
ইউকে প্রবাসী ডাঃ অমিত রঞ্জন বিশ্বাসের প্রথম বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
দু'জন ভিন্ন বয়সের মানুষ। একজন প্রবীণ, মানে সমকালের ভাষায় সিনিয়র সিটিজেন আর অন্যজন তরুণী। দু’জনের চোখেই স্বপ্ন খেলা করত। কিন্তু একজনের মন বলে জীবনের সব স্বপ্ন শেষ আর অন্যজনের মন কাঁদে জীবনের অফুরন্ত স্বপ্নগুলো আর পূরণ করতে পারবে না বলে। এই দু’টি ভিন্ন দিশা থেকে দু’জন মানুষ আজ একটি কমন বিন্দু্তে এসে মিলেছে। যেখানে তাঁরা উভয়েই আত্মহত্যা করতে চায়। মৃত্যুকে সঙ্গী করতে চায়। এ রকম মানসিক পরিস্থিতিতেই দু’জনের মধ্যে আলাপ হয়। শুরু হয় দুটি ভিন্ন বয়সীর কথোপকথন। যে কথোপকথন থেকেই বেরিয়ে আসে বেঁচে থাকার নিবিড় আশ্বাস আর মর্মবাণী বা তাৎপর্য। দু’জনের কেউই আর মরতে পারে না। শুরু হয় বেঁচে থাকার রসদ সন্ধান। আর সেই সন্ধানের তাগিদেই দুটি বয়সের সখ্য তৈরি হয়। গড়ে ওঠে সেতু। এই সেতু গঠনের গল্পই হল ‘ব্রিজ’।


ছবিটাকে এ ভাবেই ভেবেছেন ব্যস্ততম কনসালটেন্ট সাইক্রাটিস্ট, ইউকে প্রবাসি ডাঃ অমিত রঞ্জন বিশ্বাস।
পুঁজিপতির পুঁজিতে নয়। নিজের ঘর সংসারের যাবতীয় সঞ্চয়কে কাজে লাগিয়েছেন প্রাণ ভরে। কাউন্সেলিং-ফিজিসিয়ান ডাঃ অমিত রঞ্জন বিশ্বাস মনে করেন অসুখ মানুষের মনে বাস করে। সেই মনের কোণায় কোণায় ভরিয়ে দিতে হবে বেঁচে থাকার উপাদান। সেই উপলব্ধি থেকেই ছবি বানাতে যাওয়া। লোকেশন এ পারের কলকাতা আর গঙ্গার ওপারের বালি।


২০১৩-র জুন মাসে বাংলা সিনেমা বানানোর উদ্যোগ শুরু করেন। এদেশে এসে প্রযোজক জোগাড় করা অসম্ভব জেনে নিজের পেনশন পলিসি বিক্রি করেদেন এবং পারিবারিক পুঁজি থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শ্যুটিং শুরু করেন। নিজের ছবি, নিজের রচনা ‘ব্রিজ’ শ্যুটিং শেষ হয় জুলাই মাসে। এখন শুধু জনসমকক্ষের আসার অপেক্ষা।

এই ছবির চিত্রগ্রহণ করেছেন জোরান ভেলজ্কোভিক, যিনি ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির শ্রেষ্ঠতম সিনেমাট্রোগ্রাফারদের একজন। তাঁর ঝুলিতে আছে অসংখ্য পুরুষ্কার এবং অসংখ্য ছবি। ‘আফটার ফল উইন্টার’ ছবির সিনেমাটোগ্রাফির জন্য পান ওয়াইল্ড রোজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ইউএসএ-তে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা। অর্ঘ্যকমল মিত্র এই ছবির এডিটর, মুম্বাই-এর অভিজিৎ রায় (টেনী) ছবির সাউন্ড ডিজাইনার। কলকাতার ছেলে দীশারী এই ছবির সঙ্গীত পরিচালক, যিনি অমিতের স্টেজ প্রোডাকশনের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ইংল্যান্ডের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কালারিস্ট ডাডো ভ্যালেনটিক ‘ব্রিজ’ চলচ্চিত্রের গ্রেডিং করেছেন। এই ছবির প্রযোজনা করেছেন পারমিতা। স্টিল ফোটোগ্রাফি করেছেন প্রখ্যাত ফোটোগ্রাফার লেখক এবং শিল্পী শুভময় মিত্র।

শুভময় মিত্রের তোলা কিছু ওয়ার্কিং স্টিল দেখলে ছবির সার্বিক রূপ নিয়ে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। বঙ্গদর্শন এই ছবি নিয়ে কাজ করেছিল ২০১৬ সালে। যেখানে নামভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর প্রয়াণে আরেকবার রইল ফিরে দেখা এইসব অধ্যায়।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ শুভময় মিত্র
