বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্বভারতীর

ব্রেকথ্রু পুরস্কারের সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন অধ্যাপক মানস মাইতি ও তাঁর তিন সহযোগী

হিগস্ বোসন কণা বা ঈশ্বর কণা আবিষ্কারে বিভিন্ন দেশের নানা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই সারিতে উঠে এল পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। জেনেভার সিএমসি যন্ত্রে প্রত্যক্ষ গবেষণার জন্য প্রশংসিত হলো বিশ্বভারতীর পদার্থবিদ্যা বিভাগ। অধ্যাপক মানস মাইতির নেতৃত্বে স্বীকৃতি পেলেন ওই বিভাগের ড. সন্দীপ ভৌমিক, ড. তন্ময় সরকার এবং সৌম্যদীপ বর্মণ।

এবছর ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ বা সার্ন পরিচালিত লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডরের চারটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ব্রেকথ্রু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। পদার্থের আদিতম কণার সন্ধানে বিশ্বের বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের নিয়ে চলেছে ওই গবেষণা। সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় সিএমসি, অ্যাটলাস, অ্যালিস এবং এলএইচসি যন্ত্রে লাগাতার চলেছিল আদি কণা হিগস্ ধরার চেষ্টা। ২০১২ সালে সিএমসি ও অ্যাটলাস যন্ত্রে ধরা দিয়েছিল ওই কণা। ফলিত পরীক্ষায় হিগস্ কণার উণ্মেষ বসলে দিয়েছিল কণা পদার্থবিদ্যার যাবতীয় ধারণা। সার্ন পরিচালিত লার্জ হ্যাডন কোলাইডরের পরীক্ষা দীর্ঘদিন ধরে চলছে জেনেভায়। বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা সেখানে বছরের পর বছর গবেষণা করতেন। সেই গবেষণায় বিশ্বভারতীর পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক মানস মাইতি ও তাঁর তিন ছাত্রও রয়েছেন।

এবছর ‘ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ’ বা সার্ন পরিচালিত লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডরের চারটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ব্রেকথ্রু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। পদার্থের আদিতম কণার সন্ধানে বিশ্বের বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের নিয়ে চলেছে ওই গবেষণা।

সিএমসি গবেষণায় অংশগ্রহণের জন্য বিশ্বভারতীয় পদার্থবিদ্যার গবেষকদের নাম আসায় তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বভারতীর নতুন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। সিএমএস যন্ত্রের সাফল্যের পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক বিভাগে ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক ব্রেকথ্রু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে। ওই যন্ত্রের গবেষণায় অধ্যাপক মাইতি এবং তাঁর ছাত্ররা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়েছেন।

 

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৪ জুলাই সিএমএস ও অ্যাটলাস পরীক্ষা হিগস-বোসন কণা আবিষ্কার বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছিল। ওই গবেষণা কণা পদার্থবিদ্যার ধারণা যথেষ্ট মজবুত করেছে। ২০০৫ সাল থেকে অধ্যাপক মানস মাইতি যুক্ত ছিলেন। কিন্তু ২০২১ সালে, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বিশ্বভারতীর উপাচার্য পদে থাকাকালীন অনৈতিক ভাবে পদার্থবিদ্যার বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি সার্নের গবেষণা থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলেছিল। অধ্যাপক মাইতি একটুও দমে না গিয়ে, কলকাতা হাইকোর্টের কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করেন এবং জয়ী হন। নিজের সাধনায় অটল থেকে, সব বাধা পেরিয়ে এবার আরন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য পেলেন তিনি।

______________ 
ছবি সূত্র: উইকিমিডিয়া কমনস্

Developed by DXDasia