
উদযাপিত হল রসগোল্লা আবিষ্কারের ১৫০ বছর
শীতের মরসুম মানেই ভূরিভোজ। আর রসগোল্লা হলে তো কথাই নেই। এমনিতে রসে টইটম্বুর এই মিষ্টি সব ঋতুতেই সমান জনপ্রিয়। রসের রাজা বলে কথা। গত বছরই রসগোল্লা জি আই পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ‘বঙ্গ জীবনের অঙ্গ’ মিষ্টিখানি হাতে পেলে সবারই মন খুশি। তবে শীতের মাহাত্ম্যই আলাদা। তার ওপরে আবার বড়োদিন। এই সময়ে বাঙালি অন্য মেজাজে থাকে। নিতান্ত পেটরোগা মানুষও এই সুযোগে এটা ওটা চেখে দেখতে ভোলেন না। কয়েকদিন আগে এদিকে সদ্য মুক্তি পেয়েছে বড়োদিনের ছবি ‘রসগোল্লা’। এরকম আবহাওয়াতেই তিন দিন ধরে বাগবাজার পালন করল অভিনব ‘বাগবাজার ও রসগোল্লা উৎসব’। ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর।
রসগোল্লা তো বটেই, শিল্প, সংস্কৃতি, রাজনীতি, ধর্ম – নানা দিকেই বাগবাজারের সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। এবছরই বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গোৎসব পড়ল ১০০ বছরে। এটাই প্রথম কলকাতার বারোয়ারি দুর্গাপুজো। ‘রসগোল্লার কলম্বাস’ নবীন ময়রার বাড়ি এই বাগবাজারে। তাই বেছে নেওয়া হয়েছিল এই জায়গাকেই। রসগোল্লার আবিষ্কারক নবীনচন্দ্র দাসকে শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যেই গৌরীমাতা উদ্যানে আয়োজন করা হয়েছিল উৎসবের। সৌজন্যে বাগবাজার ও রসগোল্লা উৎসব একজিকিউটিভ কমিটি। “বাগবাজারের নবীনচন্দ্র দাস / রসগোল্লার কলম্বাস” – এইভাবেই নবীন ময়রাকে নিয়ে ছড়া বেঁধেছিলেন কমলকুমার মজুমদার। রবীন্দ্রনাথের পাড়া জোড়াসাঁকোতে ১৮৬৪ সালে একটি মিষ্টির দোকান খুলেছিলেন নবীনচন্দ্র। তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পরে মোটামুটি দুবছর থেকে। ততদিনে পালটে গেছে তাঁর দোকানের ঠিকানা। আরও দুবছর পর তিনি বানিয়ে ফেলেন বাঙালির প্রাণের মিষ্টি রসগোল্লা। এবছর ছিল তাঁর রসগোল্লা আবিষ্কারের ১৫০ বছর। সেই নবীনচন্দ্রের মূর্তি উদ্বোধন করেই উৎসবের সূচনা হয় ২৮ ডিসেম্বর শুক্রবার।
সমস্ত গৌরীমাতা উদ্যান জুড়ে রসগোল্লার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার বিখ্যাত মিষ্টিগুলোও ঠাঁই করে নিয়েছিল। ছিল বর্ধমানের সীতাভোগ, মিহিদানা, দিনাজপুরের দই, বহরমপুরের ছানাবড়া, কৃষ্ণনগরের সরভাজা এবং আরও অনেক রকম মিষ্টির হরেক আয়োজন। যেমন ছানার জিলিপি কিংবা মোহনভোগ। আর বিভিন্ন ধরনের রসগোল্লা তো ছিল। উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ রসগোল্লা রান্নার প্রতিযোগিতা আর রসগোল্লা নিয়ে ক্যুইজ। সংগীত জগতের দিকপালরাও তিনদিন ধরে মাতিয়ে রেখেছিলেন সাধারণ মানুষকে। ছিলেন হরিহরণ, ইন্দ্রনীল সেন, এছাড়াও ছিল চন্দ্রবিন্দু, দোহার। বাচিক শিল্পী জগন্নাথ বসু এবং ঊর্মিমালা বসুও ছিলেন উৎসবে। আড্ডা জমিয়ে রেখেছিলেন অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক, তনিমা সেন, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, মানসী সিনহা। উপস্থাপনায় ছিলেন মৈত্রেয়ী মিত্র এবং সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। উৎসব প্রাঙ্গণেই প্রকাশ করা হল রসগোল্লার আবিষ্কারক নবীনচন্দ্র দাসকে নিয়ে ডাক টিকিট। নানা ধরনের বিচিত্র মিষ্টির স্বাদ নিতে তিন দিন ধরেই উৎসবে ছিল নজরকাড়া ভিড়।
ছবি সূত্র – অরিঘ্ন মিত্র
