
শৈলরানির চৌরাস্তাকে সাজিয়ে তোলার কাজ প্রায় শেষ
দার্জিলিং ম্যাল। বাঙালি পর্যটক তো বটেই, দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছেও বড়ো আকর্ষণের জায়গা এই চত্বর। পাহাড়ের মাথায় একটুকরো সমতল। কংক্রিটে বাঁধানো। সেখানে ঘুরে বেড়ায় দুধেল সাদা ঘোড়া, রং-বেরঙের শীতিপোশাক পরা মানুষ। একঝাঁক পায়রা বসে রোদ পোহায়। ম্যালের দুই ধারে আদ্যিকালের সেই বেঞ্চি। অক্সফোর্ডের দোকান। সার বেঁধে কিউরিও শপ। ফোয়ারা। ম্যাল থেকেই রাস্তা বেঁকে গেছে মহাকাল মন্দির হয়ে রাজভবনের দিকে। এ পথেই দেখা মিলবে আকাশের গায়ে টাঙানো কাঞ্চনজঙ্ঘার। মাঝে ছাউনি দেওয়া বেঞ্চির সারি। দেখলেই মনে পড়ে যায় সত্যজিৎ রায়ের ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’র দৃশ্য। ‘এ পরবাসে রবে কে’… সেই ম্যালই নতুনভাবে সেজে উঠছে ফের একবার।

এর আগে অনেকবার সংস্কার করা হয়েছে ম্যাল চত্বর। এই দার্জিলিং ম্যালের প্রেমে একসময় বুঁদ ছিল সাহেবরাও। এতবারের সংস্কারেও সেই ইতিহাসের আমেজে কোনো আঁচড় পড়েনি। এবারেও নতুনভাবে সেজে ওঠার পরে ম্যালের সেই ঐতিহ্য, আমেজের কোনো ক্ষতি হবে না বলেই জানাচ্ছে জিটিএ প্রশাসক বোর্ড। বিগত কয়েক বছরে পর্যটকদের ঢল আরো বেড়েছে দার্জিলিঙে। ম্যালেও ভিড় থিকথিকে হয়েছে। এই ম্যালকে তাই আরো চওড়া করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে জিটিএ প্রশাসন। ম্যালকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা প্রথম দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরে, গতবছর ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় কাজ।

শুধু পরিধি বাড়ানোই নয়, শুরু হয়েছে ম্যালকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার কাজও। ম্যাল-লাগোয়া আস্তাবলকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণের কাজ চলছে। ম্যালের অন্যতম আকর্ষণ ঘোড়াদের বাস এখানেই। আপাতত খানিক দূরে অস্থায়ী বাসা হয়েছে তাদের। আস্তাবলের সামনের ফোয়ারাটিরও সংস্কার চলছে। নতুন সাজ গায়ে তুলছে ম্যালের দোকানপাট থেকে শুরু করে হাওয়াঘরও। আর, এই কাজে মোট বিনিয়োগ হয়েছে ১৬ কোটি টাকা।
ম্যালকে নতুন সাজ দেওয়ার সময় যাতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। আপাতত, নতুন সাজে ঐতিহ্যের ম্যালকে দেখার অপেক্ষায় পর্যটকরা।
ছবিঃ অনিতেশ চক্রবর্তী
