বর্ষায় সমুদ্র সৈকত, চেনা জায়গার অচেনা রূপ

বর্ষায় ঘুরে আসুন সমুদ্র উপকূলে

আকাশে কালো মেঘের ভিড়। মাঝে মাঝেই চলছে বৃষ্টি। বাঙালির হেঁসেলে উঁকি মারলেই দেখা মেলে খিচুড়ি আর ইলিশ মাছের খবর। মনে মনে রবি ঠাকুরের ‘শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা, নিশীথ যামিনী রে’ গানটি গুনগুন করতে করতে মনে হয় কোথায় ঘুরে আসি। ভাবছেন কোথায় যাবেন এই বর্ষায়। চলুন ঘুরে আসা যাক সমুদ্র সৈকতে। পশ্চিমবঙ্গের বঙ্গোপসাগরের গা-ঘেঁষে আছে ছোটো-বড়ো অনেক সমুদ্র সৈকত – দিঘা, শঙ্করপুর, মন্দারমণি, তাজপুর, উদয়পুর, তালসারি, ভোগপুর, চাঁদপুর-শৌলা, বাঁকিপুট, জুনপুট, নীচকসবা, কাদুয়া, বাগুড়ান-জলপাই, ভাগুড়ান, হরিপুর, পেটুয়াঘাট, বাহিরি, গোপালপুর। বর্ষায় ধরা পরে চেনা সৈকত এক অন্য রূপ। কালো মেঘ, মুষলধারে বৃষ্টি, বিশাল আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি আর দিগন্ত বিস্তৃত উত্তাল ঢেউ। মাঝে মাঝে জলোচ্ছ্বাস বোল্ডার পেরিয়ে চলে আসে রাস্তায় আর ভিজিয়ে দিতে পারে আপনাকে। মাছের আমদানি এই সময়ে খুব বেশি থাকে। তাই সমুদ্রের পাড়ে বসে বৃষ্টি ভিজে মাছ খান আর উপভোগ করুন সমুদ্রকে। সঙ্গে পাবেন আইসক্রিম, মুড়িমাখা আর কত মুখরোচক খাবার।

দিগন্ত বিস্তৃত উত্তাল ঢেউ

বর্ষায় দুই একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন দিঘা। চেনা দিঘার এ এক অচেনা রূপ। হেঁটে চলুন বিচ বরাবর বা হোটেলের বারান্দায় বসেই দেখুন উত্তাল সাগরকে। বাঁধানো বসার জায়গায় বসে থাকুন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। মুম্বাই মেরিন বিচের মত উপভোগ করতে পারেন জলোচ্ছ্বাস। হোটেলে গেলে পাতে পাবেন ইলিশের স্বাদ। সঙ্গে কাঁকড়া, চিংড়ি, তোপসে সহ হাজার রকম মাছের স্বাদ। চলে যান ওল্ড দিঘা থেকে কিলোমিটার দুয়েক, দিঘা মোহনায়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর, এই তিন মাস ইলিশভর্তি ট্রলার এসে পৌঁছায় মোহনায়।

কীভাবে যাবেন
দিঘা পৌঁছে যান ট্রেনে অথবা বাসে। গাড়ি নিয়েও লং-ড্রেইভে বেরিয়ে যেতে পারেন দিঘার উদ্দেশ্যে। দিঘা থেকে শংকরপুর মাত্র ১৬ মিলোমিটার। কলকাতা থেকে দিঘাগামী বাস বা ট্রেনে এসে কাঁথি নামুন। কাঁথি থেকেই ঘুরে যেতে পারেন বিভিন্ন সমুদ্র সৈকত ও গ্রামে।

দিঘার হইচই করে যদি সময় কাটাতে চান, শান্ত নিরিবিলি সমুদ্র সৈকতে বেরিয়ে পড়ুন শঙ্করপুরের উদ্দ্যেশে। মৎস্য বন্দর হিসাবে পরিচিত এই সৈকতটি। সামুদ্রিক ঝড়ের পূর্বাভাস থাকলে মাছের ট্রলার, নৌকাগুলি ভিড় জমায় এখানে। বর্ষায় আরও সবুজ দেখায় ঘন ঝাউবন, বিস্তৃত বালুকারাশি। দিঘা থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন মন্দারমণি, উদয়পুর, দত্তপুর তালসারির উদ্দেশ্যে।

মাঝে মাঝে বোল্ডার পেরিয়ে জলোচ্ছ্বাস চলে আসে রাস্তায়

আবার যারা দিঘা, মন্দারমণি অথবা শংকরপুর যেতে চাইছেন না, চলে যান তাজপুর, ভোগপুর, জুনপুট, বাঁকিপুট, নীচকসকা, চাঁদপুর-শৌলা, বাগুড়ান-জলপাই, কাদুয়ায়। কলকাতা থেকে তাজপুরের দূরত্ব ১৮৭ কিলোমিটার। বাসে সময় লাগে প্রায় ৮ ঘণ্টা। বালিসাই থেকে প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখতে দেখতে যন্ত্রচালিত ভ্যানে করে চলে যান তাজপুর। মন্দারমণি থেকে কোস্টাল ট্রেক করেও যেতে পারেন ভোগপুর বিচে। এখানে থাকার জায়গা নেই। তাই গাড়িতে নিয়ে ঘুরে যেতে পারেন। কাঁথি থেকে যেতে পারেন জুনপুট, বাঁকিপুট, চাঁদপুর-শৌল।
 

কোথায় থাকবেন
দিঘায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব ট্যুরিজম প্রপার্টি রয়েছে। সেখানে কয়েকদিন থেকে সৈকতের মজা উপভোগ করতে ভালোই লাগবে আপনার। ‘দিঘা ট্যুরিজম প্রপার্টি’ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। অথবা ফোন করুন ৯৭৩২৫১০১৩৪ নম্বরে। ওল্ড দিঘার হোটেল নীল সাগরেও থাকতে পারেন। ফোন নম্বর ৯৫৬৪৮১৪০০২।
Developed by DXDasia