ভারতীয় মূর্তিশিল্পে যুগান্ত এনেছেন দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী

আমাদের দেশে তিনিই প্রথম ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য নির্মাণ করেন

দিল্লিতে বিখ্যাত গান্ধির ডান্ডি অভিযান মূর্তি অনেকেই দেখেছেন। ভারতীয় টাকার নোটে একপিঠে রয়েছে এই মূর্তির ছবি। গোটা ভাস্কর্য জুড়ে ফুটে উঠেছে দৃঢ়তা। এগারো জনের বলিষ্ঠ চলার ভঙ্গি দেখলে শ্রদ্ধায় মন ভরে ওঠে। এই কালজয়ী ভাস্কর্যের স্রষ্টা একজন বাঙালি – দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী। পাটনা সচিবালয়ের শহিদ স্মারক, চেন্নাইয়ের মেরিনা সৈকতে শ্রমের বিজয় মূর্তি, চেন্নাই এবং কলকাতার গান্ধি মূর্তি – সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে আছে তাঁর কীর্তি।

দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী 

দেবীপ্রসাদের জন্ম হয় ১৮৯৯ সালে, পূর্ববঙ্গের রংপুর জেলার তাজহাটে। তিনি ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগ্য শিষ্য। ছবির পাঠ নিয়েছেন অবন ঠাকুরের থেকে। হিরন্ময় রায়ের কাছে ভাস্কর্য শেখেন। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ ওরিয়েন্টাল আর্টের ফ্যাকাল্টি মেম্বার ছিলেন। ১৯২৯ সালে চেন্নাই গিয়ে ম্যাড্রাস স্কুল অফ আর্টের প্রথম অধ্যক্ষ হন। কঠোর পরিশ্রম করে এই প্রতিষ্ঠানকে তিনি শিল্পের পীঠস্থান বানিয়ে তোলেন। নীরদ মজুমদার, প্রদোষ দাশগুপ্ত, পরিতোষ সেনের মতো প্রথিতযশা শিল্পীরা ছিলেন তাঁর ছাত্র। ভারতীয় শিল্পীদের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। দেবীপ্রসাদ ছিলেন নতুনের পূজারী। ছবি আঁকার সময়ে একবার তাঁর ক্যানভাসে খানিকটা কফি পড়ে যায়। ছাত্ররা ভেবেছিলেন, তিনি সেই ক্যানভাস বাতিল করে দেবেন। কিন্তু দেবীপ্রসাদ আরও কয়েক কাপ কফি আনালেন। সারা ক্যানভাসে সমান করে ঢেলে রঙের মায়া তৈরি করলেন। 

শহিদ স্মারক, পাটনা 

দেবীপ্রসাদের বানানো ডান্ডি অভিযান মূর্তিটি ভালোভাবে লক্ষ করলে কিংবদন্তি ফরাসি ভাস্কর আগুস্ত রোদাঁর প্রভাব চোখে পড়ে। স্থির ভাস্কর্যের মধ্যেই ছড়িয়ে আছে চলমানতার জাদু। সমস্ত বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে স্বাধীনতার দিকে ছুটে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। এগারোটি ফিগারের মধ্যে একটি মহাত্মা গান্ধি। দুই নারী – মাতঙ্গিনী হাজরা এবং সরোজিনী নাইডু। একটি ফিগার সম্ভবত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় – বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী ও চিন্তাবিদ। আর রয়েছেন আব্বাস তায়েবজি – ডান্ডি অভিযানে গান্ধিজির পরেই ছিল যাঁর স্থান। ভাস্কর্যটি শেষ করার আগেই ১৯৭৫ সালে প্রয়াত হন দেবীপ্রসাদ। তাঁর স্ত্রী এবং ছাত্রছাত্রীরা এটিকে সমাপ্ত করেন।

শ্রমের বিজয় মূর্তি, চেন্নাই 

ভারতের আধুনিক ভাস্কর্যে যুগান্ত এনেছেন দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী। তিনি ছিলেন ললিতকলা অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। যুগান্তকারী শিল্পী দেবীপ্রসাদকে ভারত সরকার পদ্মভূষণ সম্মাননা প্রদান করে।

Written by
Developed by DXDasia