মাতৃভাষার চর্চা এবং মনিষীদের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন শিলিগুড়ির সজলকুমার

নিজের পেনশনের টাকা থেকে বিভিন্ন প্রচারমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করেন তিনি

রামমোহন থেকে বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, স্বামীজি-সহ বাংলার প্রায় সকল মনিষীর জন্মদিন তিনি ধারাবাহিকভাবে পালন করে চলেছেন। উদ্দেশ্য একটিই, নতুন ছেলেমেয়েদের মধ্যে মনিষীদের আদর্শকে জাগিয়ে রাখা। যাতে ছেলেমেয়েরা দেশ ও দশের কথা চিন্তা করে। নিজের পেনশনের টাকা খরচ করে এসব নিয়ে প্রচার অনুষ্ঠান আয়োজনে তিনি খামতি রাখেন না। দিনের পর দিন এধরনের কাজের মাধ্যমে নজির সৃষ্টি করেছেন শিলিগুড়ি মহকুমার শিবমন্দিরনিবাসী সজলকুমার গুহ (Sajal Kumar Guha)।

আন্তর্জাতিক বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সমিতির শিলিগুড়ি (Siliguri) শাখার সম্পাদক সজলবাবু। এখন তাঁর বয়স সত্তর বছর। ১৯৫২ সালে অসমের দরং জেলার একটি চা বাগানে তাঁর জন্ম। ছোটো থেকেই ঝোঁক জন্মেছিল পত্রপত্রিকা ও লেখালেখির প্রতি। সেই অভ্যাস এই বয়সে এসেও ছাড়তে পারেননি। কর্মসূত্রে তিনি দার্জিলিং (Darjeeling) জেলায় চলে যান সত্তরের দশকে। ১৯৭৫ সাল থেকে তাঁর চাকরি জীবন শুরু হয় দার্জিলিঙের দ্য হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে। সেখানে ২০১২ সাল পর্যন্ত অ্যাকাউন্টস অফিসার হিসাবে কাজের পর অবসরগ্রহণ। চাকরি পর্বে এইচএমআইতে থাকার সুবাদে বহু নামীদামী পর্বতারোহীর সংস্পর্শে আসেন। পর্বতারোহীদের কঠোর সংগ্রাম, চড়াই উৎরাই ভেঙে পাহাড় চড়া এবং সর্বোপরি  মনের জোর তাঁকে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করে। সেই মনের জোরই আজ অবসরজীবনে তাঁর কাছে বড়ো সম্বল।

আন্তর্জাতিক বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সমিতির শিলিগুড়ি শাখার সম্পাদক সজলবাবু। এখন তাঁর বয়স সত্তর বছর। ১৯৫২ সালে অসমের দরং জেলার একটি চা বাগানে তাঁর জন্ম। ছোটো থেকেই ঝোঁক জন্মেছিল পত্রপত্রিকা ও লেখালেখির প্রতি।

সজলবাবু বিশ্বাস করেন, এই বাংলার ছেলেমেয়েরা আরও এগিয়ে যাবে যদি তাঁরা নিয়মিত মনিষীদের স্মরণ করে। মনিষীদের বিভিন্ন বাণী অনুসরণ করে। সেই কারণে বিভিন্ন মনিষীর জন্মদিন, প্রয়াণ দিবস তিনি নিয়মিত পালন করে থাকেন তাঁর পেনশনের টাকাতেই। এমনকি বিশেষ বিশেষ সময়ে কোনো কোনো মনিষী স্মরণে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য পত্রিকাও প্রকাশ করেন। তা বিলি হয় ছেলেমেয়েদের মধ্যে। বেশ কিছু দিন আগে অক্ষয়কুমার দত্তের দেড়শো বছর স্মরণে পত্রিকা প্রকাশ করেন। আবার ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান দিবসে প্রতিবছরই বিশেষ পত্রিকা প্রকাশ করেন ক্ষুদিরামের জীবন স্মরণে। তাছাড়া সারা বছর ধরেই গোটা মাসের বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন মনিষীর জন্মদিন ও মৃত্যু দিবস তিনি পালন করে থাকেন নিজ উদ্যোগে। কখনও তাঁর নিজের বাড়িতে, কখনও স্থানীয় গ্রন্থাগারে সেই সব অনুষ্ঠান করে থাকেন প্রতিকৃতি টাঙিয়ে।

সজলবাবু বিশ্বাস করেন, এই বাংলার ছেলেমেয়েরা আরও এগিয়ে যাবে যদি তাঁরা নিয়মিত মনিষীদের স্মরণ করে। সেই কারণে বিভিন্ন মনিষীর জন্মদিন, প্রয়াণ দিবস তিনি নিয়মিত পালন করে থাকেন তাঁর পেনশনের টাকাতেই।

সজলবাবু বলেন, “মনিষীদের স্মরণের মাধ্যমে নতুনদের মধ্যে সুস্থ ভাব ছড়িয়ে দিতে চাই। কে কতটা গ্রহণ করছেন জানি না, কিন্তু প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।” এর বাইরে মাতৃভাষা বাংলার প্রচার ও প্রসারেও ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন সজলবাবু। সজলবাবু বলেন, “ছেলেমেয়েরা সব ভাষার চর্চা করতেই পারে। কিন্তু সবার আগে মাতৃভাষার চর্চা জরুরি। মাতৃভাষার চর্চা তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটায়।”

Developed by DXDasia