পাহাড়-নদী-জঙ্গলের মাঝে ঋষি খোলা

ধরা দিয়েছে প্রকৃতির আদিম সৌন্দর্য

সকাল সকাল নিউজলপাইগুড়ি পৌঁছে একটা ছোটগাড়ি ভাড়া করে রওনা দিলাম ঋষিখোলার উদ্দেশে আমি আর বান্ধবী। দুপুরের মধ্যে পৌঁছে গেলাম ঋষিখোলা নদীর উপর ব্রিজে। এখানে আগাম বলে রাখা ছিল থাকার জায়গা। কিন্তু যেখানে গাড়ি নামিয়ে দিল সেখানে কোনও ঘর-বাড়ি কিছুই দেখা যাচ্ছে না। গাড়ির চালক যা দেখালেন তাতে নেমে যেতে হবে নদীর কাছে কিন্তু রাস্তা কোথা?

ব্রিজের শেষেই একটা পুলিশ চৌকি দেখে একটু স্বস্তি পেলাম। তাঁদের কাছে ঋষিখোলা পৌঁছনোর রাস্তার কথা জানতে চাইতেই তাঁরাও দেখিয়ে দিলেন নদীর দিকে। ‘‘কিন্তু পৌঁছবেন কী করে বৃষ্টিতে তো ব্রিজ ভেসে গিয়েছে,’’ বললেন একজন পুলিশ। সব্বনাশ, তাহলে? অনেকবার ফোন করার পর যেখানে বুকিং ছিল সেখানের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেল। হোম স্টের মালিক জানালেন তিনি নেই। তবে আমাদের ব্রিজের উপর দাঁড়াতে বললেন। ব্রিজের উপরই এক ঘণ্টা কেটে গেল।

হঠাৎই পাহাড়ের ফাঁক থেকে বেড়িয়ে এল একটি ছেলে। এসে বলল ‘‘চলুন।’’ আমি বললাম, ‘‘কোথায়, কীভাবে? শুনলাম ব্রিজ ভেঙে গিয়েছে।’’ ছেলেটে শুনে বলল, ‘‘হ্যা, ওখানে পৌঁছতে হলে এই পাহাড়ের গা দিয়েই যেতে হবে। আর আপনারা না যেতে চাইলে টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে।’’ সত্যি কথা বলতে কী ব্রিজের উপর থেকে কোনও রাস্তাই দেখতে পাচ্ছিলাম না। ছেলেটি ভরসা দিল, আমরাও হাঁটা লাগালাম।

সকাল হতেই মনটা ভাল হয়ে গেল। অপূর্ব সুন্দর লাগছে পাহাড় ঘেরা খরোস্রাতা ওই নদীকে। দু’দিনের বুকিং থাকলেও একদিনেই আমরা ঋষিখোলা ভ্রমণ শেষ করার পরিকল্পনা করলাম কারণ সেখানকার পরিস্থিতি। তবে মনে মনে একটা আফশোস থেকে গেল, এত সুন্দর জায়গাটাকে ভালমতো উপভোগ করতে না পারার জন্য। ফেরার অঙ্গীকার ছিল তবে এখনও সে কথা রাখতে পারিনি।

ফেরাটা অনেক মসৃণ হল, কারণ রাস্তা সম্পর্কে আসার সময়ই স্পষ্ট ধারণা হয়ে গিয়েছিল। রোদ ওঠানে পাহাড় থেকে নেমে রাস্তা ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া ঝর্ণাদের ক্ষমতা কিছুটা কমেছে। ফেরাটা অনেক কম সময়েই হল। ব্রিজের উপর এসে আবার সেই পুলিশ চৌকির দ্বারস্থ হলাম পরের গন্তব্যের জন্য। শুনে যদিও তাঁরা একটু চমকেছিলেন। তবে তাঁদের আশা ছিল আমরা যখন পাহাড়ের আল ধরে ঋষিখোলা পৌঁছতে পেরেছিলাম তখন এটাও পারব। তাই গাড়িটা তাঁরাই ডেকে দিয়েছিলেন।  পরের গন্তব্যের গল্প অন্য কোনওদিন বলব।

Developed by DXDasia