
জলপাইগুড়ির বন এলাকায় রয়েছে সালুগারা রেঞ্জ, তার অধীনেই চলে শালপাতার থালা, প্লেট তৈরি
বন থেকে শালপাতা সংগ্রহ করেন একদল মহিলা। তারপর পাতার পর পাতা জুড়ে সেলাই করে তৈরি করা হয় এক একটি থালা। এখন অবশ্য সেলাই করা হয় মেশিনের মাধ্যমে। উত্তরবঙ্গের শালবন ঘেরা গ্রামগুলিতে বছরের পর বছর ধরে চলছে থালা, বাটি, প্লেট তৈরির কাজ। জলপাইগুড়ি জেলার বৈকুন্ঠপুরের বন এলাকায় রয়েছে সালুগারা রেঞ্জ। তার অধীনেই চলে শালপাতার থালা, প্লেট তৈরি।

আরও পড়ুন: বাংলায় শুরু ‘মেলা’র মরসুম
উত্তরবঙ্গের তরাই ও ডুয়ার্সের বিভিন্ন বনের ধারে রয়েছে অনেক বন সুরক্ষা কমিটি। বন দপ্তরের সাহায্যে বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে এই সব কমিটি। বনের সবুজ বাঁচানো ছাড়া বিভিন্ন হাতের কাজের মাধ্যমে মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলে তারা। স্থানীয় বন সুরক্ষা কমিটির তরফে মনোজ কুমার চৌধুরীর বক্তব্য, বৈকুণ্ঠপুরের বিভিন্ন গ্রাম যেমন গাজোলডোবা, মান্তাদারি, আশিঘর নরেশ মোড়, রাসফাপরি এলাকা থেকে প্রতি সপ্তাহে শালপাতা সংগ্রহ করা হয়। একেকটি গ্রামে কুড়ি থেকে চল্লিশ হাজার শালপাতা সংগ্রহ করা হয়। থালা তৈরির জন্য যে শালপাতা সংগ্রহ করা হয় তা কেনা হয় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা প্রতি ১০০টি। আর প্লেট তৈরির জন্য সংগ্রহ করা শালপাতা গ্রাম থেকে কেনা হয় ৩০ থেকে ৩৫ টাকা প্রতি ১০০টি।

প্রথমে গ্রামের মহিলারাই জঙ্গলে পড়ে থাকা শালপাতা সংগ্রহ করে পাতা তৈরি করত। থালার তৈরি করার জন্য প্রয়োজন দশটি পাতা এবং প্লেটের জন্য প্রয়োজন ছ’টি পাতা। তবে পাতা জুড়ে ব্যবহার করা অন্য সরু ও ছোটো ছোটো গাছের ডাল ও পাতা। আগে এক পাতার সঙ্গে আরেক পাতা জোড়া হত সরু ডাল অথবা কাঠি দিয়ে। নারকেল, তাল, সুপারি গাছের পাতা থেকে বের হওয়া কাঠি পাতা জোড়ার কাজে ব্যবহার করা হয়। এখন অবশ্য থালা, প্লেট তৈরির জন্য মেশিন ব্যবহার করা হয়। বৈকুণ্ঠপুরের বন এলাকায় সালুগারা রেঞ্জ এলাকার অন্তর্গত শালপাতার কারখানার থালা, প্লেট বিক্রি হয় দেশে ও বিদেশে। এই কারখানায় তিনটি মেশিন আছে। প্রতিদিন দশ থেকে বারো হাজার থালা প্লেট তৈরি হয়। বাজারে শালপাতার থালা বিক্রি হয় একশোটির দাম ৭০ টাকা এবং প্লেট বিক্রি হয় ৬০ টাকা করে।

শীত পড়তেই শুরু হয়েছে পিকনিক। সেক্ষেত্রে পিকনিকে থার্মোকলের থালা বাটি ব্যবহার না করে এই শালপাতার থালা, বাটি ব্যবহার করার জন্য তাঁরা কয়েকবছর ধরে পিকনিক দলগুলোর কাছে আবেদন করছেন বলে সালুগারা বনের রেঞ্জার প্রদীপ করচৌধুরী জানিয়েছেন। ইদানীং পিকনিকে গিয়ে অনেকেই বনে প্লাস্টিকও ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। এতে বনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সালুগারা রেঞ্জ অফিসের পাশে খোলাচাদফাপরি এলাকায় বনের মধ্যে গাছে গাছে স্থানীয় বন সুরক্ষা কমিটি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা মদ্যপান না করা, ধুমপান না করা, প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার না করার প্রচার শুরু করেছেন। পিকনিকের নামে কেউ প্লাস্টিক ব্যবহার করলে নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থাও।

ছবি: বাপি ঘোষ

