
অর্জুনপুর আমরা সবাই ক্লাবের জন্য পুজোর থিম সং গাইলেন তিনি
কার ভাগ্যে কখন কী থাকবে, কেউ বলতে পারে না। সম্প্রতি একটি ঘটনা বা বলা ভালো একটি গান সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে রাণাঘাটের রানুদেবীর জীবন। এতদিন রানাঘাট স্টেশনে বসে গান গেয়েই সামান্য রোজগার হত তাঁর। কিন্তু সেই গানই যে তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তুলবে, নেটদুনিয়ায় তিনি ভাইরাল হবেন, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি পঞ্চান্ন বছর বয়সী রানু মারিয়া মণ্ডল। বহুদিন স্নান করেননি। মাথায় সাদা পাকা চুল। দীর্ঘদিনের অযত্ন তাঁর শরীরে। ইতিমধ্যেই তাঁর গানের ভিডিও দেখে ফেলেছেন কয়েক লক্ষ মানুষ।
চেনা ছক থেকে বেরিয়ে এলেন রানু। মেয়েদের ফিরে পেলেন। নতুন শাড়ি পরলেন। সবকিছুই তাঁর কাছে কল্পনাতীত ছিল। কোনোদিন গান শেখেননি। কিন্তু হিন্দি-বাংলা বিভিন্ন গান তাঁর মুখস্থ। গানে ব্যবহৃত ছোট্ট ছোট্ট নোট্স কী অনায়াসে কাজে লাগাতে পারেন তিনি। এবার দুর্গাপুজোর সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়লেন রানু মণ্ডল। আসন্ন দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে অর্জুনপুর আমরা সবাই ক্লাবের জন্য পুজোর থিম সং গাইলেন তিনি। এমন সুযোগ পেয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন রানুদেবী। ক্লাব কর্তৃপক্ষের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।
এখন তাঁর ভাঙাচোরা বাড়িতেই হাজির হচ্ছেন শ্রোতারা। তাঁকে দেখতে ভিড় জমছে। এমনকি, মুম্বইয়ের একটি টেলিভিশন চ্যানেলও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। রানু এখন খুশি। জীবনের এই পর্যায়ে পৌঁছে এতকিছু চেয়েছিলেন কিনা জানা নেই। কিন্তু একজন সামান্য ‘ভিখারিনী’কে নিয়ে মানুষের মধ্যে যে উল্লাস, সেখানে প্রমাণিত হয় মনুষ্যত্ব আজও মরেনি। ‘ভাঙাচোরা’ রানুদেবী এখন শক্তি পেয়েছেন। আগামী জীবন তিনি বাঁচার মতো বাঁচুন, এই কামনা।
