যদি নাও হও গ্রন্থকীট, মিলেমিশে দেখে যাও পুরুলিয়া লিটারারি মিট

পুরুলিয়া লিটারারি মিট ২০২৫

হর জুড়ে সাজ সাজ রব। একটার পর একটা দেওয়াল সেজে উঠছে পেইন্টিং আর পোস্টারে। এ সবই আসলে নিমন্ত্রণপত্র। বছরের শেষ মাসে গান, কবিতা আর সাহিত্যের উৎসবে মাতবে পুরুল্যে ভূমি। তুঙ্গে পুরুলিয়া লিটারারি মিট (Puruliya Literary Meet 2025)-এর প্রস্তুতি। ২০২৩ থেকে শীত এলেই পুরুলিয়া মেতে ওঠে এই সাহিত্য উৎসবে। চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বর পুরুলিয়া ডিয়ারপার্ক সংলগ্ন বনপুলক ওপেন ক্যাফের মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এক দিনের সাহিত্য উৎসব পুরুলিয়া লিটারারি মিট।

পুরুলিয়ার নবীন-প্রবীণ, শিল্প-সাহিত্যপ্রেমী মানুষরা এই আয়োজনের মূল দর্শক ও শ্রোতা। কেউ কবিতার টানে, কেউ বা কথার টানে আবার কেউ বা গানের টানে প্রতি বছর সঙ্গী হন উৎসবের।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভবান কবি শিল্পীদের বড়ো প্ল্যাটফর্ম এই উৎসব। উদ্যোক্তাদের ভাষায়, শুধুমাত্র পাগলামি আর ইচ্ছেশক্তির উপর দাঁড়িয়ে মফস্বল শহরের স্পর্ধ পুরুলিয়া লিটারারি মিট। নেপথ্যে- অতনু টিকাইৎ, মনপূরণ, সমীর, দেশনা, চৈতালী,  তুষারকান্তি মাহাতর মতো এক ঝাঁক তরুণ তরুণী। এই সাহিত্য উৎসব তাঁদেরই সম্মিলিত উদ্যোগ। পুরুলিয়া জেলায় শিল্প সাহিত্যকে কেন্দ্র করে এত বড়ো মাপের আয়োজন এই প্রথম।

সব স্তরের মানুষ জড়িয়ে আছেন এই উৎসবে। পুরুলিয়ার নবীন-প্রবীণ, শিল্প-সাহিত্যপ্রেমী মানুষরা এই আয়োজনের মূল দর্শক ও শ্রোতা। কেউ কবিতার টানে, কেউ বা কথার টানে আবার কেউ বা গানের টানে প্রতি বছর সঙ্গী হন উৎসবের। গান-গল্প-কথা-সুরের বন্ধনে মানুষের সঙ্গে জুড়ে যায় মানুষ। এই সহজিয়া ভাবটাই এই উৎসবের প্রাণ। পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও অজস্ৰ মানুষ আসেন এই সাহিত্য উৎসবে।

উৎসবে কোনও প্রবেশমূল্য থাকে না। পুরোটাই কালেক্টিভ ওয়ার্ক। সকলের তরে সকলে আমরা – সকলের ছোটো ছোটো আত্মত্যাগে প্রতিবার এই আয়োজন রক্ত মাংসের রূপ পায়। আয়োজনের আর্থিক দিকটির ক্ষেত্রেও কথাটি খাটে। মানুষে মানুষে বিভাজন থাকে না উৎসবে। সেলিব্রিটি আর সাধারণ-এর মধ্যে আমরা-ওরার ব্যারিকেড থাকে না। এই আয়োজন সবার। অনেকেই শ্রোতা বা দর্শক হিসাবে এসেও এই আয়োজনের জড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন সময়ে। তেমনই এক মুখ তন্ময় রজক। পুরুলিয়া লিটারারি মিট-এর থিম সংটি করেছেন তিনি। অতনু-চৈতালীরা এক সময় সোনাঝুরি সাহিত্য উৎসব নামে একটি সাহিত্য উৎসব করতেন। একবার সেই উৎসবে আমন্ত্রিত গায়ক ছিলেন তন্ময়। সেখান থেকেই আজ পুরুলিয়া লিটারারি মিট-এর সঙ্গে জুড়ে যাওয়া। উৎসবের মঞ্চে শব্দ-আলোর প্রযুক্তির দিকটা অনেকটাই সামলান তিনি। তাঁর কথায়, লিটারারি শব্দটার মধ্যে একটা ভার রয়েছে। কিন্তু থিম সং-এর মধ্যে সেই গুরুভার নেই। প্রথম লাইনটা তাই- সমস্যা নেই যদি নাও হও গ্রন্থকীট, মিলেমিশে দেখে যাও পুরুলিয়া লিটারারি মিট।

পুরুলিয়া বললেই চোখের সামনে যে ছবিটা ভেসে ওঠে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেকেরই মনে হতে পারে- এমন নাম কেন? বা পুরুলিয়া লিটারারি মিট নামখানাই বুঝি এ মাটিতে বেমানান। এ বিষয়ে উদ্যোক্তদের মত, ঠিক যেভাবে বেমানান চেনা মফস্বলের বুকে গড়ে ওঠা শপিংমল, মাল্টিপ্লেক্স আর ফ্ল্যাট কালচার। আসলে সময়ের অমোঘ নিয়ম- পরিবর্তন। তাই ভেসে না গিয়েও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। মানুষ যেমন প্লেটে খেতে পছন্দ করবেন সে ভাবেই তাঁরা উপস্থাপন করবেন। চেষ্টা একটাই, সাধারণ মানুষ আর এই প্রজন্মকে উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে নেওয়া।

পুরুলিয়া লিটারারি মিট- এ এবারের মঞ্চ উৎসর্গ করা হয়েছে সদ্য প্রয়াত ঝুমুর শিল্পী কুচিল মুখোপাধ্যায়ের নামে। এছাড়াও জেলার ছৌ শিল্পী সুনীতা মাহাত, পদ্মশ্রী দুখু মাঝি থাকবেন।

পুরুলিয়া লিটারারি মিট-এর দর্শকাসন আর দর্শকের মান উদ্যোক্তাদের উৎসাহ আর সাহসের বড়ো অনুঘটক। এ বছর কী কী অনুষ্ঠান হবে? কারা কারা আসবেন? পুরুলিয়া লিটারারি মিট- এ এবারের মঞ্চ উৎসর্গ করা হয়েছে সদ্য প্রয়াত ঝুমুর শিল্পী কুচিল মুখোপাধ্যায়ের নামে। উৎসবে উপস্থিত থাকবেন, কবি মন্দাক্রান্তা সেন, সাহিত্যিক কল্লোল লাহিড়ী, বিমল লামা, শিল্পী অর্ক মুখোপাধ্যায়, গৌরব চট্টোপাধ্যায়, আরাত্রিকা সিনহা। এছাড়াও জেলার ছৌ শিল্পী সুনীতা মাহাত, পদ্মশ্রী দুখু মাঝি থাকবেন, এছাড়া সারা বাংলার অনেক কবি শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন।

শীতের রাতে মুক্ত মঞ্চে গান কবিতার এই উৎসব আসলে মানুষের বেঁচে থাকার উদযাপন। রুক্ষভূমির উষর প্রান্তে দিন যাপনের যে লড়াই চলেছে প্রতিদিন তাতে আর একটু আগুন-জলের স্পর্শ লাগে। ঘরে ফেরার পথে মনে হয় এই যুদ্ধে কেউ একা নয়। বন্ধুর হাতটা ধরাই আছে হাতে। সে কবিতা হোক বা গান অথবা মানুষ…
 

Developed by DXDasia