমার মনটা আনন্দে নেচে উঠল। দোকানটির নাম ‘পিঠা বিলাস’। দোকানে থরে থরে সাজানো আছে নানা ধরনের পিঠে। এখানে পাটিসাপটা পিঠে নিরামিষ ও আমিষ দুরকমেই পাওয়া যাচ্ছে। পাটিসাপটা আবার নিরামিষ ও আমিষ। দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করার সঙ্গে সঙ্গেই বলেন, নিরামিষ পাটিসাপটা মানেই নারকেল, আম, ক্ষীর, পুর দেওয়া হয়। আমিষ পাটিসাপটাতে পুর দেওয়া হয় মাছ অথবা মাংস।

 

 

বর্ধমান মিষ্টির স্টল
পিঠা খেয়ে এগিয়ে গেলাম অপর জেলায়। জেলার নাম বর্ধমান। পাওয়া যাচ্ছে ওখানকার বিশিষ্ট মিষ্টি সীতাভোগ, মিহিদানা, ল্যাংচা, পনির ক্ষীরের পান্তুয়া। কথিত আছে ১৯০৪ সালে মহারাজা বিজয়চন্দ্র রাণী ভিক্টরিয়ার জন্য এই বিশেষ ধরনের মিষ্টি তৈরি করান। এই মিষ্টি তৈরি করেন ভৈরভচন্দ্র নাগ। সীতাভোগ তৈরি হয়েছে সীতার নামেই।

চন্দননগর মিষ্টি
চন্দননগর মানেই সূর্য মোদকের জলভরা তালশাস। এই মিষ্টির দোকান তৈরি হয় ১৮১৮ সালে। সঙ্গে পাওয়া যাবে ক্ষীরের পুলি সন্দেশ, ছানার পায়েস, আম সন্দেশও। এখানে দেখা পাবেন রানাঘাটের জগু ময়রার। তাঁরা বানিয়েছেন চকো রসগোল্লা, নিকুতি পোলাও। বহরমপুরের ছানার বড়া, মনোহরা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে মঞ্জুষা। সন্দেশ প্রেমিকদের জন্য নলিন চন্দ্র দাস উপস্থিত হয়েছেন ১৮৫০ সালে থেকে চলে আসা নানাধরনের সন্দেশ নিয়ে। যেমন- বাটার স্কচ, ব্লাক ফরেস্ট, গুড় স্কচ, গ্রীন ম্যাঙ্গো। এদের নতুন দোকানে গিয়ে অবশ্যই খেয়ে দেখবেন তুলসী রসগোল্লা।

 

Developed by DXDasia